টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস: উন্নয়নের ছোয়া নেই পর্যটন স্পটসমূহে

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

4চট্টগ্রাম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। এই দিবসে বিভিন্ন কর্মসুচি হাতে নিয়েছে প্রশাসন। যা শুধু দিবস ভিত্তিক।
পর্যটক আকৃষ্ট করার মতো কোন কর্মসুচি নেই কারো। পুরনো পণ্য বা কর্মসুচি চালিয়ে দেয়া হচ্ছে বারবার। পর্যটন নিয়ে আশা ও লক্ষ্যমাত্রা অনেক। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়না সিকি পরিমাণও।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, সেন্টমার্টিন, হিমছড়ি, ইনানীসহ জেলার পর্যটন স্পটসমূহের কাঙ্খিত উন্নয়ন নেই। সেকালের আবরণ-অবয়বে চলছে জেলার বিনোদনকেন্দ্রগুলো। বছর ঘুরে যায় আর আসে। কিন্তু বিনোদন সুবিধা বাড়ানোর কোনো গরজ নেই কর্তৃপক্ষের। ২০১৬ সালকে ‘পর্যটন বর্ষ’ ঘোষণা করা হলেও এর কোন প্রভাব পড়েনি। সেই নগরীর একই চেহারা। ট্যুরিস্ট পুলিশকে দেয়া হয়নি পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম। যে কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় পর্যটকদের সেবায় নিয়োগ করা ট্যুরিস্ট পুলিশকে।

3১২০ কিলোমিটার সৈকতের লাবণী পয়েন্টের ১ কিলোমিটার ছাড়া বাকি ১১৯ কিলোমিটার সৈকতে গোসলের সুযোগ নেই। পর্যটন এলাকায় নেই শিশু পার্ক, জাতীয় উদ্যান, জাদুঘর, সিনেপ্লেক্স, কেব্ল কার ব্যবস্থা। পর্যটন স্পটের কেথাও হয় না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সৈকত এলাকায় যত্রতত্র গড়ে ওঠেছে শুঁটকির দোকান। উন্নত বিশ্বের পর্যটন স্পটে আলাদা ‘ওয়াকওয়ে’ থাকলেও কক্সবাজারে নেই। অধিকন্তু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সৈকত এলাকায় নির্মিত হচ্ছে নতুন নতুন অবৈধ স্থাপনা।

মাত্র এক বছর আগেও সৈকতে আয়োজন ছিল লোকজ উৎসব, আদিবাসী মেলা, ঘুড়ি উৎসব, ভাস্কর্য উৎসবসহ নানা অনুষ্ঠান। কিন্তু পর্যটনবর্ষে তা হয়নি। হোঁছট খেয়েছে মাসখানেক আগে সৈকতে আয়োজন করা মেগা বীচ কার্ণিভাল।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে স্পোর্টস জোন, ট্যুরিস্ট জোন ও এন্টারটেইনমেন্ট জোনে ভাগ করা হলেও তদারকি নেই। বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাজ কাগুজে কলমে সীমাবদ্ধ। সৈকতে ‘নাইট বাজার’ চালুর জন্য এক বছর আগে কমিটি হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। সেন্টমার্টিন যাওয়ার ঘাটসমূহে টোলের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ হয়নি। সেন্টমার্টিনের ছেরাদ্বীপে যেতে পর্যটকদের গুনতে হয় বাড়তি টাকা।

2
সৈকতের লাবনী পয়েন্টে স্থাপিত জেলা পরিষদের ‘গণশৌচাগারের করুন অবস্থা। নাক চেয়ে প্রাকৃতিক কাজ সারতে ঢুকতে হয় ওখানে। হোটেল মোটেল জোনের সড়ক উপ-সড়কগুলো ক্ষতবিক্ষত। পর্যটন শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাহিল সময়।

৬ নং জেটিঘাটের করুন অবস্থার কারণে অনেক পর্যটক মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরে যেতে চাইলেও পারেনা। লাবনী ও ইনানী বীচে অবৈধ বীচ বাইক চলাচল বন্ধ হয়নি। সৈকতে পর্যাপ্ত লাইটিং ব্যবস্থা না থাকাতে রাতের সৈকতে ঘটছে বিপত্তি। পর্যটকদের টানা কয়েকটা দিন ধরে রাখার মতো বিনোদন ব্যবস্থা এখানে গড়ে ওঠেনি। বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির নামে ফান্ড কালেকশন হলেও তা বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়। সবমিলিয়ে জেলার পর্যটন স্পটসমূহে একটা ধোয়াশা অবস্থা বিরাজ করছে।

ইতিমধ্যে হিমছড়ি পর্যটন স্পটের জায়গা দখল করে রাতারাতি সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে বাণিজ্যিক দোকানঘর। অবশ্য তা পরে উচ্ছেদ করে বন বিভাগ। যদিওবা এনিয়ে দখলবাজচক্রের সাথে প্রশাসনের বেশ কয়েক দিন রশি টানাটানি হয়েছে।

এদিকে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে মিলিয়ে জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট সোনাদিয়া দ্বীপকে ঘিরে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় পর্যটন মন্ত্রণালয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৬ জানুয়ারি সোনাদিয়া দ্বীপ পরিদর্শন করেন পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী। পরিদর্শন শেষে কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির বৈঠকে সোনাদিয়া দ্বীপের কোনো জমি কাউকে লিজ না দিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে নতুনভাবে বসতি করার ক্ষেত্রে নিরুতসাহিত করতে এবং দ্বীপে বসবাসকারীদের অন্যত্র পুনর্বাসনের বিষয়েও একটি রূপরেখা তৈরি করতে নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এর পর কিছুদিন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ততপরতা দেখা গেলেও বর্তমানে তা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো রূপ রেখাও তৈরি হয়নি।

1কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহ-সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, ইনানী ও কক্সবাজার সৈকতে বাড়তি বিনোদন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সারা বছর পর্যটকের আগমন ঘটত। তখন প্রতি মাসে পর্যটন খাতে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হতো। পর্যটকদের জন্য আলাদা বিনোদনসেবা না থাকায় দু’তিন দিন থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন পর্যটকেরা।

পাহাড়গুলোকে সুরক্ষিত রেখে পাহাড় থেকে সমুদ্রে নামার ক্যাব্ল কার, শিশুপার্ক, প্রজাপতি পার্ক, সামুদ্রিক প্রাণীর অ্যাকুরিয়াম, জাদুঘর, মিনি চিড়িয়াখানা, থ্রিডি সিনেমা ও প্যারাসেলিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। কিন্তু উদ্যোগ নেই বলে অনেকে হাত গুটিয়ে বসে আছেন।

সিনিয়র সাংবাদিক ও পরিবেশবিদ ফজলুল কাদের চৌধুরী জানান, ভারতের গোয়া সৈকত, থাইল্যান্ডের পাতায়া সৈকতসহ বিশ্বের অন্যান্য পর্যটন নগরীর ধারে কাছেও নেই কক্সবাজার। কক্সবাজার পর্যটন এলাকা নামে হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি এখনো।

পর্যটনসেবীদের মতে, এসব কিছুর মাঝেও শুধুমাত্র সমুদ্রের টানে কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকেরা। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে এই সৈকতে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি বছরে ১০ লাখ পর্যটক বাংলাদেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেয় সরকার। তার অংশ হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বরে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মেগা বিচ কার্নিভ্যাল’। এই কার্নিভ্যাল পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

তার মতে, বিগত কয়েক বছরে পর্যটন নগরীর উন্নয়ন হয়নি তা নয়। এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্টজোনসহ বেশ কিছু কাজ হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের মতে, বর্তমান সরকার কক্সবাজারকে ঘিরে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলেও কক্সবাজারের চেহারা পাল্টে যাবে।

এদিকে ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পর্যটন দিবসের প্রস্তুতি সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা আক্ষেপ করে বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ঘিরে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন স্পট গড়ে ওঠেছে। কিন্তু এখানে একজন পর্যটক এসে শুধু পানি দেখা ছাড়া আর কিছুই নেই। সৈকত রক্ষাবেক্ষণে নেই পযঅপ্ত ব্যবস্থা। এখনো গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

সরকারের কাছে দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার থেকে বিপুল রাজস্ব আয় করে সরকার। সে অনুযায়ী পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন হচ্ছেনা। কক্সবাজারের পর্যটন খাতকে গুরুত্ব দেয়া হলে সরকার প্রচুর পরিমাণ লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

তবে, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন না হওয়ার জন্য বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, পর্যটনের উন্নয়নে যারা চিন্তা ভাবনা করেন এমন লোকদের নিয়ে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা উচিত ছিল। কিন্তু যাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে তাদের অনেকেই পর্যটনশিল্প সংশ্লিষ্ট নয়। কমিটিতে রাখা হয়নি ট্যুরিস্ট পুলিশ, ট্যুর অপারেটর সংগঠন, বাস মালিক, বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কোন প্রতিনিধি। কমিটিতে রাখা উচিত ছিল পর্যটন এলাকায় রেস্তুরা ব্যবসায়ী, সৈকতের ফটোগ্রাফার। পর্যটন উন্নয়নে এসব লোকদের অবদান রয়েছে। বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি থাকলেও এখন তাদের কাউকে রাখা হয়নি বলে জানান সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম।

বিশ্বের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে ২০১৬ সালকে পর্যটন বছর ঘোষণা করেছে সরকার। ‘ভিজিট বাংলাদেশ’ ¯েøাগানকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালনের ওপর আলাদা গুরুত্ব দেয় সরকার।

এদিকে সাগরকন্যা ইনানী সমুদ্র সৈকতে যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা, সেবা ও আনন্দ বিনোদনের ছোঁয়া পাওয়ার কথা তা পাচ্ছে না পর্যটকরা। ইনানী বীচে পাথর ছাড়া দেখার আর কিছুই নেই। পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাইফ গার্ড, ট্যুরিষ্ট পুলিশের দেখা পাওয়া যায় না। পর্যটন স্পটের আশে পাশে বাথরুম না থাকায় পর্যটকদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। মাশরুম মার্কেট নির্মাণের জন্য তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহম্মদ শামীম আল রাজীর মাধ্যমে ইনানী এলাকার ১৭ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সংগৃহীত ৫০ হাজার টাকার কোন হদিস আছে কিনা সন্দেহ অনেকের। তাছাড়া ইনানী সৈকত সংলগ্ন গাড়ি পার্কিংয়ের নির্ধারিত স্থানটি দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আনন্দ বিনোদনসহ সবধরনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের মাধ্যমে চেইঞ্জিং ও বাথরুম নির্মাণের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে ‘বৈশ্বিক উন্নয়নে সবার জন্য পর্যটন’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) পালিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে পর্যটন শহর কক্সবাজারে দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটি ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।

সকাল ৯টায় লাবণী পয়েন্ট থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে শুরু হবে এ কর্মসূচি। সৈকতের লাবণী পয়েন্টে পিঠা উৎসব চলবে সারাদিন। বিকেল ৪টা থেকে লাবণী পয়েন্টে জমকালো সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন হেডমাস্টার খ্যাত সিরাজুল ইসলাম আজাদ ও শিল্পী বুলবুল আক্তার। এছাড়াও কক্সবাজারের লোকজ শিল্পী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা অংশ নেবেন।

এদিনে শিশুদের জন্য রয়েছে বিশেষ আয়োজন। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সৈকতের কীটকটে অনুষ্ঠিত হবে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। শিশুদের জন্য সারাদিন কীটকট ফ্রি থাকবে। পুরো সৈকতকে সাতটি মূল জোনে ভাগ করে সব জোনে নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান চলবে।

পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে হোটেল নিরিবিলি রেস্তোরাঁয় বিশেষ ছাড়ে মেজবানী খাবার পাওয়া যাবে। এছাড়া পর্যটকদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতাসহ আরও বিভিন্ন আইটেমের আয়োজন রয়েছে। পর্যটন বর্ষের পুরো নিরাপত্তা জোরদার রাখা হবে।

পর্যটন দিবসে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কর্মসুচি গ্রহণ করেছে ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক)। সংগঠনটির সভাপতি এম. রেজাউল করিম জানান, পর্যটন দিবসে দিনব্যাপী জেলা প্রশাসনের কর্মসুচিতে আমাদের স্বতঃস্ফূত অংশগ্রহণ ও সহযেগিতা থাকবে। এ ব্যাপারে আমরা সকলেই আন্তরিক। তিনি জানান, কক্সবাজারে বেড়াতে আসা দেশী বিদেশী পর্যটকদের সারা বছর আমরা সেবা দিয়ে থাকি। তবে, পর্যটন এলাকাসমূহে পর্যটক আকর্ষক আরো বেশী বিনোদনকেন্দ্র গড়ে না ওঠা দরকার। ট্যুরিজমকে শিল্প হিসাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে একটি পরিকল্পনা ছক করেছেন তারা। যেখানে পর্যটক আগমন এবং তা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যটন বোর্ড ৭৮০টি পর্যটন স্পটও চিহ্নিত করেছে।

এর মধ্যে এ বছর ৭ লাখ, পরবর্তী বছর ২০১৭ সালে প্রায় ৮ লাখ ও ২০১৮ সালে ১০ লাখ পর্যটক নিয়ে আসা হবে। পাশাপাশি এ খাত থেকে ২০১৬ সালে ৯৮০ কোটি তিন লাখ টাকা (১২৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার), ২০১৭ সালে ১ হাজার ১৮২ কোটি ২৫ লাখ (১৫২ মিলিয়ন ইউএস ডলার) এবং ২০১৮ সালে ১ হাজার ৫৩২ কোটি ২৬ লাখ টাকা (১৯৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার) বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২০ সাল নাগাদ সারাবিশ্বে পর্যটকের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬০ কোটিতে। আর এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকের প্রায় ৭৩ শতাংশ ভ্রমণ করবে এশিয়ার দেশগুলোতে। যেখানে বাংলাদেশের সম্ভাবনা খুব বেশি।

মতামত