টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানিকছড়িতে রিডিং বর্হিভুত বিল, অতিষ্ট হাজারো বিদ্যুৎ গ্রাহক!

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি(খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ০২ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::  বছরের পর বছর মানিকছড়ির বিদ্যুৎ গ্রাহকরা রিডিং বর্হিভুত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে! প্রতি দেড় হাজার গ্রাহকের স্থলে ১জন মিটারিডার থাকার নিয়ম থাকলেও এখানে সাড়ে ৪হাজার গ্রাহকের বিপরীতে মিটারিডার মাত্র একজন! তাও আবার দীর্ঘ কয়েক বছর পদটি শুন্য ছিল। ফলে বছরের পর বছর এখানে ব্যবহার বর্হিভুত বিল পরিশোধ নিয়মে পরিণত হয়েছে! প্রতিমাসে শতশত গ্রাহকরা অতিরিক্তি বিলের অভিযোগ এনে দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও পরিত্রাণ পাচ্ছেনা তাতে।

ভোক্তভোগী গ্রাহক ও বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে মানিকছড়ি বিদ্যুৎ অফিসের আওতায় বিদ্যুৎ মিটার ছিল সাড়ে ১৩ শ। বর্তমানে তা সাড়ে ৩ হাজারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রতি দেড় হাজার মিটার রিডিং দেখার জন্য ১জন মিটারিডার প্রয়োজন। সে অনুযায়ী এখানে অন্তত ২জন মিটাররিডার প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে রয়েছে ১জন! তাও আবার দীর্ঘ কয়েক বছর পদটি শুন্য ছিল। ফলে মানিকছড়ির বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বছরের পর বছর অনুমান নির্ভর রিডিং এর বিল পরিশোধ করছে! এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে মানিকছড়ির বিদ্যুৎ অফিসের আওতাধীন গ্রাহকরা গড়ে প্রতিমাসে ২৫ লক্ষ টাকা বিল পরিশোধ করছে। আর এখানে প্রতি মাসে বরাদ্ধ ৫ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩শত ৫৬ ইউনিট। ব্যবহার হচ্ছে ৪ লক্ষ ১৫ হাজার ৭শত ১৮ ইউনিট। সিষ্টেম লস হচ্ছে গড়ে ১৬%। নিয়মিত গ্রাহকদের মিটার সরজমিনে পরিদর্শন না করে অনুমান নির্ভর বিল প্রস্তুতের কারণে এখানকার গ্রাহকরা প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা রিডিং বর্হিভুত বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে! এ নিয়ে প্রতিমাসে শতশত গ্রাহক বিলের কপি নিয়ে অফিসে গিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে সম্প্রতি এখানকার গ্রাহক সমাজ ফুঁসে উঠেছে! বর্তমানে গ্রাহকদের বাসা-বাড়ী, অফিস-আদালত এবং ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত মিটার পরিদর্শণ করে প্রকৃত রিডিং নেওয়ার জন্য অফিসে মিটারিডার রয়েছে মাত্র ১জন! তাও আবার কোন গ্রাহক গত ২ বছরেও মিটারিডারকে সরজমিনে রিডিং সংগ্রহ করতে দেখেনি! এটি আজব কথা মনে হলেও বাস্তবে সত্য। এ প্রসঙ্গে বাঞ্চারামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেন বলেন, আমার ডিজিটাল মিটারের প্রকৃত রিডিং থেকে আমি ১ হাজার ইউনিট বেশি বিল (ব্যবহার বর্হিভুত) পরিশোধ করেছি! উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, আমি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন বসবাস করছি, অথচ কোন দিন আমার বাসায় গিয়ে মিটারিডার প্রকৃত রিডিং সংগ্রহ করতে দেখি নাই! অফিস বসে মনগড়াভাবে বিল প্রস্তুত করছে। এসব অপকর্ম এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে! সম্প্রতি অবসর প্রাপ্ত চিকিৎসক মো.নুরুল ইসলাম বলেন, আমার বাসাবাড়ীতে মিটারিডার না গিয়েই বিল প্রস্তুত করায় কারণে প্রায় ৫শ ইউনিট বেশি বিল আমি পরিশোধ করতে হয়েছে। অভিযোগ করার পর এখন প্রতিমাসে ব্যবহৃত ইউনিট কমিয়ে সমন্বয় করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সরজমিনে আরো জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এখানে মিটারিডার না থাকায় বিদ্যুৎ অফিস গড় ফরতাভাবে বিল প্রস্তুতের কারণে এখানকার হাজার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই অহেতুক ব্যবহার বর্হির্ভত বিল দিতে হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসের ধারাবাহিক অনিয়ম ও অপকর্মের প্রতিবাদে সম্প্রতি মানিকছড়ির বাজার ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করে এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। সমাবেশে আগত সহ¯্রাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে ৯০% ব্যবসায়ী দাবী করছেন মিটারের প্রকৃত রিডিং এর চেয়ে শত শত রিডিং বেশি বিল পরিশোধ করছে তারা। বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার যুথিকা সরকার এ প্রতিনিধিকে বলেন, উপজেলা পরিষদের অফিস, বাসা-বাড়ীগুলোতে রিডিং বর্হিভুত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে! কিছুতেই এসব অনিয়ম রোধ হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে বার বার বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করলেও আশানুরুপ উন্নতি হয়নি। বিদ্যুৎ অফিসের মিটারিডার মো. আকবর আলী বলেন, আমি শারিরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তাই ১জন খন্ডকালীন লোক নিয়ে পর্যায়ক্রমে মিটার রিডিং সংগ্রহ পূর্বক গ্রাহকদের বিল সমন্বয় করছি। আশা করছি অচিরেই মিটারের সাথে বিলের সমন্বয় হয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মানিকছড়ির আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন রিডিং বর্হিভুত বিলের বিষয়টির আংশিক স্বীকার করে নয়া দিগন্তকে বলেন, দীর্ঘ দিন এখানে মিটারিডার পদটি শুন্য ছিল। ফলে খন্ডকালীন জনবল দ্বারা কাজ করতে হয়েছে। এতে কিছু গ্রাহকের ব্যবহৃত রিডিং এর সাথে সামান্য গরমিলের অভিযোগ এসেছে। বর্তমানে মিডারিডার কর্মস্থলে আছে । এখন সরজমিনে গিয়ে রিডিং দেখে বিল করা হচ্ছে। আশা করছি অচিরেই রিডিং সমন্বয় হয়ে যাবে। কেউই ক্ষতিগ্রস্থ হবে না।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত