টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

চট্টগ্রাম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: : মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তম উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঈদুল আজহার প্রাক্কালে সোমবার পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আযহা। মহান আল্লাহর নির্দেশে স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) কে কুরবানি করতে উদ্যোগী হয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালবাসা, আনুগত্য ও আত্মত্যাগের যে সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা অতুলনীয়। আল্লাহর প্রতি এই অকৃত্রিম ভালবাসা ও ত্যাগের আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলিত হলেই পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ কমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। কুরবানীর মর্ম অনুধাবন করে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও কল্যাণের পথ রচনা করতে আমাদের সংযম ও ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে। ত্যাগের মনোভাবকে প্রসারিত করতে হবে আমাদের কর্ম ও চিন্তায়। সকল ধর্মের মূল বাণী হচ্ছে মানব কল্যাণ। তাই ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বা প্রলোভন দেখিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল যাতে সমাজে বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও আচার অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছে। এটা আমাদের সম্প্রীতির এক অনুপম ঐতিহ্য। কুরবাণীর শিক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করি-এটাই হোক এবারের ঈদের অঙ্গীকার।

পবিত্র ঈদুল আযহা সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক, সবার মধ্যে জেগে উঠুক আত্মত্যাগের মহিমা-মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থণা করি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বানীতে বলেন, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমি প্রিয় দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলিম জনগোষ্ঠীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।

মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রিয়বস্তুকে উৎসর্গের মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি লাভের যে অনুপম দৃষ্টান্ত হযরত ইব্রাহীম (আ.) স্থাপন করে গেছেন, তা বিশ্ববাসীর কাছে চিরকাল অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সামর্থ্যবান মুসলমানগণ কুরবানীকৃত পশুর গোশত আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। সমাজে সাম্যের বাণী প্রতিষ্ঠিত করেন।

ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা দেয়। আসুন, আমরা সকলে পবিত্র ঈদুল আযহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে বিভেদ- বৈষম্যহীন সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

পবিত্র এই দিনে আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর অব্যাহত উন্নতি, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করছি। রাব্বুল আল আমিন আমাদের সহায় হোন।

মতামত