টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হিলারি-ট্রাম্প মুখোমুখি বিতর্ক আজ

চট্টগ্রাম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ সোমবার প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে একমঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছেন। আগামী ৮ নভেম্বর এ দু’জনের মধ্যে যে চূড়ান্ত লড়াই হবে, আজ রাতের বিতর্কটি হবে তার প্রথম মহড়া। এ কথার লড়াইয়ে ‘ভালো-মন্দের’ ওপর প্রার্থীদের নির্বাচনী সম্ভাবনার অনেকটাই নির্ভর করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কাকে ভোট দেবেন, তা এখনও ঠিক না করা প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ ভোটারকে আকৃষ্ট করার একটি বড় সুযোগ আজকের বিতর্ক। এই ভোটারদের বেশির ভাগই নারী। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে হিলারি তাদের মন জয় করে নির্বাচনী লড়াইয়ে আজকেই অনেকখানি এগিয়ে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগের ছয় সপ্তাহে এমন আরও দুটি বিতর্কে মুখোমুখি হবেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এবং ধনকুবের ব্যবসায়ী, টিভিব্যক্তিত্ব রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের প্রথম বিতর্কটি স্থানীয় সময় আজ রাত ৯টায় নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের হফস্ট্রা বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। দেড় ঘণ্টার জমজমাট এ বাগযুদ্ধ উপভোগ করতে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১০ কোটি মানুষ টেলিভিশন ও রেডিওর সামনে জড়ো হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর এএফপি, রয়টার্স, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস ও এনডিটিভির।

নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের মধ্যে একমঞ্চে দাঁড়িয়ে বিতর্কে অংশ নেওয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির দীর্ঘদিনের রীতি। এখানেই প্রার্থীদের মধ্যে পার্থক্যটা খুঁজে নিতে পারেন ভোটাররা। ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট কেমন হবেন, সে সম্পর্কেও একটা আঁচ পান তারা। বিশেষত, ফ্লোটিং বা মনস্থির না করা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এই বিতর্কগুলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আরও কয়েক অনুল্লেখযোগ্য প্রার্থী নভেম্বরের নির্বাচনে থাকলেও বিতর্কে তারা ডাক পাননি। এনবিসি টেলিভিশনের সাংবাদিক লেস্টার হোল্টের সঞ্চালনায় এ বিতর্কে থাকবে ছয়টি ১৫ মিনিটের পর্ব। সঞ্চালক প্রশ্ন করবেন, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জবাব দিতে দুই মিনিট করে সময় পাবেন। বিতর্কে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বৈশ্বিক নেতৃত্বের মতো বিষয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও গুরুত্ব পাবে। বিশেষত, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, শরণার্থী সংকট এবং এসব ইস্যুতে দুই প্রার্থীর অবস্থানই এ বিতর্কের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক নিয়ে মার্কিন ভোটার তো বটেই, বিশ্বজুড়েই আলাদা একটি আকর্ষণ রয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমগুলোও নানা বিশ্লেষণ করে থাকে। তেমনই একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মনস্থির না করা প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ ভোটারের মন জয়ের সবচেয়ে বড় সুযোগ আজকের বিতর্ক। রয়টার্স ও ইপসসের একটি জরিপে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে নারী ভোটাররাই প্রার্থী পছন্দ করতে সবচেয়ে বেশি দ্বিধায় থাকেন। এ কাজে তারা অনেক বেশি সময় নেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের ভোটার গোষ্ঠীটি অনেকটাই নির্ধারিত। শ্বেতাঙ্গ, বয়স্ক, শিক্ষাগত বড় ডিগ্রি নেই এমন ব্যক্তি এবং হতাশাগ্রস্তরা ট্রাম্পশিবিরে ভিড়েছেন। তার ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশই পুরুষ। এ হিসাবের কারণেই আজকের বিতর্কটি হিলারির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, মনস্থির না করা নারী ভোটারদের দলে ভেড়াতে পারলে তা নির্বাচনের ফলে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জনমত জরিপে হিলারি ও ট্রাম্পের ব্যবধান কিছুটা কমতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় প্রথম বিতর্কটিকে একটি বড় অর্জনের মঞ্চ বানাতে ব্যাপক প্রস্তুতিও নিয়েছেন হিলারি।

এ বিতর্ক সামনে রেখে হিলারি ক্লিনটন দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন। ট্রাম্পশিবিরের সম্ভাব্য প্রশ্ন ও আক্রমণের জবাবও তৈরি রেখেছেন তিনি। একটি মিলনায়তনে নিজের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সামনে বিতর্কের মহড়াও করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ই-মেইল ব্যবহার, পারিবারিক ফাউন্ডেশনে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যক্তির অনুদান, ক’দিন আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে হিলারিকে বেকায়দায় ফেলতে চেষ্টা করতে পারেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ কয়েক দশক রাজনীতি করা হিলারিকে ঘাবড়ে দেওয়া ট্রাম্পের পক্ষে সম্ভব হবে না। সাবেক এ ফার্স্ট লেডি মঞ্চে খুবই সাবলীল। যে কোনো পরিস্থিতি সামলে তাৎক্ষণিক গুছিয়ে জবাব দিতে তার জুড়ি নেই। রিপাবলিকান জাতীয় কমিটির শীর্ষপর্যায়ের নেতা শন স্পাইসার বলেছেন, হিলারি বিতর্ক খুব ভালো পারেন, হাইস্কুলে তিনি বিতর্ক দলের সদস্য ছিলেন। ট্রাম্পের যোগাযোগ পরিচালক জেসন মিলারও হিলারির বাগ্মিতার প্রশংসা করে গত আগস্টে বলেছেন, হিলারিশিবির সোমবারের বিতর্ককে নির্বাচনী গতিপথ পাল্টে ফেলার বড় সুযোগ হিসেবে নেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিলারির তুলনায় ট্রাম্পেরই দুর্বল দিক বেশি। বিভিন্ন সময় তার অভব্য মন্তব্য, জাতি ও বর্ণবিদ্বেষ, আয়করের হিসাব প্রকাশ না করার মতো বিষয়ে তাকে কড়া প্রশ্নের মুখেই পড়তে হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের বের করে দেওয়া, মেক্সিকানদের প্রবেশ ঠেকানো, আইএস দমন কিংবা মার্কিন মুসলমানদের পর্যালোচনার মধ্যে আনার কথা বিভিন্ন সময়ে বললেও এগুলো কীভাবে করবেন, তার কোনো বর্ণনা কখনও দেননি ট্রাম্প। এগুলো বাগাড়ম্বর কি-না, তা এই বিতর্কেই পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেও হালকাভাবে নিয়েছেন ট্রাম্প। খুব একটা প্রস্তুতিও নেননি তিনি। কথার মধ্যে মনোযোগ হারানো, বেফাঁস মন্তব্য করে বসা, একেক সময়ে একেক কথা বলার অভ্যাসও তাকে বেকায়দায় ফেলতে পারে। হিলারির প্রেস সচিব ব্রায়ান ফ্যালন মনে করেন, কোনো সারবত্তা না থাকায় ট্রাম্প যে কোনো বিতর্কেই দুর্বোধ্য হয়ে উঠতে পারেন। দলীয় বিতর্কে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেপে ধরেছিলেন।

মতামত