টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম থেকেই শারদীয় দুর্গাপূজার সূচনা

durচট্টগ্রাম, ০৭ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সূচনা হয়েছিল অষ্টাদশ শতাব্দীতে চট্টগ্রাম থেকেই। চট্টগ্রাম নগরী থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বোয়ালখালী উপজেলার কড়ালডেঙ্গা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ে অবস্থিত মেধস মুনির আশ্রমে।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এবং আশ্রমের ইতিহাস অনুসন্ধান করে জানা যায়, বাঙালি হিন্দু সমাজের দুর্গাপূজা এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বাঙালির দুর্গোৎসবের প্রচলন শুরু হয়েছিল অষ্টাদশ শতাব্দীতে। মার্কণ্ডেয় পুরাণের অংশবিশেষ শ্রীশ্রী চণ্ডী বর্ণিত আখ্যান অনুসারে বোয়ালখালী উপজেলার মেধস মুনির আশ্রম সন্নিকটস্থ কড়ালডাঙ্গায় বেতসা নদীর তীরে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন।

এর পরবর্তী সময়ে রাজশাহীর তাহেরপুরে রাজা কংস বর্ণাঢ্য আয়োজনে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করেন এবং দুর্গাপূজা সর্বজনীন করার ব্যবস্থা করেন। এরপর থেকেই মূলত সমগ্র ভারতবর্ষে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সর্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা শুরু করে।

বোয়ালখালী উপজেলার প্রায় ৮৫ বছর বয়সী প্রবীণ উমা নারায়ণ ব্রাহ্মণ জানান, ভারতবর্ষের মধ্যে প্রথম মা দুর্গাদেবীর আরাধনা হয়েছিল এই বোয়ালখালীর কড়ালডেঙ্গা পাহাড়ে। এর পরবর্তী সময়ে কংস রাজার মাধ্যমে তা সর্বজনীন রূপ পায়। এর পরবর্তী ধাপে ধাপে মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত দুর্গাপূজার উৎসব পালন হয়ে আসছে।

চট্টগ্রামের ব্রাহ্মণ ভাগ্যধন চক্রবর্তী জানান, চট্টগ্রামের কড়ালডেঙ্গা পাহাড়ে প্রথম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির স্থাপন করেছেন মেধস মুনির নামের একজন পূজারী। এই মন্দিরে আরাধনা করতে করতেই তিনি সিদ্ধি লাভ করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি এই মন্দিরে মা দুর্গাদেবীর আরাধনার মাধ্যমে দুর্গাপূজার প্রচলন শুরু করেন।

গুরু মেধস মুনির কাছ থেকে দীক্ষা নিয়ে রাজশাহীর তাহিরপুরে কংস রাজা বিপুল অর্থ খরচ করে বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজনে সর্বজনীনভাবে দুর্গোৎসব পালন করেন।

সরেজমিন বোয়ালখালীর মেধস মুনির আশ্রম পরিদর্শনে জানা যায়, অষ্টাদশ শতাব্দীর ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরই এই মন্দিরে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ সোমবার শুভ মহালয়ার মাধ্যমে আশ্রমে মা দুর্গাদেবীর পূজার সূচনা হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শুভ দশমী পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ মেধস মুনির আশ্রমে দুর্গাপূজায় শামিল হবেন।

মতামত