টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অসুস্থতা থেকে মুক্তি দিতেই মাকে হত্যা, ছেলে’র স্বীকারোক্তি

maচট্টগ্রাম, ১৭  সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): অসুস্থতার কষ্ট থেকে মুক্তি দিতেই মাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছেন ছেলে সৌমিত ।

হত্যাকান্ডের পর পুলিশের কাছে এমনটাই স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানান বন্দর থানার ওসি তদন্ত বদরুল মামুন।পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমিত জানান মায়ের কষ্ট সইতে না পেরে তাকে জবাই করে হত্যা করি। দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থ মা কুমকুম চৌধুরী (৪৫)। দু সন্তানের মধ্যে সৌমিত চৌধুরী অসুস্থ মায়ের সেবা যত্ন করতো। মাঝে মাঝে বিকেলে মাকে হুইল চেয়ারে করে বাইরে ঘুরিয়ে আনতো। সব কিছুই ঠিক ঠাক ছিল।

কিন্তু আজ দুপুরে গোসাইল ডাঙ্গার সরকার টাওয়ারের ৩য় তলার ফ্ল্যাট বাসায় মাকে কুপিয়ে হত্যা করে সেই ছোট ছেলে সৌমিত । মাকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয় নি সে। নিজেও আত্ম হত্যার চেষ্টা করে। হত্যাকান্ডের সময় বাসায় মা ও ছোট ছেলে ছিল। বড় ছেলে ফটোকপি করে বাসায় এসে রক্তাক্ত অবস্থা দেখে চিৎকার করে। এসময় পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেয়।

ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শরীর থেকে মাথা প্রায় বিছিন্ন হয়ে যায়। আঘাতের সময় আত্ম রক্ষার চেষ্টা করলে বাঁ হাতের আঙুলেও আঘাত লাগে। বাবা সুখময় চৌধুরী কর আইনজীবি হিসেবে ঢাকায় কর্মরত আছেন। সেখানে দ্বিতীয় আরেকটি সংসার আছে তাঁর। হত্যাকান্ডটি পারিবারিক কলহের জেরে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকার রতন জানায়, ছেলেটি খুবই ভালো ছিল। কখনো কোন খারাপ কোন কিছুর সঙ্গে তাকে দেখে নি। তবে সে কারো সাথেই তেমন কথা বলতো না নিজের মতোয় থাকতো।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় তাদের পৈতৃক বাড়ি। নগরীর ওই ভবনের তৃতীয় তলায় তার স্ত্রী কুমকুম চৌধুরী (৪৫), বড় ছেলে সোমনাথ চৌধুরী (২৪) এবং ছোট ছেলে সৌমিত চৌধুরী বসবাস করতেন। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রী কুমকুম চৌধুরী নয় মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। সৌমিত এবার ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হন। পরে ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন তিনি। পুনর্নিরীক্ষণে এক বিষয়ে পাস দেখালেও অপর দুটি বিষয়ে অকৃতকার্যই দেখানো হয়। এ নিয়ে আজ বড় ভাই তাকে বকাঝকা করেন। এটাকে কেন্দ্র করে হত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত সৌমিত কে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বড় ছেলে হাজী মুহাম্মদ মোহসিন কলেজে বিবিএ প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত