টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাকি ১৪ জঙ্গিও দাফন হতে পারে বেওয়ারিশ হিসেবে

চট্টগ্রাম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: গুলশানের হলি আর্টিজান থেকে আজিমপুর- প্রায় আড়াই মাসে পুলিশের পাঁচ বিশেষ অভিযানে নিহত ১৯ জঙ্গির লাশ পড়ে ছিল হাসপাতালের মর্গে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মর্গে থাকা পাঁচ জঙ্গির লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। ১ জুলাই আর্টিজানে নিহত এই পাঁচ জঙ্গির সঙ্গে আরও একটি লাশ দাফন করা হয়েছে, তিনি ছিলেন ওই রেস্তোরাঁর প্রধান বাবুর্চি।

৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় নিহত জঙ্গি আবিরের লাশও বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয় শোলাকিয়ার একটি কবরস্থানে।

এখনো মর্গে পড়ে আছে আরও ১৪ জঙ্গির লাশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে থাকা এসব লাশের মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও তাদের কারও পরিবার থেকে লাশ নেওয়ার দাবি জানানো হয়নি এখনো। আর কিছুদিন অপেক্ষার পর আইনানুযায়ী এসব লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঢাকা মেডিকেলের মর্গে থাকা লাশগুলোর মধ্যে নয়টি কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিংয়ে নিহত জঙ্গিদের। তাদের আটজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। অন্য পাঁচটি লাশের মধ্যে তিনটি নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় নিহত জঙ্গিদের। বাকি দুজন রূপনগর ও আজিমপুরে নিহত হন।

পুলিশের অভিযানে নিহত এই ১৪ জঙ্গির লাশের ময়নাতদন্ত করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ। ময়নাতদন্ত শেষে তিনি নিহতদের লাশের প্রয়োজনীয় ভিসেরা ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পরে লাশগুলো রাখা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের ফ্রিজে।

ঢাকা মেডিকেলের সূত্রে জানা গেছে, ২০টি লাশ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে এখানকার মর্গে। সেখানে ১৪ জন জঙ্গির লাশ দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় অন্য লাশ রাখতে সমস্যা হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এ সমস্যার কথা জানিয়ে অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি চিঠি দিয়েছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মুহাম্মদ শফিউজ্জামান বলেন, ‘লাশগুলোর ব্যাপারে সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আজকে (বৃহস্পতিবার) দেখলাম হলি আর্টিজানে নিহত ছয়জনের লাশ আঞ্জুমান মুফিদুল জুরাইন কবরস্থানে দাফন করেছে। এখন দেখি এদের ব্যাপারে সরকার কী সদ্ধান্ত নেয়।’

তবে এই ১৪ জঙ্গির লাশের ব্যাপারে এখনই কিছু জানাতে পারছেন না ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি  বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত কিছু বলা যাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার ইউসুফ আলী বলেন, ‘জঙ্গিদের লাশের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কেউ যদি লাশের দাবি না করে তাহলে নিয়মানুযায়ী এ লাশগুলোও আঞ্জুমানেই যাবে।’

প্রায় দুই মাস ধরে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পড়ে রয়েছে কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিংয়ে নিহত নয়জন। গত ২৬ জুলাই পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিহত নয়জনের মধ্যে আটজনের পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। তারা হলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের আবদুল্লাহ, টাঙ্গাইলের মধুপুরের আবু হাকিম নাইম, ঢাকার প্রকৌশলী তাজ-উল-হক রাশিক, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ওমরপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান, স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগ নেতা মোনায়েম খানের নাতি আকিফুজ্জামান খান, যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী সাজাদ রউফ অর্ক, নোয়াখালীর শিবিরকর্মী জোবায়ের হোসেন এবং রংপুরের পীরগাছা উপজেলার রায়হান কবির।

পুলিশ বলছে, আট জঙ্গির পরিচয় যেভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, একইভাবে নবম জনের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তার আঙুলের ছাপে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। তার ছবি দেখেও পুলিশের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি।

এক মাস পর ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের অভিযানে নিহত তিনজন হলেন গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর হামলায় মূল পরিকল্পনকারী ও পুলিশের পুরস্কার ঘোষিত আসামি তামিম আহমেদ চৌধুরী, যশোরের এমএম কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র রাব্বি। অন্যজন ঢাকার ধানমন্ডির তাওসীফ হোসেন। ধানমন্ডির ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডা. মো. আজমলের ছেলে তাওসীফ গত মার্চে ঘর ছাড়েন।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকার একটি বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মারা যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ। তিনি তামিম চৌধুরীর ডানহাত ছিলেন বলে জানায় পুলিশ। সবশেষে পুরান ঢাকার আজিমপুরে ২০৯/৫ নম্বর বাড়িতে পুলিশের অভিযানের সময় গলা কেটে আত্মহত্যা করেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা তানভীর কাদেরী।-ঢাকাটাইমস

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত