টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান কলেজে বিদ্যা বাণিজ্য!

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস

eduচট্টগ্রাম, ০২ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  সিসি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই জোন, ডিজিটাল ল্যাব, অনলাইন লাইব্রেরী, ডিজিটালাইজড পাঠদান, দামি টাইলসে গড়া অফিস। সবকিছুই ভাড়া ভবনে। তাও আবার আবাসিক এলাকায়। যেখানে কলেজ ক্যাম্পাস পরিচালনার কোন অনুমতি নেই।

আর সকল নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সদর্পে বিদ্যা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের হালিশহর আবাসিক এলাকার জি-ব্লকে আট তলা ভাড়া ভবনে গড়ে তোলা ক্যামব্রিয়ান কলেজ কর্তৃপক্ষ। যেখানে ডিজিটালাইজড প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছে অভিবাবক ও শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের মতে, গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর সরকার যেখানে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে কেজি স্কুল-কলেজ, বেসরকারি সংস্থার অফিস, দোকানপাটসহ সকল বাণিজ্যক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন সেখানে চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র হালিশহর আবাসিক এলাকার জি-ব্লকে বীরদর্পে বিদ্যা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ক্যামব্রিয়ান কলেজ।

চট্টগ্রামের সচতেন মহলে এ নিয়ে রয়েছে নানা ক্ষোভ। যাদের বেশিরভাগই অভিবাবক ও শিক্ষার্থী। যারা ক্যামব্রিয়ান কলেজের নানা প্রলোভনের শিকার। তাদের মতে, ক্যামব্রিয়ান কলেজটিই যেন প্রতারণার ফাঁদ।

সামশুল হুদা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, অভিজাত্য দেখে এ কলেজে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী সঠিক পড়ালেখার অভাবে ঝড়ে পড়ছে। এ কলেজে শ্রেণী শিক্ষা তেমন হয় না। সিডি শিক্ষা হয় বেশি। এ জন্য ভর্তির সময় ল্যাপটপ বাবদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় কলেজটি। যা অর্ধেক দামে বাজারে পাওয়া যায়। আর এই ল্যাপটপে সিডি ঢুকিয়ে পড়লেখা করতে হয় শিক্ষার্থীদের।

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রসঙ্গে বলেন, শিক্ষার্থীদের কলেজে আসতে হয় বইয়ের পড়া বুঝে নিতে। সিডি দেখে বুঝতে পারলে তো কলেজে যাওয়ার প্রয়োজন হতো না। এ কারনেই তো বেসরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ভালমানের শিক্ষার্থী তৈরী হচ্ছে না। অথচ এ কলেজে প্রতিবছর পাসের হার নিয়ে কেজি স্কুলের মতো নানা প্রচারণা চালানো হয়।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান কলেজের বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা মিলে ১২৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাশ করে। তন্মধ্যে ১১৩ জন বিজ্ঞান বিভাগের। অপর ১২ জন শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা থেকে অংশগ্রহন করেন। ১২৫ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ জন। অপর ৮৫ জন এ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হন। কিন্তু অন্তরালে রয়েছে লোমহর্ষক কাহিনী।

সেটি হচ্ছে কলেজটিতে বিজ্ঞান শাখায় আসন রয়েছে ২০০ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় আসন সংখ্যা ১৫০। এরমধ্যে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ১২৫ জন শিক্ষার্থী। বাকী ২৫ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবন থেকে পিছিয়ে পড়ে এখন অন্ধকার দেখছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুব হাসান লিংকন কলেজে আসন সংখ্যার কথা স্বীকার করলেও ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীর বিষয়টি এড়িয়ে যান।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষেও ২০০ মতো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। ভর্তির সময় না থাকলেও কোন শিক্ষার্থী টিসি নিয়ে আসলে তাকে এখনো ভর্তি করাবেন বলে জানান অধ্যক্ষ মাহবুব হাসান লিংকন।

ভর্তি ফি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা হলেও ল্যাপটপসহ শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার কারনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। মাসিক ফি নেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা হিসেবে। প্রদত্ত ল্যাপটপ অর্ধেক মূল্যে পাওয়া যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিরবতা পালন করেন।

আবাসিক এলাকায় স্কুল-কলেজসহ সকল প্রকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে রকম কিছুই তো আমাদের এখনো বলা হয়নি। তবে বিষয়টি শুনেছি।

অনুমোদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমোদিত চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান কলেজ ক্যাম্পাস। ভাড়া ভবনে ক্যাম্পাসের অনুমোদন কিভাবে পাওয়া গেল জানতে চাইলে ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি মুঠোফোন বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সূত্র জানায়, আধুনিক প্রযুক্তির বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ মানব স¤পদে পরিণত করে বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি করার লক্ষ্যে লায়ন এম কে বাশার ২০০৪ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামের হালিশহর আবাসিক এলাকার জি-বøকে ৮ তলা ভাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে কলেজটি। যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম আইনের পরিপন্থি।

কলেজটি প্রথমে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনীতে ভর্তির চুক্তি হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩-৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। কিন্তু পরবর্তিতে ভর্তি ফি ও মাসিক ফি আদায়ের নিয়ম প্রবর্তন করে। শুরুতেই নানা প্রলোভনে পড়ে আসন সংখ্যার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও এবার দেড় শতাধিক আসন শূণ্য রয়েছে এখনো।

সচেতন মহলের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষ এটিকে যুক্তরাস্ট্রের ক্যামব্রিয়ান কলেজের আদলে গড়া এবং এ কলেজ থেকে স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাস্ট্রের ক্যামব্রিয়ান কলেজে ভর্তি এমনকি ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখাত। বলা হতো এ কলেজের কোন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়তে হয় না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহেদা ইসলাম বলেন, ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ বিশ্বমানের বলে প্রচার করলেও রয়েছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। ভাড়া ভবনে এ কলেজের চট্টগ্রাম ক্যাম্পাস অনুমোদন নিয়ে রয়েছে সংশয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ ক্যাম্পাসের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবাসিক এলাকায় ক্যামব্রিয়ান কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে জারতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার মনজুর হোসেন বলেন, আবাসিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে নগরীর কয়েকটি আবাসিক এলাকায় কয়েকদফা অভিযান চালানো হয়েছে। পরবর্তি অভিযানে হালিশহর আবাসিক এলাকার ক্যামব্রিয়ান কলেজের বিষয়টিও দেখা হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :  আরো প্রতিবেদন অাসছে। পাঠকরা চোখ রাখুন সিটিজি টাইমস এ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত