টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণে চট্টগ্রামে হাজার কোটির প্রকল্প

চট্টগ্রাম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামবাসীকে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে এক হাজার এক’শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় নানা ত্রুটির কারণেই এই যন্ত্রনা সহ্য করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংস্পূর্ণ হলেও বিতরণ ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি মিলছে না

চট্টগ্রামবাসীর। সেই ২০০২ থেকে কম-বেশি প্রতিদিনই লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চট্টগ্রামের গ্রাহকদের।

তবে লোডশেডিং মুক্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলতে চট্টগ্রাম মহানগরে ১১০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে পিডিবি। গত জুন থেকে এ কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পিডিবির কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। সরকারি ছয়টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে এক হাজার মেগাওয়াট ও বেসরকারি পর্যায়ে সাতটি উৎপাদন কেন্দ্রে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

চট্টগ্রামে বিদ্যুতের গড় চাহিদা ৯০০-৯৫০ মেগাওয়াট। সে হিসেবে ৫০০-৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উদ্ধৃত্ত। কিন্তু বিতরণ ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রামে লোডশেডিং নেই এ কথা বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা বললেও গ্রাহকরা তা বুঝবে না। কারণ ২০০২ থেকে লোডশেডিংয়ের কথা শুনতে শুনতে লোডশেডিং বলতেই অভ্যন্ত গ্রাহকরা।

তবে এ কথা সত্য ত্রুটিপূর্ণ সঞ্চালন লাইন ও ওভারলোড ট্রান্সফরমারের কারণে চট্টগ্রামের ৮০ ভাগ এলাকায় এখনো দিনে ৭-৮ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করছে।

পিডিবির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বিতরণ) আমিনুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রায় তিন দশক আগের জরাজীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ সঞ্চালন লাইন, ট্রান্সফরমারের ধারণক্ষমতার অভাবের কারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

যা নিরসনে চলতি মাসের জুন থেকে কাজ শুরু করেছে পিডিবি। তবে এ সমস্যা পুরোপুরি নিরেসনে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে চট্টগ্রামবাসীকে।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর সব এলাকায় সঞ্চালন লাইন পরিবর্তন, সাব-স্টেশন স্থাপন, সাব-স্টেশন আপ-গ্রেডেশনের কাজ করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাব-স্টেশনের জন্য যন্ত্রপাতি ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন ২২টি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ছয়টি পিডিবির নিজস্ব জায়গায় স্থাাপন করা হবে। অবশিষ্ট ১৪টি সাব-স্টেশন স্থাাপনের জন্য মাদামবিবিরহাট, এফআইডিসি, কাট্টলি, অনন্যা আবাসিক, রহমতগঞ্জ, মনসুরাবাদ, বাংলাবাজার, মইজ্জারটেক, কল্পলোক ও রামুতে জায়গা নিয়েছে পিডিবি।

এছাড়া চারটি সাব-স্টেশন আপ গ্রেডেশন ও চারটি মেরামত করা হবে। এগুলো হচ্ছে হাটহাজারী, পিসারাবাদ, বাকলিয়া, চশরিয়া, বাড়বকুন্ড, ফৌজদারহাট, খুলশী ও বার আউলিয়া সাব-স্টেশন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিটাগং জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুল মোত্তালিব বলেন, একটি ট্রান্সফরমারের আওতায় আগে ১০০ পরিবারে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হতো। সেখানে গত তিন দশকে বিদ্যুৎ গ্রাহক বেড়েছে তিন-চারগুণ। কিন্তু বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি।

এছাড়া গ্রাহক বৃদ্ধির সাথে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ট্রান্সফরমার ওভারলোডেড হয়ে বিকল হয়ে যাচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকা ২-৩ দিন পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পে সঞ্চালন লাইনের বর্তমান আন্ডারসাইজ তারের পরিবর্তে উন্নতমানের তার ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে এখনকার চেয়ে অতিরিক্ত ৫৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরিবহন করা সম্ভব হবে।

এর ফলে অতিরিক্ত চাপের ফলে সঞ্চালন লাইন বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবেনা বরং আগামী কয়েক দশক বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও এ লাইন বিদ্যুৎ সঞ্চালন করতে পারবে।

এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১ হাজার ৫০০ ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার স্থাপন করবে পিডিবি। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের আর কোন সমস্যা থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন প্রকৌশলী মো. আবদুল মোত্তালিব।

মতামত