টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘একমাত্র সন্তানের মুখ দেখার আগেই না ফেরার দেশে বাদশা’

আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মিরসরাইয়ের যুবক নিহত

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

mirsaraiচট্টগ্রাম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::   আগামী মাসের ২৫ অক্টোর ছুটিতে দেশে আসার কথা ছিলো বাদশার। দেশে এসেই প্রথমবারের মত একমাত্র কন্যা সন্তানের মুখ দেখবেন। কিন্তু বিধিবাম দেখা হবেনা মেয়ের মুখ। দেশে আসবেন তবে লাশ হয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আলী আকবর বাদশা (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায়। বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে সতাটায় (বাংলাদেশ সময়)আল-লোগান সড়কের ২৪ নম্বর ইউর্টানে নিজের প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

তার বাড়ি মিরসরাই সদরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড তারাকাটিয়া গ্রামে। নিহত বাদশাহ ওই এলাকার মরহুম মাহমুদুল হকের দ্বিতীয় ছেলে। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার বড়ভাই আলআইন প্রবাসী নজরুল ইসলাম।

নজরুল ইসলাম জানান, আলআইনে ভাড়ায় প্রাইভেট কার চালাতো ও ক্ষুদ্র ব্যবসা করতো তার ভাই। নিহত বাদশার মরদেহ ওখানকার স্থানীয় একটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হবে।

এদিকে বাদশার মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনের অকাল মৃত্যুর খবরে চলছে শোকের মাতম। মা আনোয়ারা বেগম সিঁড়িতে বসে প্রিয় সন্তান হারানোর বেদনায় বিলাপ করছেন। স্ত্রী সাবরিনা সুলতানা ৭ মাসের একমাত্র কন্যা সন্তান আলিয়া তাবাচ্ছুমকে বুকে আগলে স্বামীর মৃত্যুতে নির্বাক হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, মাত্র দেড়বছর পূর্বে আলআইন থেকে দেশে ফিরে বাদশাহ বিয়ে করেন মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের চুনিমিঝির টেক এলাকার ফজলুল করিমের মেয়ে সাবরিনাকে। সাত মাস পুর্বে তাদের কোলজুড়ে আসে একমাত্র কন্যা সন্তান তাবাচ্ছুম। মেয়ের জন্মের পর বাদশাহ দেশে আসেননি। পরিবারকে জানিয়েছেন আগামী আগামী ২৫ অক্টোবর তিনি ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। শেষতক দেখা হলোনা একমাত্র কন্যা সন্তান তাবা”চ্ছুমের মুখ। নিহত বাদশার ছোটভাই মোমিনুল হক জানান, দুর্ঘটনার মাত্র দেড় ঘন্টা আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিলো বাদাশার। মাকে বলছিলো নিজেদের জমি থেকে কিছু সবজি পাঠাতে। ছেলের কথামতো মা জমি থেকে সবজি সংগ্রহ করে পেকেট করছিলেন। কারণ ওইদিন বিকেলে বড়ভাই নজরুল ইসলাম আলআইন চলে যাওয়ার কথা। প্রতিবেশি তোফাজ্জল হোসেন জানান, আনোয়ার বেগমের সাত সন্তান। তার মধ্যে ৫ জন ছেলে, দুইজন মেয়ে। বড় সন্তান সন্তান নাছির হোসাইন ১৯৮৭ সালে সীতাকুন্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মেজো ছেলে গিয়াস উদ্দিন মারা যান বাড়ির পুকুরে ডুবে। সর্বশেষ বাদশা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলো।

মতামত