টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টেকনাফ মাদক অফিস কার্যক্রমহীন হয়ে পড়েছে

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  টেকনাফের মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিস দিন দিন কার্যক্রমহীন হয়ে পড়েছে। ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিদিরাম সর্দার টেকনাফ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিস। এমন মুখরোচক আলোচনা চলছে টেকনাফের সর্বত্রই।

সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিসের দায়িত্ব হচ্ছে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা। সারা বাংলাদেশে এই দপ্তরের অসংখ্য অফিস ও লোকবল রয়েছে। যেখানে মাদক সেখানে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের টিম উপস্থিত হয়ে মাদক আটক করছে। এছাড়া রয়েছে যেখানে মাদক দ্রব্যের বিস্তার বেশি সেখানে উক্ত দপ্তর স্পেশাল টীম গঠন করে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। লোক সংখ্যা বৃদ্ধির কারনে মাদকের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় দেশের অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহিনীকে তাদেরকে সহযোগীতা করার জন্য ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। অথচ মুল আইনের রক্ষক হচ্ছে বাংলাদেশ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর। দেশের অপরাধ প্রবনতা বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি চলছে মাধকাসক্তের সংখ্যা ও মাদকের ব্যবহার। সাথে বাড়ছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। এদেরকে নিয়ন্ত্রন করার মত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের লোকজনের কাছে কোন অস্ত্র নেই। যান বাহনের অপ্রতুল্যতার কারণে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করতে গেলে হিমশিম খেতে হয়। এছাড়া রয়েছে লোকবলের মারাত্মক সংকট। বর্তমানে তাদের অন্যান্য আইন প্রযোগকারী সংস্থা কর্তৃক আটককৃত মাদক দ্রব্য জমা নেওয়া ছাড়া আর কোন কাজ নেই। এতেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক আটককৃত মালামাল জমা রাখলেও নিজস্ব কার্যালয় থেকে চুরি হয়ে যায়। যা লোকজন এর নাম দিয়েছে পুকুর চুরি। কক্সবাজার জেলায় মাদকের বিস্তার সব চেয়ে বেশি হচ্ছে দুটো উপজেলা একটি হচ্ছে রামু অপরটি হচ্ছে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ। দীর্ঘ দিন পর্যন্ত রামু উপজেলার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস সার্কেল অফিস হিসেবে টেকনাফে অফিস না থাকায় ঐখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করত। ২০১৪ সালে টেকনাফে মাদকের বিস্তার অর্থাৎ ইয়াবা ট্যাবলেট ব্যাপক আকারে বেড়ে যাওয়ায় উক্ত দপ্তরের উর্ধ্বতনের নির্দেশে টেকনাফে নিজস্ব অফিস স্থাপিত হয়। অফিস স্থাপিত হওয়ার পর উক্ত অফিসের লোকজন কিছু কিছু অভিযান চালিয়ে লোকজনের প্রসংশা কুড়ালেও সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত অফিসে বড় আকারে ইয়াবা চুরি হয়ে যাওয়ায় উক্ত প্রসংশা বালিতে পরিনত হয়। এর পর হতে উক্ত অফিস আলোর মুখ দেখাতে পারছেনা। এবিষয়ে টেকনাফ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের অফিস ইনচার্জ তপন কান্তি শর্মা সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, টেকনাফ অফিসে ৯ জন লোক থাকার কথা রয়েছে। তৎস্থলে রয়েছে ৩ জন, এর মধ্যেও একজনের পদোউন্নতি হওয়ায় চলে গেছে। বর্তমানে আমি এবং একজন অফিস সহায়ক রয়েছে। এছাড়া নেই কোন যানবাহনের ব্যবস্থা। যদি কোন অভিযান পরিচালনা করতে হয় কক্সবাজার জেলা অফিস থেকে গাড়ী নিয়ে এসে অভিযান করতে হয়। বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। অথচ আমাদের হাতে কোন অস্ত্র নেই। অভিযানের আগে থানায় খবর দিয়ে পুলিশ আনতে হয়। যার ফলে অভিযান আপাতত বন্ধ রয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত