টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জঙ্গি নির্মূলে বিশ্ববাসীর সমর্থন চাইলেন শেখ হাসিনা

pmচট্টগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদ সমূলে উৎখাতের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে ভাষণে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলায় দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ১৭ মিনিটের ভাষণটি বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদের মূল কারণগুলো আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে এদের পরামর্শদাতা, মূল পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা, অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহকারী এবং প্রশিক্ষকদের খুঁজে বের করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় ভয়ঙ্কর ঘটনা বাংলাদেশের জনগণের মনে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে আমরা এই নতুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রভাবিত হয়ে কিছু আঞ্চলিক জঙ্গি সৃষ্টি হচ্ছে, বাংলাদেশ এসব জঙ্গি দমনে সফল হয়েছে।’

কী দোষ ছিল আইনাল-ওমরানের?

সংঘাত বন্ধ করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব দেশকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের এই বিশ্ব উত্তেজনা এবং ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্ত নয়। বেশ কিছু স্থানে সহিংস-সংঘাতের উন্মত্ততা অব্যাহত রয়েছে। অকারণে অগণিত মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।’

সিরিয়ার শিশু আইলান কুর্দির সাগরে ডুবে মারা যাওয়া এবং সম্প্রতি আরেক শিশু ওমরানের আহত হওয়ার কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী অপরাধ ছিল সাগরে ডুবে যাওয়া সিরিয়ার তিন বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু আইলান কুর্দির? কী দোষ করেছিল পাঁচ বছরের শিশু ওমরান, যে আলেপ্পো শহরে নিজ বাড়িতে বসে বিমান হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে? একজন মা হিসেবে আমার পক্ষে এসব নিষ্ঠুরতা সহ্য করা কঠিন। বিশ্ব বিবেককে কি এসব ঘটনা নাড়া দেবে না?”

জাতিসংঘে অভিবাসী ও শরণার্থী বিষয়ক সম্মেলনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি- এই সম্মেলনের ফলাফল বর্তমান সময়ে অভিবাসনের ধারণা ও বাস্তবতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে সাহায্য করবে। অভিবাসন ও শরণার্থী সমস্যার সমাধানে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য স্থানীয় অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা বিগত কয়েক দশকের বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘২০১৫ সালে আমরা একটি উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন এজেন্ডা এসডিজি গ্রহণ করেছি। এই এজেন্ডার রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পশ্চাৎপদ দেশগুলোর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ এবং অর্থবহ অবলম্বনে রূপান্তরিত করা প্রয়োজন। এজন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষে তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তরণ সম্ভব। উদ্ভাবন এবং সম্ভাব্য সম্পদ সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্রস্তাবিত প্রযুক্তি ব্যাংক-কে দ্রুত কার্যকর করতে হবে।’

বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার জন্য ‘ভিশন-২০২১’ এবং ‘ভিশন-২০৪১’ বাস্তবায়নে তার দেশ এগিয়ে চলেছে বলেও বিশ্ব নেতাদের অবহিত করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, শক্তিশালী, ডিজিটাল এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য আমাদের সরকার উদ্ভাবনমূলক সরকারি সেবা বিতরণ, জনসাধারণের তথ্য লাভের অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনা ও সেবা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে।’

সরকারের উন্নয়ন চিত্র

জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়ন চিত্রও তুলে ধরেন। নিজস্ব অর্থায়নে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু, একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা এবং রাজধানী ঢাকায় মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ শুরুর কথা তিনি জানান। গত সাত বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় তিন গুণ এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণও তিন গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বেশি থাকার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা সীমিত সম্পদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্যের হার দ্রুত কমিয়ে আনার চিত্রও তুলে ধরেন।

মন্দার মধ্যেও রপ্তানি আয় প্রায় তিন গুণ বাড়ানোর কথা বলেন শেখ হাসিনা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার কথাও আসে তার ভাষণে।

আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত এবং নেপাল (বিবিআইএন)-এর মধ্যে ‘মাল্টি-মোডাল ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক’ তৈরি এবং বিনিয়োগ বাড়াতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত