টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

১৪২ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স: ৩২ মন্ত্রীকে মেয়র নাছিরের চিঠি

চট্টগ্রাম, ১৯  সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগাদা দিয়েও গৃহকর আদায় করতে পারছে না করপোরেশন। গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) বাবদ ৩২টি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ১৪২ কোটি টাকা পাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। বছরের পর বছর ধরে গৃহকর পরিশোধ না করায় পাওনা আদায়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ৪ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদের পৃথক চিঠি দিয়েছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

মেয়রের চিঠিসদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে (২০১৫-১৬) গৃহকর খাতে লক্ষ্যের মাত্র ৩৩ শতাংশ আদায় করতে পেরেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ৩৩৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা গৃহকর আদায়ের লক্ষ্য ছিল করপোরেশনের। আদায় করা গেছে ১১২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

সিটি করপোরেশনের কাছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের গৃহকর বকেয়া থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, ‘অবশ্যই গৃহকর পরিশোধ করা উচিত। কিন্তু না দিয়ে থাকতে পারলে কেন দেবে? আর গৃহকর আদায়ে সিটি করপোরেশনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেটি তারা নিচ্ছে না কেন?’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩২টি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৬২৪টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে গৃহকর বাবদ পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪২ কোটি ৭২ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৪ টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বকেয়া রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছে। গত ২২ বছরে (১৯৯৪-৯৫ থেকে ২০১৫-১৬ পর্যন্ত) রেলওয়ে কেবল একবার গৃহকর দিয়েছে। গত অর্থবছরে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে রেলওয়ে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত রেলওয়ের কাছে সিটি করপোরেশন গৃহকর বাবদ পাবে ৮৩ কোটি ৫০ লাখ ৭২ হাজার ৪৫৮ টাকা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৯৮ হাজার ৫০২ টাকা এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে ১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা গৃহকর পাবে করপোরেশন।

গৃহকর আদায়ে করপোরেশনের নেওয়া উদ্যোগের বিষয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে গৃহকর খাতে বিশাল অঙ্কের টাকা পাওনা রয়েছে। বকেয়া গৃহকর পরিশোধে মন্ত্রীদের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। গৃহকর ঠিকভাবে আদায় না হলে করপোরেশনের উন্নয়ন ও সেবাধর্মী কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে।’

মন্ত্রীদের কাছে লেখা চিঠিতে মেয়র বলেন, সিটি করপোরেশনের আয়ের মূল উৎস গৃহকর। করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, আবর্জনা অপসারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়ক আলোকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল খনন ও নালা-নর্দমা সংস্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সিংহভাগ ব্যয় গৃহকর থেকে নির্বাহ করা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে সিটি করপোরেশনের বিপুল অঙ্কের গৃহকর পাওনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা হলে বলা হয়, মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় কর পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। গৃহকর পরিশোধে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ মঞ্জুরির জন্য ওই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের অনুরোধ করেন মেয়র।

সিটি করপোরেশনের পাওনার বিষয়ে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল হাই বলেন, ‘করপোরেশনের কাছেও আমাদের পাওনা রয়েছে। নগরের মাদারবাড়ী এলাকায় সিটি করপোরেশন রেলওয়ের কাছ থেকে জমি কিনলেও অর্থ পরিশোধ করেনি। তারপরও মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের গৃহকর পরিশোধ করা হয়।’

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছর থেকে গৃহকর পরিশোধ করেনি। তবে বিদায়ী অর্থবছরে (২০১৫-১৬) দুই কোটি টাকা পরিশোধ করে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের কাছে ২ কোটি ২১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানান সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা।

সিটি করপোরেশনের কাছে মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানের গৃহকর বকেয়া থাকার বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন গতকাল রোববার মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি পাওনা থাকে তাহলে তা নিয়ম অনুযায়ী দিয়ে দেওয়া হবে।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রেলপথ, শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ছাড়া আরও ১০টি মন্ত্রণালয়ের কাছে কোটি টাকার ওপরে গৃহকর পাওনা রয়েছে করপোরেশনের। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ১ কোটি ৯ হাজার টাকা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১ কোটি ৮ লাখ টাকা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ২ কোটি ২২ লাখ টাকা, তথ্য মন্ত্রণালয়ের ১ কোটি ৮০ লাখ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বকেয়া আছে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার মুঠোফোনে বলেন, টাকা না দিলে কাজ করতে সমস্যা হবে সিটি করপোরেশনের। মন্ত্রণালয়ের উচিত গৃহকর পরিশোধের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বরাদ্দ দেওয়া।-প্রথম আলো

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত