টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজসহ স্পটে স্পটে নিষেধাজ্ঞা, হতাশ পর্যটকরা

রাঙামাটি প্রতিনিধি

imageচট্টগ্রাম, ২৮  সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: : পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে বছরের এই সময়টি থেকে শুরু হয় ব্যাপক হারে পর্যটক সমাগম। অথচ হ্রদ পাহাড়ের জেলা রাঙামাটির প্রতি আগ্রহ কমে আসছে পর্যটকদের। যুগের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে রাঙামাটি পেরে উঠছে না পাশের দুই জেলা বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে। তার মধ্যে এই ভরা মৌসুমেও রাঙামাটিতে নেই আশানুরূপ পর্যটকের আগমন। পার্বত্য রাঙামাটি এখন অনেক শান্ত ও স্থিতিশীল। তাই পর্যটন মৌসুমে প্রতিবছরই পর্যটকদের সরব উপস্থিতি থাকে লেক পাহাড়ের এ শহরে।

জানা গেছে, প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আগমনে পর্যটন স্পটগুলো মুখরিত থাকলেও বর্তমানে রাঙামাটিতে স্বতস্ফূর্তভাবে আগত পর্যটকগণ চরম হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। নানাবিদ সমস্যার সঙ্গে অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু পানির নীচে ডুবে থাকাসহ ঐতিহ্যবাহী রাজবন বিহারে পর্যটকদের আগমনে সংশ্লিষ্ট্য কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞাসহ ভান্ডারী পাহাড়ে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞায় এবার রাঙামাটি জেলায় আগত পর্যটকরা এখানে অনেক আগ্রহ নিয়ে আসলেও ফিরে যাচ্ছে হতাশ হয়ে। পর্যটক আগমন অনেকটা-ই কমে গেছে এবছর।

ফলে হোটেল মোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা এখন গুনছে লোকসান। এমনকি এর প্রভাব পড়েছে টুরিস্টের সাথে জড়িত নৌযান ব্যবসায়। বেকার সময় পার করছে হরেক ব্যবসার সাথে জড়িত শত-শত জনবল।

পাহাড়ের বৈচিত্রময় নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠী ও তাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের জন্য রাঙামাটি শহর দেশি বিদেশি পর্যটকদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিসংখ্যান বলে প্রতিবছরই কমছে রাঙামাটিতে পর্যটকদের সংখ্যা। তার মধ্যে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা একেবারে তলানিতে। পর্যটন শহর রাঙামাটিকে ঘিরে বিভিন্ন সময় নানাবিধ সমস্যা তৈরি হওয়ায় পর্যটক কমছে বলে ধারনা স্থানীয়দের। এখানকার যানবাহন ব্যবস্থা একেবারে নাজুক। স্থানীয় মালিক সমিতির দৌরাত্বের কারণে আধুনিক বিলাস বহুল যানবাহনের সংখ্যা একেবারে হাতেগোনা। তবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম রুটে যে যানবাহনগুলো চলাচল করে সেগুলো নিয়ে যাত্রীদের নানান অভিযোগ রয়েছে। মান্ধাত্বার আমলে যানবাহন দিয়ে এ রুটে চলছে যাত্রী সেবা। প্রায় দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া এসব যানবাহনগুলোর ফিটনেস নিয়েও অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাছাড়া, শহরে সিএনজি চালিত ভাড়া নিয়েও আপত্তি পর্যটকদের।

বেশির ভাগ পর্যটন জানান, এখানকার অভ্যন্তরীন সিএনজি ভাড়াটা বেশি। চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটি আসতে যে পরিমান ভাড়া দিতে হতে হয়, মাত্র দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরতে সে তুলনায় দ্বিগুনের বেশি ভাড়া প্রদান করতে হয়।

সূদুর বগুড়া থেকে পর্যটক দম্পতির আক্ষেপ, রাঙামাটিতে এসে লাভ কি? ঝুলন্ত সেতু পানির নীচে, নেই শিশু পার্ক, টুরিস্ট স্পটগুলো যেমন তেমন, সিএনজির ভাড়া আকাশচুম্বি, হোটেলগুলোর মান ভাল না। সন্ধ্যার পর বিনোদনবিহীন শহর। যানবাহনে যে সার্ভিস, ভয়ে বুক কাঁপে। এই পর্যটকের মতই হিসাব-নিকাশ করতে গিয়ে হ্রদ পাহাড়ের জেলা রাঙামাটির প্রতি আগ্রহ কমে আসছে পর্যটকদের। শহরে কিছু কিছু ভাল হোটেল, রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠলেও বেশিরভাগ হোটেল রেস্টুরেন্টের মান এখনো সেকেলে। হোটেলগুলোকে ঘিরে গত কয়েকবছরে পর্যটকদের সাথে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি হওয়ায় কমছে পর্যটকদের সংখ্যা। তাছাড়া পর্যটন এলাকায় কয়েকটি হত্যাকান্ড ভীতি ও নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে পর্যটকদের মধ্যে। প্রতিবছর বিশ্ব পর্যটন দিবসে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো পর্যটন উন্নয়নে নানা উদ্যোগের কথা বলে আসলেও তার বাস্তবায়নের ছিটেফোঁটাও লক্ষ্য করা যায়নি। বিভিন্ন স্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে পর্যটকদের আগমন আশানুরূপ ঘটেনি। রাঙামাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুটি পানির নীচে ডুবন্ত অবস্থায় থাকাসহ ঐতিহ্যবাহি রাজবন বিহার এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় রাঙামাটিতে আগত হাজারো পর্যটক প্রতিদিনই হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে অন্যত্র। এদিকে পর্যটকরা ফিরে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে এখানকার ব্যবসায়িরা। প্রতিদিনই সংশ্লিষ্ট্যদের এই ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

সংশ্লিষ্ট্য ব্যবসায়িদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরেই রাঙামাটির ব্রান্ড ঝুলন্ত সেতুটি কাপ্তাই হ্রদের অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারনে ডুবে যায়। এই সমস্যার কারনে এখানে আসা পর্যটকগণ সেতুতে উঠতে পারেনা এবং এর সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারে না। পর্যটকরা এখানে না আসার কারনে পর্যটক ঘাটে নিয়োজিত থাকা অন্তত শতাধিক দেশীয় ইঞ্জিন বোট চালক বেকার হয়ে পড়েছে।

এদিকে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি না কমানোয় এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন কর্তৃপক্ষ।

রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশন এর ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, ঝুলন্ত সেতুটি দেখতে প্রতিদিনই হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে পর্যটন এলাকায়। এ থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্বও আয় হয়। কিন্তু বিগত এক সপ্তাহ থেকে অদ্যবধি ঝুলন্ত সেতু পানির নীচে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। তাই বর্তমানে পর্যটকদের আগমন একদম কমে গেছে, মোটেলেও বুকিং নেই, এখানের ব্যবসায়ীরাও বর্তমানে এক্কেবারে বেকার সময় কাটাচ্ছে।

তিনি জানান, আমরা উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে পানি কমানোর বিষয়টি লিখিত আকারে জানিয়েছি। এছাড়াও ঝুলন্ত সেতুটি সংস্কার করে আরো একটু উপরের দিকে কিভাবে স্থাপন করা যায় সে ব্যাপারেও উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

রাঙামাটি শহরের অন্যতম আবাসিক হোটেল প্রিন্স এর স্বত্তাধিকারী ও আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির নেতা নেসার উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে আমাদের রাঙামাটিতে আশানুরূপ পর্যটকের আগমন ঘটেনি। এই সময়ে কিছু কিছু পর্যটকের আগমন ঘটলেও রাঙামাটির ব্রান্ড ঝুলন্ত সেতু পানির নীচে ডুবে থাকাসহ রাজবন বিহার এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় পর্যটকরা হতাশ হয়ে এখানে থাকার আগ্রহ হারিয়ে দিনে এসে দিনেই চলে যাচ্ছে। এতে করে বিপুল অংকের ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এই সময় সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি ছেড়ে দিয়ে ঝুলন্ত সেতুটি সংস্কার করার দাবিও জানিয়েছেন।

মতামত