টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রামগড়ের ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই মুসলিম শিক্ষক, ইসলাম শিক্ষা পাঠদানে বিভ্রত

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় পৌরসভার সদুকার্বারী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়নের বালূখালী আলো সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেলছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বৈদ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিপুল পরিমাণ মুসলিম ছাত্রছাত্রী থাকলেও বিদ্যালয়গুলিতে নেই কোন মুসলিম শিক্ষক অপরদিকে বিপুল পরিমাণ উপজাতীয় শিক্ষার্থী থাকলেও পৌরসভার নিউ রামগড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই কোন উপজাতীয় শিক্ষক। ফলে ধর্মীয় পাঠদানে বিভ্রত হচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদুকার্বারী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম বিপুল মুসলিম ছাত্রর বিপরিতে ৯জন শিক্ষক থাকলেও নেই কোন মুসলিম শিক্ষক। বিদ্যালয়টিতে ১৫৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে মুসলিম শিক্ষার্থী ১১৩জন। ১০ জন শিক্ষকের মধ্যে সর্বশেষ ২২ আগষ্ট একমাত্র মুসলিম শিক্ষক এ কে এম আহামদ উল্ল্যাহ খাগড়াছড়ি জেলা সদরে ডেপুটেশনে চলে গেলে মুসলিম শিক্ষকের শূন্যতা দেখা দেয়। অপরদিকে ৪৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ৩ জন সহাকরী দিয়ে বাকী ৩টি বিদ্যালয়ে অফিস ও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরমধ্যে বালূখালী আলো সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪৮ জন, বেলছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২২ জন ও বৈধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র ১ জন করে উপজাতীয় সহাকরী শিক্ষক। ফলে এ ৩টি বিদ্যালয়ে যেমন পাঠদানে বেগাত সৃষ্টি হচ্ছে তেমন একমাত্র সহকারী শিক্ষক অফিস কাজে ব্যস্ত থাকলে বিদ্যালয়গুলিতে অঘোষিত ছুটি বা পাঠ দান বন্ধ থাকছে।

শিক্ষকরা জানান, ধর্মে হিন্দু বা বৌদ্ধ হলেও আরবি হরফ বই পড়াতে গিয়ে সুরা, কেরাত, ঈমান, নবী রাসুলেদের জীবন কাহিনী ইত্যাদি ধর্মের নানান বিষয়ে তারা এখন জানেন। সদুকার্বরীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীর ছাত্র নাইমুল ইসলাম ও বালুখালী আলো সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জানায়, আমাদের ধর্মের ক্লাস নেন লিমন স্যার ও দিলিপ কুমার ধর স্যার।

বেলছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী একমাত্র শিক্ষক নগেন্ত্র ত্রিপুরা জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে জেলা পরিষদকে বিষয়টি কয়েকবার জানানো হলেও কোন প্রতিকার হচ্ছেনা। আর কোন শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে আমাকে অফিস কার্যক্রম ও সকল ধর্মের সকল বিষয় পড়াতে হয়।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু ইউসুফ জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের নিয়ম না থাকলেও বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের চাহিদার আলোকে শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে পার্বত্য জেলা পরিষদ কে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর জেলা পরিষদ শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত রাখায় উপজেলার সর্বত্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। সমস্যাগুলি জেলা পরিষদকে জানানো হয়েছে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানানো হয়েছে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে তাহলে সমস্যাগুলি আর থাকবেনা।

মতামত