টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে সম্ভাবনাময় ৯ পর্যটন স্পট সংরক্ষণে উদ্যোগ নেই: রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

1চট্টগ্রাম, ২৭  সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: সৌন্দয্যের লীলাভূমি খ্যাত চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সম্ভাবনাময় ৯টি পর্যটন স্পট সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই। ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, মিরসরাইয়ে ৯টি নয়াভিরাম পর্যটন স্পট রয়েছে। প্রত্যেক বছর পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে পর্যটন স্পটগুলো। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ছুটে আসেন সময় এখানে। পর্যটন স্পটগুলো হলো: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া ইকো পার্ক, আট স্তর বিশিষ্ট খৈয়াছরা জলপ্রপাত, নয়দুয়ারিয়া নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, করেরহাট ডাকবাংলো, দেশের ৬ষ্ঠ সেচ প্রকল্প মুহুরী প্রজেক্ট, ওয়াহেদপুর বাওয়াছরা প্রকল্প, হরিনাকুন্ড ঝর্ণা, দক্ষিণ ওয়াহেদপুর রূপসী ঝর্ণা ও উপকূলীয় বেষ্টনী।

এসব পর্যটন স্পটে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক এসে থাকে। এছাড়া প্রত্যেক বছর দুটি ঈদে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে গিয়ে থাকে। ফলে পর্যটকে মুখরিত থাকে পর্যটন স্পটগুলো। মহামায়া ছাড়া অন্য ৮টি পর্যটন স্পট সংরক্ষণে কোন উদ্যোগ নেই। নেই ভালো যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পর্যটন কেন্দ্রগুলো সংরক্ষণ ও আধুনিকায়ন করে ইজারা দেয়া হলে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

2খৈয়াছড়া ঝর্ণা
প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে দেশের ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ। অনেকে রাতের বেলায় চাঁদের আলোয় ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাহাড়ের পাদদেশে তাবু টাঙ্গিয়ে অবস্থান করছে। প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি সেতুবন্ধন করে, সবুজের চাদরে ঢাকা বনানী রূপের আগুন ঝরায়, যেখানে প্রকৃতি খেলা করে আপন মনে, ঝুম ঝুম শব্দে বয়ে চলা ঝরনাধারায় গা ভিজিয়ে মানুষ যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ থেকে নিজেকে ধুয়ে সজীব করে তুলছে খৈয়াছরা ঝরনায়। গ্রামের সবুজ শ্যামল আঁকা বাঁকা মেঠো পথ পেরিয়ে শরীরটা একটু হলেও ভিজিয়ে নেয়া যায় নিঃসন্দেহে। আট স্তরের ঝরনা দেখতে দেশি বিদেশি পর্যটকের ভিড় পড়েছে। দেশের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক ঝরনাটি দেখতে প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছে হাজার হাজার দেশি বিদেশি পর্যটক।

মুহুরী প্রজেক্ট
প্রকৃতির আরেক নাম মুহুরী। যেখানে আছে আলো-আঁধারির খেলা। আছে জীবন-জীবিকার নানা চিত্র। মুহুরীর চর, যেন মিরসরাইয়ের ভেতর আরেক মিরসরাই। অন্তহীন চরে ছোট ছোট প্রকল্প। এপারে মিরসরাই, ওপারে সোনাগাজী। ৪০ দরজার রেগুলেটরের শোঁ শোঁ আওয়াজ শোনা যায় দূর থেকে। পশ্চিমে মৎস্য আহরণের খেলা, আর পূর্বে মন কাড়ানিয়া প্রকৃতি। নুয়ে পড়া মনোবল জেগে উঠবে পূবের জেগে ওঠা চরে। ডিঙি নৌকায় ভর করে কিছুদূর যেতেই দেখা মিলবে সাদা সাদা বক। এখানে ভিড় করে সুদূরের বিদেশী পাখি, অতিথি পাখি বলেই অত্যধিক পরিচিত এরা। চিকচিকে বালিতে জল আর রোদের খেলা চলে সারাক্ষণ। সামনে পেছনে, ডানে-বামে কেবল সৌন্দর্য আর সুন্দরের ছড়াছড়ি। এ অবস্থায় মন আঁধারে ঢেকে যেতে পারে, যদি ক্যামেরা সঙ্গে না থাকে। মুহুরীর প্রকৃতির ছোঁয়ায় উদ্ভাসিত স্মৃতিরা যেন হারিয়ে যাওয়ার নয়। এসব ক্যামেরার ফিল্মে আটকে রাখার মত হাজার বছর ধরে।

এখানে রয়েছে একটি ¯øুইচগেইট।প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদের জন্য ১৯৮৫ সালে বাস্তবায়িত হয় সেচ প্রকল্পটি। আর এ কাজে ব্যয় হয় ১৫৬ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। বৈদেশিক সাহায্য সংস’া আইডিএ, সিডা, ইইসি এতে সহায়তা করেছিল।

বাওয়াছড়া
উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর বাওয়াছড়া পাহাড়ীয়া এলাকায় যুগ যুগ ধরে ঝর্ণা প্রবাহিত হচ্ছে। সবুজ শ্যামল পাহাড়ীয়া লেকে পাখিদের কলতানে আবাল, বৃদ্ধ, বণিতা সকলের প্রান জুড়িয়ে যাবে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ স্থানে ছুটে আসে শত শত পর্যটক।

মহামায়া
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদিঘি বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে মহামায়া ইকো পার্ক। এখানে রয়েছে একটি বিশাল লেক। ছোট ছোট ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও একটি ঝর্ণা। বর্তমানে এটি স্থানীয় এক ইজারারদারের নিকট ইজারা দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর মহামায়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহামায়া কৃত্রিম লেক ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের রূপে ও মাধুর্যে মুগ্ধ করেছে।

বাওয়াছরা প্রকল্প: উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বাওয়াছড়া পাহাড়িয়া এলাকায় যুগ যুগ ধরে ঝর্ণা প্রবাহিত হচ্ছে। তাছাড়া এটি বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় একটি পর্যটন স্পটে রূপ নিয়েছে। উপজেলার ছোট কমলদহ বাজার থেকে ২ কিলোমিটার পূর্বে স্পটের অবস্থান।
নাপিত্তাছরা ঝর্ণা

সৃষ্টিকর্তার অপরূপ সৃষ্টির আরেকটি নিদর্শন নয়দুয়ারিয়া নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা। এই ঝর্ণায় না গেলে বর্ণনা দিয়ে তার সৌন্দয্য বুঝানো যাবেনা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ের নয়দুয়ারিয়া বাজারের পূর্বে ৭ কিলোমিটার ভিতরে পাহাড়ে এটির অবস্থান। এছাড়াও রয়েছে দক্ষিণ ওয়াহেদপুর রূপসী ঝর্ণা ও উপকূলী সবুজ বেষ্টুনী।

এ ব্যাপারে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন জানান, মিরসরাইয়ের সবগুলো পর্যটন কেন্দ্র শনাক্ত করে একটি প্রোপাইল তৈরি করা হবে। পরে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সহায়তায় এগুলোকে সংরক্ষণ করে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হবে।

মতামত