টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সুফল পাচ্ছে রাউজানবাসী

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

raozanচট্টগ্রাম, ০১ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় মৈত্রী মেটাল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সিলিন্ডারে অগ্নিকান্ডে ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মুন্সির ঘাটা বটতল এলাকায় এই অগ্নিকান্ডে ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। ওই প্রতিষ্ঠানের আশপাশে শতাধিক প্রতিষ্ঠানসহ আবাসিক বসতঘর এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের কবল থেকে রক্ষা পায়। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে অগ্নিকান্ড সংগঠিত হওয়ার সাথে সাথে রাউজান ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দুটি গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। গ্যাস সিলিন্ডারের আগুন মুহুর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এই অগ্নিকান্ডে ঘটনাটি দিনে সংগঠিত হওয়ায় সেখানে শত শত উৎসুক জনতা ভীড় জমান। এসময় আব্দুল মাজিদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘যদি রাউজানে কোন ফায়ার সার্ভিস না থাকতো তাহলে অগ্নিকবলিত প্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের আরো শতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যেত।

এছাড়াও গ্যাস সিলিন্ডারটি বিষ্ফোরণ হলে প্রাণ হানির ঘটনাও ঘটতো।’ মৈত্রী মেটাল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের স্বত্বাধিকারী সুকুমার বড়ুয়া বলেন, ‘ আমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় হঠাৎ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ড সংগঠিত হওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করলে মুহুর্তের মধ্যে তারা ছুটে আসেন। যদি রাউজানে ফায়ার সার্ভিস না থাকতো হাটহাজারী থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আসতে অনেক সময় লাগতো। হাটহাজারী থেকে রাউজান আসতে আসতে আগুনে আমার প্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের আবাসিক বসতঘরসহ পুড়ে ছাই হয়ে যেত। রাউজানে ফায়ার সার্ভিস নির্মাণ করায় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।’ জানা গেছে গত সপ্তাহেও দুটি উপজেলা সদরে দুটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। একটি রাউজান থানার সামনে। অপরটি মুন্সির ঘাটায়। এই দুটি অগ্নিকান্ডের ঘটনায়ও আগুন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে ফায়ার সার্ভিসটি। শুধুমাত্র এগুলো নয়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটছে ছোট-বড় অগ্নিকান্ডের ঘটনা। তবে যখন অগ্নিকান্ডে ঘটনা সংগঠিত হয় তখন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ছুটে যান। এসব ঘটনায় কিছু ক্ষতি হলেও উদ্ধার ও রক্ষা পায় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান কিংবা বসতঘর।

রাউজান ফায়ার সার্ভিসের দক্ষ ড্রাইভার মো.সুজন বলেন, এখানে অগ্নিকান্ডে ঘটনা সংগঠিত হওয়া মাত্র আমরা ছুটে যায়। ক্ষতির পরিমাণ কম হওয়ার জন্য আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশপাশি উদ্ধার তৎপরতা চালায় কর্মীরা। জানা গেছে, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিথ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির একক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে ২৯ লাখ টাকায় জমি ক্রয় করে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতায় রাউজান ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ভবন নির্মাণ করা হয়। এ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে বর্তমানে ২০-২৫ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী কর্মরত রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে রাউজান ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ মগবুল হোসেন আমাদের রাউজান প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমানকে বলেন, ‘অগ্নিকান্ডের ঘটনা সংগঠিত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্র ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ছুটে যান। গত সপ্তাহে উপজেলা সদরে দুটি অগ্নিকান্ডের ঘটনাসহ গতকাল শনিবার মৈত্রী মেটাল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপে সিলিন্ডারে অগ্নিকান্ডসহ তিনটি ঘটনায় তেমন ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। এসব ঘটনায় এলাকার মানুষের সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।’

উল্লেখ্য যে, গত ২০১৩ সালে ১৫ নভেম্বর রাউজান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। রাউজান ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু হয় গত ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর। এর পর থেকে সেবা দিয়ে আসছে এই ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনটি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত