টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সেতুর অপেক্ষায় আর কতো দিন ?

ফটিকছড়ির রোসাংগিরী শীলের হাট ঘাট

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

fatickchariচট্টগ্রাম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): শত বছরের পুরানো ফটিকছড়ির রোসাংগিরীর শীলের হাট ঘাট। হালদার উপর দুই উপজেলার বাসিন্দারা এ ঘাট দিয়ে পারাপার করে আসছেন বহুকাল ধরে। বর্ষা মৌসুমে এখানে টানা নৌকায় একমাত্র ভরসা। অপরদিকে শুকনো মৌসুম এলে বাঁশের সাঁকোই হয়ে উঠে এখানকার যাথায়াতের মাধ্যম। টানা নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পার হতে গিয়ে এ ঘাটেই দশ বছর পূর্বে নৌকা ডুবে মারা যায় ফারিয়া ইসলাম রিয়া নামক রোসাংগিরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেনী এক শিক্ষার্থী। যুগ যুগ ধরে এখানকার পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের প্রাণের দাবী হয়ে আছে একটি সেতু। তাদের আশা, একদিন এ ঘাটেই হবে স্বপ্নের সেতু। কিন্তু সেই সেতু হবে কবে ? নেই কারো জানা। ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নে হালদা নদীর এপার-ওপারের পাঁচ গ্রামের লোকজনকে একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর এপারের প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে রোসাংগিরী ইউনিয়নের শীলেরহাট ও ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের বংশাল গ্রামের মাঝখানে হালদা নদীর ওপর দিয়ে নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোসাংগিরী উচ্চ বিদ্যালয়, রোসাংগিরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রোসাংগিরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শীলেরহাট ডাকঘর, রোসাংগিরী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রা.) মাদ্রাসাসহ উলে­খযোগ্য কয়েকটি স্থানকে হালদা নদী পৃথক করে দিয়েছে।

রোসাংগিরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আজিম উদ্দিন বলেন- এখানে একটি সেতু নির্মাণ খুব জরুরি। বর্ষায় উজান থেকে যখন পাহাড়ি ঢল নেমে আসে তখন নদী ফুলে-ফেঁপে ওঠে। শিশুরা ভয়ে সাঁকো পার হয় না। তাই এ সময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেকাংশে কমে যায়।

রোসাংগিরী গ্রামের বাসিন্দা ও নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী শ্রী শম্ভূ কুমার শীল বলেন, নির্বাচন এলে সবাই এখানে সেতু করে দেওয়ার মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন। পরে তারা সব কথা ভুলে যান। তবে, এবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান শোয়াইব আল সালেহীন এখানে সেতু নির্মাণের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে গ্রহন করলে এখানে সেতু বাস্তবায়ন করা কঠিন কিছু নয়।

স্থানীয় রোসাংগিরী ইউপি চেয়ারম্যান শোয়াইব আল সালেহীন বলেন, ‘শীলেরহাট এলাকা থেকে ২ কিলোমিটার দূরে নাজিরহাট বাজার সংলগ্ন অপর একটি সেতু রয়েছে। তবে, শীলেরহাটে সেতু নির্মাণের দাবিটি অবশ্যই যৌক্তিক। আমি স্থানীয় সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ও পাশ্ববর্তী হাটহাজারী উপজেলার সাংসদ ও পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সাথে আলোচনা করেছি। তাঁরা আমাকে এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

ফটিকছড়ি উপজেলাএলজিইডি প্রকৌশলী ম. বিল­াল হোসেন বলেন, দপ্রস্তাব পেলে সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সাংসদ ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, শীলের হাট ঘাটে সেতু নির্মাণে এলাকাবাসীর দাবীর কথা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সোয়াইব আল সালেহীন আমাকে অবহিত করেছেন।

এলাকাবাসীর যুক্তিক দাবী ও প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে এ এলাকায় সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্দ্যেগ গ্রহন করা হবে ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত