টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ছেলের দেওয়া আগুনে অবশেষে মারা গেলেন বাবা

mugdhaচট্টগ্রাম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: নিহত এটিএম রফিকুল হুদা ও তার ছেলেনতুন মডেলের মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় ফরিদপুরে ছেলের দেওয়া আগুনে দগ্ধ বাবা এটিএম রফিকুল হুদা (৪৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ডিএমসি) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার শরীরের ৬০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।

ডিএমসি’র বার্ন ইউনিটের সার্জন পার্থ শংকর পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিএমসি পুলিশ ক্যাম্পের এসআই বাচ্চু মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ ভোরে এটিএম হুদা মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।’

জানা যায়, নতুন মডেলের মোটরসাইকেল না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদপুর শহরে নিজের মা-বাবার শরীরে আগুন দেয় তাদের কিশোর ছেলে মুগ্ধ। এতে রফিকুল হুদা গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। তার স্ত্রী সিলভিয়া হুদা ও ওই ছেলে সামান্য দগ্ধ হন। পরে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে রফিকুলের অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত শুক্রবার তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের স্থানান্তর করা হয়। আর সিলভিয়া হুদা ও তার ছেলেকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘাতক পুত্র মুগ্ধ এ বছর ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। এরপর থেকেই সে তার বাবার কাছে নতুন মডেলের একটি মোটরসাইকেল দাবি করে। মুগ্ধের বর্তমান ব্যবহৃত মটর সাইকেল ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের আর১৫ মডেল। যার বাজার মূল্য প্রায় পাচ লাখ টাকা।

ঈদের দিন রাতে ১৩ সেপ্টেম্বর মুগ্ধ ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লেখে, ‘পৃথিবীতে নিজে ভালো থাকতে হলে স্বার্থপর হতে হবে। আর অন্যকে ভাল রাখতে গেলে নিঃস্বার্থ হতে হবে এটাই সত্য।’

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিম উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘এ বিষয়ে এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ না পেলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত