টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পানি বিদ্যুৎ গ্যাস মশা এই চারে চট্টগ্রামবাসীর দুর্দশা

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম, ০৫ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): নেই মানুষের জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস। এর সাথে চলছে মশার উৎপাত। এ চারেই চলছে চট্টগ্রাম নগরবাসীর দূর্দশা। পানি, বিদ্যুৎ ও মশার যন্ত্রণার দীর্ঘদিনের হলেও নতুন করে নগরবাসীর জীবনে ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে গ্যাস।

নগরবাসীর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ লোডশেডিং এর মতো চলছে গ্যাস সঙ্কট। কওয়া নেই বলা নেই-ধুম করে চলে যায় গ্যাস। কখন আসবে তাও জানে না, কোন কোন সময় গ্যাসের অভাবে সারাদিন রান্না না করে দোকান থেকে কলা-পাউরুটি খেয়ে দিন কাটায় সাধারণ মানুষ।

শিল্প-কারখানাসহ হাসপাতাল ও সেবামুলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও নানা কাজে প্রকট হয়ে উঠেছে এ সমস্যা। গ্যাসের অভাবে গ্যাসচালিত যানবাহনও অচল হয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইয়ুব খান বলেন, বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রে গ্যাসের চাপ কম থাকায় প্রয়োজনীয় গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পুরো চট্টগ্রামজুড়ে গ্যাসের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এ সমস্যা নিরসন অসম্ভব বলে জানান তিনি।

এদিকে গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের লোডশেডিং। বিদ্যুতের অভাবে ঘরের পাখা, শিল্প কারখানা, হাসপাতাল অচল হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ২-৩ ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে বলে পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন।

তবে চট্টগ্রাম পিডিবির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মনিরুজ্জামান লোডশেডিং করার কথা অস্বীকার করে বলেন, চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়। তবে মেইনটেনেন্স জনিত কারনে হয়তো কোন কোন এলাকায় কোন কোন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। একে লোডশেডিং বলা যায় না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে চাহিদা মোতাবেক গড়ে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি ১৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৯৫০ থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। যা অতীতের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। তাই বর্তমানে চট্টগ্রামে কোন লোডশেডিং নেই।

গ্যাস ও বিদ্যুতের সাথে প্রকট আকার ধারণ করেছে পানি সমস্যাও। চট্টগ্রাম ওয়াসা সারাদিনে এক ঘন্টাও পানি সরবরাহ দিতে পারছে না। ফলে কোন কোন এলাকায় দিনের পর দিন পানির অভাবে প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার অবস্থা।

নগরীর মুরাদপুর এলাকার মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকা, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, হালিশহর হাউজিং সোসাইটি, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, খুলশি আবাসিক এলাকা, মৌসুমি আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা জানান, ওয়াসা পানি সরবরাহের অভাবে খাবার পানি কিনে খেলেও ব্যবহার্য পানির জন্য হিমশিম খাচ্ছে।

মৌসুমি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা বদরুল ইসলাম জানান, পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংঙ্কটের সাথে মারাত্মক যন্ত্রণায় আছি মশা নিয়ে। সন্ধ্যা বা রাত নামতে হচ্ছে না, দিনের বেলায় পর্যন্ত মশার উৎপাতে শান্তিতে বসা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নালা-নর্দমা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করলেও যত্রযত্র ময়লা আর্বজনা নিক্ষেপ ও ডাস্টবিনগুলো খোলা রাখার কারনে নগরীতে মশার উৎপাত অব্যাহত রয়েছে। মশার উৎপাত রোধে চসিক কোন ব্যবস্থাও নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী বলেন, মশার উৎপাত রোধে চসিক গত এক বছরে এক কোটি টাকার ঔষধ ছিটিয়েছে। এরপরও মশার উৎপাত যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। চসিকের সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পানির সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী রতন কুমার সরকার বলেন, গত ৫-৬ বছর ধরে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহ চাহিদার এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে । তার উপর এখন গরমের কারনে পানির চাহিদা যেমন বেড়েছে তেমনি বিদ্যূৎ লোডশেডিংয়ের কারনে যতটুকু সম্ভব ততটুকু পানিও সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পানির কষ্ঠ ক্রমেই বাড়ছে।

তিনি বলেন, এ সমস্যা নিরসনে হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। অন্যথায় নগরবাসীর কষ্ট লাগবের কোন সম্ভাবনা আছে বলে মনে হচ্ছে না।

মতামত