টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

২,৩৬৭ গেরিলার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি আদালতে বহাল

চট্টগ্রাম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::  মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ সদস্যকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের এই রায়ের মধ্যদিয়ে তাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বহাল রইলো। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এই রায় দেন।

২০১৩ সালের ২২ জুলাই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গেরিলা বাহিনীর সদস্য কমরেড মণি সিংহ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, পঙ্কজ ভট্টাচার্যসহ দুই হাজার ৩৬৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ওই প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে সরকার। এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একটি রিট আবেদন করেছিলেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টচার্য।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তবারক হোসেন ও সুব্রত চৌধুরী। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের পক্ষে শুনানি করেন শ ম রেজাউল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম নাজমুল হক।

আইনজীবী তবারক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তিনটি সংগঠনের সদস্যেদের নিয়ে গঠিত ২ হাজার ৩৬৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাদের সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান ও যথাযথ সম্মান প্রদানের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

এ বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে গেরিলা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টচার্য। ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ওই গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। একইসঙ্গে ওই প্রজ্ঞাপনটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষরকারী উপসচিব ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা একটি গেরিলা বাহিনী গঠন করে মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণ নেয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্রও সমর্পণ করেছিলেন এই গেরিলারা।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য হাইকোর্টের রুল ঘোষণার দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকার এবং স্বাধীনতা উত্তর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারসহ প্রতিটি সরকার এই বিশেষ গেরিলা বাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত