টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানের কামারশালাগুলোতে শেষ মুহুর্তে চলছে নির্ঘুম কর্মব্যস্ততা

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

raozan-kamar-sala-picচট্টগ্রাম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): মুসলমান ধর্মালম্বীদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কামারশালাগুলোতে চলছে কামারদের নির্ঘুম কর্মব্যস্ততা। হাপরের হাঁসফাঁস আর হাতুড়ি পেটানোর টুংটাং শব্দে তৈরি হচ্ছে কোরবানির পশু জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত চকচকে ধারালো দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতিসহ হরেকরকমের জিনিস । এর ফাঁকে ফাঁকে করছেন পুরাতন অস্ত্রে শাণ দেয়ার কাজ। তাই এ সময়ে দম ফেলার ফুরসত নেই কামারদের। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি চলছে কামারদের একটানা বিরামহীন ব্যস্ততা।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে হাট-বাজারে প্রায় অর্ধশতাধিক কামারশালায় শতাধিক শ্রমিক (কামার) মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বর্তমানে এই সব কামারশালাগুলোতে প্রচুর ভিড় লক্ষণীয়। কুরবানীদাতারা কুরবানীর পশু কাটাছেড়া করার জন্যে পরিবারের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত সবক’টি দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি শাণ দেয়ার জন্যে নিয়ে আসছে কামারদের কাছে। তবে অনেকেই আসছেন নতুন ছুরি কিংবা দা কিনতে বা বানানোর অর্ডার দিয়ে যেতে। ক্রেতা সমাগম বেশি হওয়ায় বিক্রেতারও দাম হাকাচ্ছেন ইচ্ছা মাফিক। এ সময় কাজের চাপ বেশি হওয়ায় অন্য সময়ের চেয়ে দোকানে মৌসুমি কর্মচারীর সংখ্যা বেড়েছে। দেখা মিলছে মৌসুমি কামারশালারও। অনেক মৌসুমি কামার নতুন দোকান বা খোলা জায়গা ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে দা-ছুরি শাণ দেয়ার কাজে নেমে পড়েছেন। কেননা বছর জুড়ে এই কোরবানের মৌসুমেই তাদের জমজমাট ব্যবসা হয়।

নোয়াপাড়া পথের হাটের অদূরে অবস্থিত কামারশালায় কর্মরত ৫১ বছর বয়সী প্রবীর দাশ নামের এক কামার বলেন, বিগত পাঁচ বছর ধরে এ কাজে নিয়োজিত আছি। কুরবানী এলেই দা, বঁটি, ছুরি চাপাতি ইত্যাদি সরঞ্জাম শান দেওয়া ও বিক্রি করার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বছরের বাকি সময়টার বেশির ভাগই তাদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। কোরবানির সময়ে ১০-১৫ দিনে ৫০-৬০ হাজার টাকা মত আয় হয়। বছরের বাকী সময় গুলোতে কখনও দৈনিক ১০০, ২০০ অথবা ৩০০ টাকা আয় হয়। এমনও কয়েকদিন যায় এক টাকাও আয় হয় না। অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। তাই এই ব্যস্ত সময়ে কাজের লোক পাওয়া খুবই দুরুহ। যারা কাজ করছেন তাদের মজুরিও বেশি। আর কাজের নানা উপকরণের যে হারে দাম বেড়েছে সে অনুপাতে আমরা দাম নিচ্ছি না। তাছাড়া এই মৌসুমের আয়ের উপর ভর করে আমাদের বাকী সময় পার করতে হয়।

বর্তমানে কামার শিল্পকে গিলে খাচ্ছে চায়না বাজার। গত কয়েক বছর দেখা যাচ্ছে, বাজারে পাকা লোহার ছুরি, চাপাতির চেয়ে চাইনিজ ছুরি, চাপাতিই বেশি চলছে। এসব বিদেশী ধারালো অস্ত্র দেখতে চকচকে, হালকা, সহজে ব্যবহার যোগ্য, তুলনামূলকভাবে দেশীয় ছুরি, চাপাতির চেয়ে দামেও সস্তা। তাই এসব জিনিসের প্রতি ঝুকেঁ পড়েছে ক্রেতেরা। ফলে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশীয় ঐতিহ্য কামার শিল্পে। আর্থিক সংকট ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে দেশীয় কামার শিল্প।

মতামত