টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রামগড়ে রসালো কমলা চাষে সাফল্য; বাড়ছে জনপ্রিয়তা

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

news-picচট্টগ্রাম, ০৩ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): অম্ল মধুর টসটসে রস আর মতোয়ারা গন্ধের কারণে সব বয়সী মানুষের কাছেই কমলা একটি জনপ্রিয় ফল। এক সময় শুধু আমদানী নির্ভর এ ফলটি চাষ শুরু হয় দেশের সিলেট অঞ্চল থেকে। কিন্তু শখের বর্সবর্তী হয়ে দৈনিক ইনকিলাব রামগড় উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক রতন বৈষ্ণব ত্রিপুরা নিজ বাড়ীর আঙ্গীনায় ফলটির চাষাবাদ শুরু করেন। প্রথমে তাঁর সন্দেহ ছিলো পাহাড়ী জমিতে কমলা উৎপাদনের সফলতা নিয়ে। রামগড় পৌরসভার ১নং বল্টুরাম টিলায় এক একর পৈতৃক জমিতে সিলেট থেকে শতাদিক চারা এনে পর্যবেক্ষণমূলক কমলা চারা লাগিয়ে এখন ভাল ফলন পাচ্ছেন।

সখিন চাষি সাংবাদিক রতন বৈষ্ণব ত্রিপুরা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতায় ২০০৪ সালে পর্যবেক্ষণমূলক ৯৫ টি চারা লাগান। পরিচর্যা শেষে ৮৫ টি গাছ বড় হয় এবং গাছগুলোকে সতেজ-সবল রাখতে ব্যাপক পরিচর্যা শুরু করলে ২০১২ সালে প্রথম ফুল ও কলি দেয়। ২০১৫ সালে প্রথম বারের মত আশি^ন মাসে ফলগুলো পরিপকস্ফ হলে উত্তোলন করি। এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশ ভাল ফলন হয়েছে আর বাজারজাতও করেছেন। তিনি আরো জানান, কমলা চাষে সফতা পাওয়ায় এবার মলাটা চারা লাগাবেন। তাছাড়া তিনি স্থানিয় বাসিন্দাদের চারা লাগাতে উৎসাহিত করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাচির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শখের বশে সাংবাদিকতার পাশাপশি তিনি কমলা চাষ করছেন এটি নিশ^ন্দেহে প্রসংশনীয়। আমারা তার বাগান দেখা শুনারা পাশাপশি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছি। আলাপচারিতায় তিনি আরো বলেন, এক সময় এখানকার মানুষের ধারণা ছিল পাহাড়ে কোন ভালো ফসল হতে পারে না। তবে এখানকার আবহাওয়া-জলবায়ু ও মাটি সব কিছুই যেন প্রকৃতির সেরা দান। ভাল যতœ নিলে শুধু কমলা কেন; মালটা, আঙুর, নাসপাতি, আপেলসহ সব ধরণের ফল পাওয়া সম্ভব। তিনি জানান, উপজেলার অন্যান্য জায়গায় কৃষকরা হালকা ও স্বল্প পরিসরে অনেকেই কমলা ও মলটা চাষের দিকে ঝুকছেন।

গত ১ অক্টোবর শনিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিউট ডেভেলপ্টমেন্টের প্রকল্প পরিচালক ডক্টর মো. আজমত উল্ল্যাহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাচির উদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে বাগানটি পরিদর্শন করেন এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছিলেন।

সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় পার্বত্য জেলার কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি এবং অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা দেওয়া গেলে এসব উঁচুনিচু সবুজ শ্যামল পাহাড়ের আনাচে-কানাচে পতিত ভূমিতে বিভিন্ন ফলদ বাগান করে এলাকাবাসীকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষিবীদরা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত