টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তাবাচ্ছুম বাবা ডাকবে কাকে ?

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

fatickcharitabassumচট্টগ্রাম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::   দাম্পত্য জীবনের আট বছর পার হওয়ার পর স্ত্রী কুসুমা আকতারের কোল জুড়ে দেখা মেলে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের। নিজেই তার নামকরণ করেন ‘তাবাচ্ছুম’। পুরো নাম মুছাম্মৎ তোহা তাবাচ্ছুম। তাকে ঘিরেই বাবা এনামুল হক চৌধুরীর জীবন, সংসার ও স্বপ্ন। এক কথায় তাবাচ্ছুমই তার পৃথিবী। তাবাচ্ছুম যখন হামাগুড়ি শেষ করে দাঁড়াতে শিখছিল; আর একটু আদটো ‘আব্বু’ উচ্চারণ করতে লাগলো, তখনই বাবা এনামুল হকের জীবনে নেমে আসে ভয়াল এক মুহূর্ত। শত্র“রা তাকে এমন নির্মমভাবে মাথায় কোপাল, হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে লড়তে, আদরের মেয়েটাকে একটি বারের মতো কোলে তুলে নিতেও পারলেন না। হাসপাতালের বেডে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বোবা কান্নায় চোখ বেজাতেন অঝোরে। কি এক কঠিন মূহুর্ত, কি নির্দয় পৃথিবী! ধীরে ধীরে একসময় এসে মেয়ের সামনে থেকে নয়, পৃথিবী নামক গ্রহটি থেকেও হারিয়ে গেলেন এনামুল হক চৌধুরী।

এনামুল হক চৌধুরী ফটিকছড়ি উপজেলার বিবিরহাট বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ পাইন্দং গ্রামের শাহ চৌধরী বাড়িতে। বাবা মৃত হাজী ছালেহ আহম্মদ। তিনি গত ৩০ আগষ্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

২০১৪ সালের ৬ আগষ্ট জায়গা-জমির বিরোধ নিয়ে তার মাথায় কুপিয়ে প্রচন্ড জখম করে তারই প্রতিবেশি মৃত আবুল কালামের ছেলে জামালের নেতৃত্বে তার ভাইসহ কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গ।

ঘটনার দিন সকাল আটটায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নাজিরহ্টাস্থ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেয়া হয়। সেখান থেকে চমেক হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনর হাসপাতাল, ডেল্টা হসপিটাল, প্রিমিয়ার হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিউতে) রেখে চিকিৎসা করানো হলেও তার জ্ঞান ফিরেনি। প্রায় পাঁচ মাস পর কিছুটা উন্নতি হলে তাকে ভারতের চেন্নাই পাঠানো হয়। দুই দফায় যাওয়ার পরও সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসায় তার শরীরের অবস্থার কোন উন্নতি না হলে স¤প্রতি দেশে ফিরিয়ে আনে। অবস্থা গুরুতর দেখে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে গত ৩০ আগষ্ট তার মৃত্য হয়।

সরেজমিনে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সুনসাম নিরবতা। বাড়িতে হাহাকার জুড়ে বসেছে। স্বামীকে হারিয়ে নির্বাক স্ত্রী কুসুমা আকতার। আদরের সন্তানকে কোলে নিয়ে পায়চারী করছেন। তাবাচ্ছুম আদরের বাবার ফ্রেমে বাধা ছবি জড়িয়ে বুকে আগলে রেখেছে। বাবা ডাকার মানুষটিকে চীরতরে হারিয়ে ফেলেছে তা বুঝার সময়টুকু হয়ে উঠেনির তার।

ঘটনার পর নিহতের মেজ ভাই শামশুল আলম ফটিকছড়ি থানায় জামালকে প্রধান আসামী একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। সবাই এখন জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু আসামীরা আদালতের মাধ্যমে জামিনে রয়েছে। পরবির্ত আদালতের নির্দেশনা মতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত