টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

স্কুলে মিড ডে মিল চালুতে স্থানীয় উদ্যোগ চান প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::  স্কুলে ঝরে পড়া রোধে শিশুদের জন্য দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করতে অভিভাবক এবং স্থানীয়দের উদ্যোগ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি ভালো হচ্ছে, সচ্ছলতা বাড়ছে। কাজেই সবাই নিজ নিজ এলাকায় সহযোগিতা করতে পারেন। তাহলে এই খাবারের গুণগন মান বাড়বে। দায়িত্বশীলতাও বাড়বে।’ তিনি বলেন, ‘অনেক এলাকায় স্থানীয়দের এমন উদ্যোগে মিড ডে মিল চালু হয়েছে। অন্য এলাকাতেও চালু হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি ঝরে পড়া বেড়ে যায় ক্ষুধার জন্য। কিন্তু পেটে ক্ষুধার জ্বালা না থাকলে পড়াশোনাটা ভালো হবে। এ জন্য স্কুলে তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা আমরা করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিজয়ী জাতি, পরমুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে চাই না। এক সময় খাদ্য বা অন্য প্রকল্পের জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে হতো। এখন আর সেই অবস্থা নেই। কারও কাছে হাত পেতে নয়, আমরা নিজেরাই করবো-এই আত্মমর্যাদা বোধটা গড়ে উঠুক।’

ঝরে পড়ার হার কমছে

সরকারের নানামুখী উদ্যোগে প্রাথমিক পর্যায় শেষ না করেই স্কুল ছাড়ার প্রবণতা কমে আসছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান ২০০৬ সালে এই হার ছিল ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ। বর্তমানে তা দাড়িয়েছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঝরে পড়ার হার আরও কমাতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় এক হাজার ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ হাজারের বেশি আনন্দ স্কুল করা হয়। এসব স্কুলে বিনামূল্যে পড়ানোর পাশাপাশি খাতা-কলম ও পোশাক দেয়া হয়। ঝরে পড়া সাত লাখ ২০ হাজার শিশু এসব স্কুল থেকে আবার পরীক্ষা দিয়েছে। বর্তমানেও এসব স্কুলে পড়ছে তিন লাখের বেশি শিশু।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বা হাওর ও চরাঞ্চলে যাতায়াতের কষ্টের কারণে অনেক শিশু স্কুলে যেতে পারে না। এসব এলাকায় আবাসিক স্কুল প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব স্কুলের কাজ শেষ হয়ে গেলে আর যাতায়াতের কষ্ট থাকবে না।

অশিক্ষার অন্ধকার থেকে জাতি আলোর পথে যাত্রা শুরু

এই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার এখন ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে। এটাকে আরও বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ছেলে মেয়েদের পরীক্ষা ভীতি দূর হয়েছে। প্রাথমিকে এখন পাসের হার ৯৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে। আমারও প্রশ্ন ছিল তারা ফেল করবে কেন? তারও প্রমাণ করেছে একটু পড়াশোনা করলেই সবাই পাস করতে পারবে।’

ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাই এগিয়ে

শিক্ষায় মেয়েরা এখন ছেলেদেরকে ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে এখন ছেলে-মেয়ের সমতার কথা বলা হয়। অথচ আমাদের দেশে এখন উল্টো চিত্র। দেশে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেড়ে গেছে। এখন ছেলের সংখ্যাটা বাড়াতে হবে, তাহলে সমতা আসবে।’

শিক্ষা বিস্তারে সরকারের নানা উদ্যোগের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছেলে মেয়েদেরকে এখন বই কিনতে হয় না। গত সাত বছরে বিনামূল্যে ১৯৩ কোটি বই বিতরণ করেছি বিনামূল্যে। বিএনপি-জামায়াত জোটের জ্বালাও পোড়াওয়ের মধ্যেও গত ১ জানুয়ারিতে সারা দেশে বই বিতরণ করা হয়েছে। আমরা প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছি। আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা নীতি করেছি, ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কারিগরি প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিয়েছি।’

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত এখন এক কোটি ২৮ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, পিএইচডির শিক্ষার্থীরাও এই বৃত্তি পেতে পারেন।

নিরক্ষরদের অক্ষর জ্ঞান দিকে ছাত্র সংগঠনকে নির্দেশ

নিরক্ষরদেরকে অক্ষরজ্ঞান দিতে ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জনপ্রতিনিধি, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকেও এই উদ্যোগে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি। বলেন, ‘আপনারা সবাই যদি উদ্যোগ নেন যে আপনার এলাকায় কেউ নিরক্ষর থাকবে না, তাহলে আমরা দ্রুত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে সাক্ষরতা বৃদ্ধিতে তিনি নতুন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে এ কাজে নিয়োজিত করান। নিরক্ষরকে সাক্ষরজ্ঞান দিলে সংগঠনে ভালো পদ পাওয়া যেতো। এ ছাড়া অনানুষ্ঠানিক, উপ আনুষ্ঠানিক ও মসজিদ মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা চালু হয়েছিল তখন। এসব উদ্যোগের ফলে সাক্ষরতার হার বেড়ে ৬৫.৫ শতাংশ হয়। কিন্তু বিএনপি জামায়াত জোট সরকার এসব উদ্যোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে সাক্ষরতার হার কমে ৪৪ শতাংশে নামে।

খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাতে গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা কেবল পড়াশোনা করবে না। তাদের মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা জরুরি। এ জন্যও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। ছেলেদের জন্য বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ও মেয়েদের জন্য বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপের আয়োজন করা হয়েছে। এই টুর্নামেন্ট থেকেই মেয়েরা উঠে আসছে। কলসিন্ধুর স্কুলের মেয়েরা এখন দেশের হয়ে ১০ গোল দেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্কুলে নেতৃত্ব বিকাশের জন্য স্টুডেন্ট কাউন্সিল করা হয়েছে। এখান থেকেই দেশের ভবিষ্যত নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। আজ আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি, অন্যরা মন্ত্রী হয়েছে। এই শিশুরাই ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী হবে।’

শিশুদেরকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এই দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন তাদের সম্পর্কে জানতে হবে। কারও কাছে মাথা নিচু করে নয়, মাথা উঁচু করে বিশ্বসভায় চলবো। সেভাবেই নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।’

মতামত