টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শিক্ষা বিস্তারে ২১ তরুণের মহৎ উদ্যোগ

ডিজিটাল সুবিধা নিয়ে রাউজানে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে  নোয়াপাড়া আইডিয়াল স্কুল

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

Raozan-Noapara-Ideal-Schoolচট্টগ্রাম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::  রাউজানে নোয়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গেইটের বিপরীত পাশেই আধুনিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে ২১ জন মেধাবী তরুণ উদ্যোক্তাদের পরিচালনায় সম্পূর্ণ অটোমেশন পদ্ধতিতে চালু হচ্ছে রাউজানে প্রথম ডিজিটাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নোয়াপাড়া আইডিয়াল স্কুল।

প্রথম বারের মত এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উপজেলায় গড়ে উঠায় সচেতন অভিভাবকরা নিজ সন্তানকে শিক্ষাদানে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলার সমৃদ্ধ এলাকা নোয়াপাড়ায় এই ধরনের প্রথম প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে ২১ শিক্ষিত তরুণ। যারা নিজেদের আত্মকর্মসংস্থান হিসেবে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। যেখানে শিশুরা পাবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল সমৃদ্ধ ক্লাস থেকে শুরু করে আনুসাঙ্গীক সব কিছু। বিদ্যালয় গমন ও বাহির হওয়ার সাথে সাথে অভিভাবক পাবে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ক্ষধে বার্তা। এছাড়াও এটি শুরু থেকেই নিজস্ব ওয়েবসাইট ও প্রতিটি ক্লাসে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাসসহ নানান কিছু সচেতন অভিভাবকদের দারুণ সারা দিয়েছে। অনেক অভিভাবক নিজ সন্তানকে এখানে শিক্ষাদানের জন্য আগেবাগেই ব্যাপক আগ্রহ বেশ লক্ষ্যণীয়।

এই প্রসঙ্গে পরিচালনা পরিষদের সদস্য মো. আয়ুব খাঁন সাংবাদিকদের জানান দুর্দান্ত গতিতে চলছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ, শিক্ষা ক্ষেত্রে শুরু হয়েছে ডিজিটাল বিপ্লব, তাই একটি আধুনিক মানের, সুন্দর, সৃজনশীল, মনোরম পরিবেশ ও সর্বাধুনিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যেন স্বল্প খরচে পড়ালেখা করতে পারে এজন্য প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির (যেমন নোট, গাইড, প্রাইভেট প্রভৃতি) নিয়ম ভেঙ্গে শ্রেণিকক্ষেই প্রকৃত শিক্ষাদান ও সৃজনশীল পদ্ধতির সঠিক অনুশীলন এবং প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাউজানে আমরা প্রথম চালু করছি একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নোয়াপাড়া আইডিয়াল স্কুল। এর জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা রাউজানের মাটি ও মানুষের নেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি আরও বলেন এটি এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে যেখানে আপনার-আমার সন্তানটি লিখবে পড়বে আনন্দের সাথে। গড়ে উঠবে যোগ্য, দক্ষ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে।

এ প্রসঙ্গে পরিচালনা পরিষদের আরেক সদস্য ফজল করিম বলেন, রাউজানে একমাত্র আমরাই প্রথম ওয়েবসাইটের সাথে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির সংযোগ ঘটাতে পেরেছি। ফলে শ্রেণীকক্ষে হাজিরা ডাকতে হবে না। ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাসে প্রবেশের সময় মেশিনে টাচ্ করে ক্লাশে ঢুকে যাবে। মেশিন থেকে তাদের উপস্থিতির তথ্য চলে যাবে ওয়েবসাইটে। এবং তাদের অভিভাবকের মোবাইলে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষকগণ ঝামেলা বিহীন ভাবে পরীক্ষার ফলাফল দিতে পারবেন। ওয়েব সাইটে এন্ট্রি দেবেন নাম্বার আর ফলাফল চলে আসবে গ্রেডিং সিস্টেমে। এছাড়াও সারা বছরের পরীক্ষাগুলোর নাম্বার বিশ্লেষণ করে অটোমেটিক পরবর্তী শ্রেণীর রোল নাম্বার বা মেরিট লিস্ট চলে আসবে। শিক্ষার্থীর টিউশন ফি গ্রহণের সাথে সাথে অভিভাবকের মোবাইলে চলে যাবে এসএমএস নটিফিকেশন। এছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা প্রযুক্তি। যার সাথে বিশেষ সফট্ওয়ারের মাধ্যমে লিংক থাকবে ওয়েবসাইটের। ফলে অভিভাবকগণ পৃথিবীর যে কোন জায়গায় বসে সন্তানের প্রাতিষ্ঠানিক খোঁজ খবর নিতে পারবেন।

পরিচালনা পরিষদের সদস্য প্রকৌশলী ইলিয়াছ আজগর বলেন, আমাদের স্কুলের প্রতিটি শ্রেণীতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ বা প্রজেক্টর দ্বারা স্টুডেন্টদের পড়ানো হয়। আর ইন্টারনেট থেকে ছবি, ভিডিও, ও তথ্য নিয়ে এখানকার শিক্ষকরা ভিডিও কনটেন্ট তৈরী করে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে প্রতিটি ক্লাস পরিচালনা করবেন। সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের জন্য রয়েছে আমেরিকান টিচার্স এসোসিয়েশন এর প্রশিক্ষক স্যার জোনাথন হেল্ড কর্তৃক প্রশিক্ষিত টিচার্স ট্রেনার, যাদের নিরলস শ্রম, মেধা ও গবেষণায় আমরা পেয়েছি “ডাবল এইট ফর্মূলা” এর মত বিশ্বমানের শিক্ষা পদ্ধতি। যার ফলে কোন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়তে হয় না।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত