টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে চামড়া ব্যবসায়ী’রা পুঁজি তুলতে পেরেই হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন

camraচট্টগ্রাম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::কোরবানির পশুর চামড়ার প্রায় ৯৮ ভাগই জমা হয়ে গেছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আড়তে। তবে চামড়া সরবরাহকারীরা কেউই লাভের মুখ দেখেননি। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী কম দামে চামড়া বিক্রি করে লোকসান দিয়েছেন। কেউ পুঁিজ তুলতে পেরেই হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন।

শুক্রবার চট্টগ্রামের চামড়ার আড়ত খ্যাত মুরাদপুর আতুড়ার ডিপো এলাকায় একাধিক আড়তদার ও চামড়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মুরাদপুর থেকে হাটহাজারী-রাঙামাটি সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের কিনারা জুড়ে দুই শতাধিক আড়তের সামনে চামড়ার স্তূপ। শ্রমিকদের কেউ চামড়া পরিষ্কার করছেন, কেউ চাড়ার পচন রোধ করতে লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণ করছেন।

এসব কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা জানান, ঈদের দিন বিকেল থেকে বেপারিরা আড়তে চামড়া নিয়ে আসতে থাকেন। সেই থেকে নিরলস ও নির্ঘুম চামড়া সংরক্ষণ কাজ চলছে। আরও ৮-১০ দিন ধরে চলবে এ কাজ।

এ সময় চামড়ার দাম নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে নানা গুঞ্জন ও তোলপাড়। সবার মুখে একটি কথা- চামড়া কিনে লাখ টাকা লোকসান দিয়েছেন বেপারিরা। যারা হিসাব করে চামড়া কিনেছেন তাদের কেউ কেউ কোনো রকমে পুঁজি ফেরত পাওয়ার কথা জানিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালি উপজেলার গোমদন্ডি এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, নিজ এলাকা থেকে দুই হাজার কোরবানির পশুর চামড়া কিনেছেন তিনি। প্রতিটি চামড়া ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যেই ছিল। কিন্তু এসব চামড়া আড়তে এনে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের মধ্যে তিনি ১৫ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছেন বলে জানান।

নগরীর বলির হাটের চামড়া ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন লাখ টাকায় ১৩৫টি কোরবানির পশুর চামড়া কেনেন তিনি। কিন্তু আড়তে বিক্রি করতে গিয়ে দেখেন অবস্থা খারাপ। শেষমেশ পুঁজির কাছাকাছি ফেরত তুলতে পেরেছেন তিনি।

চট্টগ্রাম চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা মুসলিম উদ্দিন জানান, আড়তদাররা আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চার লাখের কাছাকাছি গরুর চামড়া কিনেছেন। বিক্রেতাদের বেশির ভাগই লোকসানের মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ পুঁজি ফেরত পেলেও লাভের মুখ দেখেননি কেউ।

এক প্রশ্নের জবাবে মুসলিম উদ্দিন বলেন, ঢাকার বাইরে হিসেবে চট্টগ্রামে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বেপারিদের অনেকে বর্গফুটের হিসাব বোঝেন না। কেউ কেউ বুঝলেও নানা ব্যস্ততার কারণে মূল্য নির্ধারণের খবরও পাননি অনেকে।

মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘ঈদের আগে স্বাভাবিকভাবে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ছিল ৫০-৫৫ টাকা। সে হিসাবে চামড়া কিনতে গিয়ে ‘ধরা’ খেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের লোকসানের অবস্থা জেনে আড়তদাররাও অনেকে বেশি দামে চামড়া কিনেছেন। এতে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন আড়তদাররাও।’

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেকান্দর হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে রিফ লেদার লিমিটেড ও মদিনা ট্যানারি নামে দুটি ট্যানারি ছিল। কিন্তু পরিবেশ দূষণের দায়ে এক বছর আগে এসব ট্যানারি বন্ধ করে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। ফলে চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসা এখন ঢাকানির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে চামড়া ব্যবসা একরকম জিম্মি হয়ে পড়েছে।

সেকান্দর হোসেন বলেন, ট্যানারি দুটি বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকার সুবিধা এমনকি মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া স্বাভাবিক মূল্যের চেয়েও চামড়ার দাম ১০-১৫ টাকা কম নির্ধারণ করায় লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মতামত