টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ভারতে নিষিদ্ধ মমতাজ, গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল

momtazচট্টগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: উপমহাদেশের ফোকসম্রাজ্ঞী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ভারতে নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে প্রতারণার মামলায় তার বিরুদ্ধে এক বছেরেরও বেশি সময় ধরে গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে। ভারতে ঢুকলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে। এমন খবর নিশ্চিত করেছেন ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের রাজনৈতিক ও তথ্য বিভাগের কর্মকর্তা। খবর- পূর্বপশ্চিম

ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের একটি আদালত মমতাজের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে বাংলাদেশের এই জনপ্রিয় বাউলশিল্পীকে এর আগে আত্মসমর্পনের আহ্বান জানিয়েছিল ভারত সরকার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশ জারি করার জন্য সুপারিশ করা হয়। তাকে গ্রেফতারে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকেও সহযোগিতা করতে বলা হয়। যদিও রহস্যজনক কারণে ভারতীয় দূতাবাস বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, শিল্পী এবং বাংলাদেশ সরকারের একজন সংসদ সদস্য মমতাজের বিরুদ্ধে ভারতীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনো জারি রয়েছে। যেহেতু মামলাটি ভারতে হয়েছে, তাই তিনি যদি কখনো ভারতে যান তবেই গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রীর সঙ্গেও সাবেক রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ কথা বলেছিলেন। এরপর নতুন করে বিষয়টি নিয়ে বর্তমান রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলাকে অবহিত করা হলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে মুভ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে দূতাবাস থেকে আর কোনো অগ্রগতি নেই।

তিনি আরো বলেন, মমতাজকে ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে মামলার বাদীর সঙ্গে বিষয়টি সুরাহা করতে বলা হয়েছিল। এমনকি ক্ষতিপূরণ দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মমতাজ সেই চিঠির কোনো জবাব দেননি।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার শক্তিশঙ্কর বাগচী মমতাজের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগ করেন। এ কারণ হচ্ছে- ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে স্টেজ শো করার কথা বলে সাড়ে পাঁচ লাখ রুপি অগ্রিম নিয়েও তিনি যাননি।

এরপর বহরমপুরের আদালতে মমতাজের বিরুদ্ধে ভারতের ফৌজদারি বিধির ৪০২, ৪০৬ ও ৫০৬ ধারায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা করা হয়। তবে আইনজীবীর শিল্পী নিজে হাজির হয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে জামিন নিলেও শর্ত মানেননি। ফলে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তার জামিন বাতিল করে নিম্ন আদালতকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের সরকারি মুঠোফোন এবং ব্যক্তিগত নম্বরে কয়েকবার ফোন এবং ক্ষুদেবার্তা পাঠানোর পরও জবাব দেননি মমতাজ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত