টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইজুড়ে সাপ আতঙ্ক : ৯ দিনে নিহত ২

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ০৮  অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  মিরসরাই উপজেলাজুড়ে সাপ আতংকে রয়েছে মানুষ। বিষাক্ত সাপের আনাগোনা এ বছর অনেকটাই বেড়ে গেছে। ৯ দিনের ব্যবধানে সাপের দংশনে এক শিশু ও এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ এখানকার হাসপাতালগুলো সাপে কাটার চিকিৎসা না থাকায় সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারছেনা আক্রান্তরা।

প্রায়শ উপজেলার কোথাও না কোথাও সাপে কাটার ঘটনা ঘটছে। জানা গেছে, ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকায় সাপের দংশনে মোঃ আনোয়ার হোসেন নামে এক যুবক মারা গেছেন। নিহত আনোয়ার ওই এলাকার হামিদ আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত নুরুল গনির কনিষ্ঠ পুত্র। তার স্ত্রী ও আবদুল্লাহ আল সাবিদ নামে ৯ মাস বয়সের একটি ছেলে রয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলার নাজিরপাড়া এলাকায় সাপের দংশনে আবদুল্লাহ আল নোমান নামে ৬ বছরের এক ফুটফুটে শিশু মারা গেছে। নোমান ওই এলাকার মিয়া বাড়ির ওমান প্রবাসী আব্দুল মতিনের একমাত্র ছেলে।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। সাপ আতংকে রয়েছেন মানুষ। সংবাদকর্মী শাহদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, আমার ঘর থেকে ৩টি বিষাক্ত সাপ মেরে ফেলা হয়েছে। ঘরের মধ্যে আরো আটটি সাপের খোলস পেয়েছি। এখন আমি আমার সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতংকে রয়েছি। শুধু শাহদাত নয় এভাবে ছেলে-সন্তান ও পরিবারের লোকজন নিয়ে সাপ আতংকে দিন কাটছে অনেকের।

জানা গেছে, বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার কারণে সাপগুলো তাদের আবাস্থল ছেড়ে এখন লোকালয়ে বিচরণ করছেন। পাহাড়ি সাপগুলো এখন লোকালয়ে নেমে এসেছে।

এদিকে বেশির ভাগ বিষাক্ত সাপ গ্রামে থাকলেও এখানকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিশেধক ইনজেকশন নেই। ইনজেকশন রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সাপে দংশনের পর একজন রোগীকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে পৌছাতে অনেক সময় লাগে।

উপজেলার যে কোনো জায়গা থেকে চট্টগ্রাম শহরে যেতে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা হাতে রাখতে হয়। সাপের বিষ একটি প্রাণ নিভিয়ে দিতে আধঘণ্টাই যথেষ্ঠ। অথচ মিরসরাইয়ের কোনো মানুষকে সাপে কাটলে দৌঁড়াতে হয় ৮০ কিলোমিটার দুরে।

একজনকে সাপে কেটেছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ‘এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চলে যান। এই ইনজেকশন স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতাল কিংবা ফার্মেসিতে পাবেন না। মেডিকেলই একমাত্র ভরসা।’

এই চিত্র শুধু মিরসরাইয়ে নয়। দেশের সবকটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিশেধক ইনজেকশন নেই।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিনহাজের কাছে জানতে চাইলে গুরুত্বপূর্ণ ইনজেকশনটি গ্রামে না রেখে চট্টগ্রাম শহরে কেন? উত্তরে তিনি বলেন, সাপের বিষে আক্রান্ত রোগীকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রেখে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির আওতায় আনতে হয়। ইনজেকশন পুশ করার পরে তাকে অবজারভেশনে রাখা লাগে। এই ইনজেকশন ব্যবহারে কিছু নিয়মাবলী রয়েছে। যতক্ষণ না আক্রান্তের শরীরে সাপের বিষক্রিয়া দেখা যাবেনা ততক্ষণ ইনজেকশন পুশ করা হয়না। কারণ ইনজেকশনটির পাশ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। এছাড়া বন্যা হলে তখন হাসপাতালে কিছু ইনজেকশন পাঠানো হয়। তবে সেগুলো মেয়াদ উত্তীর্ন হলে আর ব্যবহার করা যায় না।

এক চিকিৎসক বলেন, বিষাক্ত সাপের ছোবল হলে সর্বোচ্চ আধাঘণ্টার মধ্যে ইনজেকশনটি পুশ করতে হবে। নইলে বিপদ।

অথচ গ্রামে যেখানে সাপের উপদ্রব, সেখান থেকে শহরের মেডিকেলের দূরত্ব দুই ঘণ্টারও বেশি। সময়, দূরত্ব আর বিবেকের হেরফেরে তাজা জীবনগুলো এভাবেই নাশ হয়ে যায়! খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি সাপের দংশনে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এদের অনেক মৃত্যুর একেকটি সম্ভাবনার অকালপ্রয়াণ।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নয়ন কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার প্রতিশেধক ইনজেকশন রাখার বিষয়ে আগামী মিটিংয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত