টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

২০১৮ সালের আগে লোডশেডিংমুক্ত হচ্ছে না চট্টগ্রামবাসী!

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক 

চট্টগ্রাম, ০১ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  ২০১৮ সালের আগে কোনভাবেই লোডশেডিং মুক্ত হচ্ছে না চট্টগ্রামবাসী। তাও যদি পিডিবির কথা সত্যি হয়। পিডিবি বলছে, চট্টগ্রামকে লোডশেডিং মুক্ত করতে চট্টগ্রাম মহানগরে ১১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ শুরু করেছে।

আর এই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রয়েছে নগরীর সব এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন পরিবর্তন, সাব-স্টেশন স্থাপন এবং সাব-স্টেশন আপ-গ্রেডেশনের কাজ। যা শেষ হবে ২০১৮ সালের শেষের দিকে। এ কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ সম্ভব হবে। লোডশেডিং আর থাকবে না।

পিডিবির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বিতরণ) আমিনুর রহমান এ প্রসঙ্গে সিটিজি টাইমসকে বলেন, চট্টগ্রামে আসলে বিদ্যুতের কোন লোডশেডিং নেই। জরাজীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ সঞ্চালন লাইন, ট্রান্সফরমারের ধারণক্ষমতার অভাবের কারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে নগরীর সব এলাকায় লোডশেডিং এর মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

আর এ সমস্যা নিরসনে নগরীতে নতুন ২২টি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হবে। এরমধ্যে ছয়টি পিডিবির নিজস্ব জায়গায় স্থাাপন করা হবে। অবশিষ্ট ১৪টি সাব-স্টেশন স্থাাপনের জন্য মাদামবিবিরহাট, এফআইডিসি, কাট্টলি, অনন্যা আবাসিক, রহমতগঞ্জ, মনসুরাবাদ, বাংলাবাজার, মইজ্জারটেক, কল্পলোক ও রামুতে জায়গা নিয়েছে পিডিবি। এছাড়া চারটি সাব-স্টেশন আপ গ্রেডেশন ও চারটি মেরামত করা হবে। এগুলো হচ্ছে হাটহাজারী, পিসারাবাদ, বাকলিয়া, চশরিয়া, বাড়বকুন্ড, ফৌজদারহাট, খুলশী ও বার আউলিয়া সাব-স্টেশন।

আর এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাব-স্টেশনের জন্য যন্ত্রপাতি ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি। চলতি বছরের জুন থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে চিটাগং জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট। ২০১৮ সালের শেষের দিকে এ কাজ শেষ হবে।

পিডিবি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে বর্তমানে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। সরকারি ছয়টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ১ হাজার মেগাওয়াট ও বেসরকারি পর্যায়ে সাতটি উৎপাদন কেন্দ্রে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। চট্টগ্রামের গড় চাহিদা ৯০০-৯৫০ মেগাওয়াট। সে হিসেবে ৫০০-৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উদ্ধৃত্ত। কিন্তু বিতরণ ব্যবস্থায় ত্রুটির কারনে উৎপাদীত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা যেন পিছু ছাড়ছে না চট্টগ্রামবাসীর। ২০০২ থেকে কম-বেশি প্রতিদিনই বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় ভোগছে গ্রাহকরা। গত কয়েকবছর ধরে ঘাটতি না থাকলেও ত্রুটিপূর্ণ সঞ্চালন লাইন ও ওভারলোড ট্রান্সফরমারের কারনে চট্টগ্রামের ৮০ ভাগ এলাকায় এখনো দিনে ৭-৮ বার বিদ্যুৎ আসছে আর যাচ্ছে। আরও হতাশার কথা হচ্ছে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ যন্ত্রণা সইতে হবে চট্টগ্রামবাসীকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিটাগং জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুল মোত্তালিব বলেন, একটি ট্রান্সফরমারের আওতায় আগে ১০০ পরিবারে বিদ্যুত বিতরণ করা হতো। সেখানে গত তিন দশকে বিদ্যুৎ গ্রাহক বেড়েছে তিন-চারগুণ। কিন্তু বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। এছাড়া গ্রাহক বৃদ্ধির সাথে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ট্রান্সফরমার ওভারলোডেড হয়ে বিকল হয়ে যাচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকা ২-৩ দিন পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পে সঞ্চালন লাইনের বর্তমান আন্ডারসাইজ তারের পরিবর্তে উন্নতমানের তার ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে এখনকার চেয়ে অতিরিক্ত ৫৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরিবহন করা সম্ভব হবে। এর ফলে অতিরিক্ত চাপের ফলে সঞ্চালন লাইন বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবেনা বরং আগামী কয়েক দশক বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও এ লাইন বিদ্যুৎ সঞ্চালন করতে পারবে।

এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১ হাজার ৫০০ ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার স্থাপন করবে পিডিবি। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের আর কোন সমস্যা থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন প্রকৌশলী মো. আবদুল মোত্তালিব।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত