টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তদারকি নেই: চট্টগ্রামে মিটারে চলছে না অটোরিকশা

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম, ০৮ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: মিটারে অটোরিকশা চলাচল কার্যকর নিয়ে কত উৎসাহই না ছিল সিএমপির। দুই দিন মাঠে থেকে হাজারো অটোরিকশার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার মধ্য দিয়ে যেই কার্যকর হলো; সেই থেকে আর কোন খবর নেই পুলিশের। এ সুবাধে সিএনজি অটোরিকশা যে মিটারে চলাচল করছে না তার কোন তদারকিতে নেই পুলিশ।

সূত্র জানায়, কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর চট্টগ্রাম মহানগরে চলতি সনের ফেব্রুয়ারি থেকে মিটারে যাত্রী পরিবহন বাধ্যতামূলক করে সিএমপি। মিটারে যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ওইদিন নগরজুড়ে পৃথক ভ্রাম্যমাণ অভিযানও চালায় সরকারের তিন সংস্থা সিএমপি, বিআরটিএ এবং জেলা প্রশাসন।

কিন্তু এক সপ্তাহ পর থেকে আর মিটারে যাচ্ছে না অটোরিকশা চালকরা। যাত্রীরা মিটারে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও একেবারে যাবেন না বলে উল্টো কথা শুনিয়ে দিচ্ছেন তারা। অবস্থাটা এমন, চালকরাই যেন নিয়ন্ত্রণ করছেন মিটারে যাত্রী পরিবহন সংক্রান্ত্র সরকারি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের বিষয়টি। তাদের কাছে যেন জিম্মি মিটারে যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি তদারককারী প্রতিষ্ঠান নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।

সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও বলছেন, নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাদের বিদ্যমান ভাড়ার সাথে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ভাড়া পরিশোধ করতে হয় অটোরিকশা মালিকদের। মিটারে ভাড়া আদায় করে বর্ধিত এই ব্যয়ের লাগাম টানা তাদের (চালক) পক্ষেও অসম্ভব। ফলে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মিটারে ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের সাথে বাকবিতন্ডা লেগেই থাকবে।

এদিকে বিআরটিএ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে নিবন্ধনযুক্ত সিএনজি ১৩ হাজার। এসব সিএনজির গত সপ্তাহ পর্যন্ত মাত্র ৮ হাজার সিএনজি মিটার লাগানোর পর বিআরটিএ থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করেছে। এই হিসাবে বলা যায়, নগরীতে এখনো মিটারবিহীন সিএনজি রয়েছে ৫ হাজার।

সূত্র আরো জানায়, মিটারের ভাড়ার বিষয়ে ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. কামরুল আাহসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। ওই বছরের ১ নভেম্বর থেকে প্রজ্ঞাপনটি রাজধানীতে কার্যকর হয়েছে। তবে চট্টগ্রামে মিটার সংযোজন করতে না পারায় মালিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয়া হয়।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিএনজি বা পেট্রোল চালিত ফোর স্ট্রোক থ্রি হুইলার সার্ভিস নীতিমালা ২০০৭ এর অনুচ্ছেদ ঘ : সিএনজি/পেট্টোল চালিত ৪ স্ট্রোক থ্রি হুইলারের ভাড়ার হার সংশোধন করে পুন:নির্ধারণ করলো।

এই প্রজ্ঞাপন মতে, চালকদের দৈনিক জমার হার ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৯০০ টাকা দিতে হবে। যাত্রীদের প্রথম ২ কিলোমিটারে ২৫ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ভাড়ার হার ৭ দশমিক ৬৪ টাকার পরিবর্তে ১২ টাকা দিতে হবে। এছাড়া বিরতিকালের জন্য ভাড়ার হার (প্রতি মিনিটে) ১ দশমিক ৪০ টাকার পরিবর্তে ২ টাকা এবং যে কোন দূরত্বে যাত্রী পরিবহনে বাধ্যতামূলক সর্বনিম্ম ভাড়ার হার ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়েছে।

এর আগে ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যমান ভাড়ার হারটি নির্ধারিত হয়েছিল। তবে পুরোপুরিভাবে মিটারে সিএনজি চলাচল শুরু করলেও যাত্রীদের পূর্বের (২০১১) নির্ধারিত ভাড়ার সাথে সর্বনিম্ম ৬০ শতাংশ অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। একইসাথে চালকদেরকেও বিদ্যমান ভাড়ার সাথে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ভাড়া প্রদান করতে হবে।

এদিকে চট্টগ্রামে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মিটারে ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিন সংস্থা যথাক্রমে সিএমপি, বিআরটিএ এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত চালায়। অভিযানের প্রথম দিনে নগরীতে ১৪২৩টি সিএনজির বিরুদ্ধে মামলাও হয়। পরদিন ২ ফেব্রুয়ারি ২৬০টি মিটারবিহীন সিএনজির বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সেই অভিযানে ভাটা পড়ে। ফলে আবারো স্বমূর্তিতে ফিরে আসেন সিএনজি চালকরা। মিটারের বদলে মর্জি মাফিক ভাড়া আদায়ে মেতে উঠেন তারা।

ওয়াহিদুল আলম নামে এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, গতকাল শুক্রবার সকালে তিনি নগরীর বহদ্দার হাট থেকে আগ্রাবাদ মোড়ে মিটারে যেতে আগ্রহ দেখান। কিন্তু চালক মিটারে যেতে অনীহা দেখান। এক পর্যায়ে চালক অনেকটা হুমকি দিয়ে বলেন, আপনাকে নিয়ে যেতে আমি বাধ্য নই।

মিটারে ভাড়া পরিবহনের বিষয়টি কার্যকর না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের (উত্তর জোন) ইন্সপেক্টর সরোয়ার মো. পারভেজ সিটিজি টাইমসকে বলেন, মিটারবিহীন সিএনজির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবারও বেশ কয়েকটি সিএনজির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আপাতত আমরা মিটার লাগানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাচ্ছি। নিবন্ধনযুক্ত ১৩ হাজার সিএনজিতে মিটার লাগানো হয়ে গেলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মিটারে ভাড়া পরিবহনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

কি পরিমাণ সিএনজিতে মিটার লাগানো হয়েছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সিটিজি টাইমসকে বলেন, গত সপ্তাহ পর্যন্ত ১২ হাজার সিএনজি মিটার লাগানোর পরে আমাদের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়েছেন।

বিআরএটিএর এ কর্মকর্তা বলেন, সিএনজির মালিকরা অনুমোদিত ১০ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মিটার সংযোজন করছেন। সংযোজনের পর ওই মিটার ঠিক আছে কী না তা আমরা (বিআরটিএ) পরীক্ষা করে দেখে প্রত্যয়নপত্র দিচ্ছি।

মিটারে ভাড়া আদায় না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম অটোরিক্সা অটোটে¤েপা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ বলেন, নতুন নিয়ম মতে চালকদেরকে বিদ্যমান ভাড়ার অতিরিক্ত তিনশ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে মালিকদেরকে। অতিরিক্ত এ ভাড়া দিয়ে গাড়ি চালানো গরীব চালকদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমাদের দাবি, চট্টগ্রামের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন করে পূর্বের ভাড়া (চালকরা মালিককে যা দেন) বহাল রাখা হোক। তাহলেই মিটারে চলতে আমাদের কোন আপত্তি থাকবে না। অন্যথায় চালকরা অনেকটা বাধ্য হয়ে মিটারে চলতে অনীহা দেখাবেন।

মতামত