টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দেশি গরুর কদর, দামও বেশী

রাউজানে কোরবানির হাটে প্রচুর পশু উঠলেও বেচাকেনা কম

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

Raozan-caw-picচট্টগ্রাম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় কোরবানির হাটে প্রচুর পরিমান পশু উঠেছে। এখানকার পশুর হাটগুলোতে স্থানীয় গৃহস্থের দেশি গরু চোখে পড়লেও বিদেশি গরু তেমন চোখে পড়েনি। কোরবানির হাটগুলোতে প্রচুর ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হলেও বেচাকেনা ছিল কম। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার মুছা ফকির হাট, জানালী হাট, সোমবাইজ্জ্যা হাটসহ বিভিন্ন স্থানে কোরবানি পশুর হাট বসেছিল। এগুলোর মধ্য থেকে মুছা ফকির হাটে সবচেয়ে বেশি গরু বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। কম সংখ্যক গরু বিক্রি হয়েছে জানালী হাটে। এছাড়াও অন্যান্য হাটগুলোতেও ক্রেতা-বিক্রেতা ছিল কম। উপজেলার মুছা ফকির হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাজার হাজার গরু বিক্রির জন্য বাজারে আনা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই মোটাতাজা করা ও দেশি গরু। ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ঘরে পালন করা গরু বিক্রির জন্য এসেছেন। তারা বলেন, ক্রেতা থাকলেও বিক্রি হয় কম। মুছা ফকির হাটে কোরবানির গরু কিনতে আসা আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘ ইনজেকশন প্রয়োগ করে মোটাতাজা করা গরু দেখতে সুন্দর দেখা গেলেও এসব গরুগুলোর কলিজা পচে যায়। এসব গরুর মাংস শরীরের জন্যও ক্ষতিকর। তাই তিনি দেখে শুনে তার বাজেট অনুযায়ী একটি দেশি গৃহস্থির গরু কিনবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অপরদিকে গরু বিক্রয় করতে আসা মোহাম্মদ শাহা আলম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি গত কোরবানির পরে দুটি গরু কিনে নিজের পরিশ্রমে বড় করেছি। এই গরু দুটি আজ (গতকাল মঙ্গলবার) প্রথম হাটে এনেছি। বাড়িতে অনেকেই কিনতে চেয়েছেন কিন্তু আমার সাথে দামের গড়মিল হওয়ায় বিক্রি করিনি। তিনি এই ষাড় দুটি দেড় লক্ষ টাকা দাম হাকালেও ক্রেতারা এক লক্ষ থেকে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত বলেছেন। যেহেতু কোরবানির বাকি আরো সপ্তাহ খানেক আছে তাই ওই বিক্রেতার চাহিদা মতো দাম পাওয়ার আশায় রয়েছেন। পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের চেয়ে দাম একটু বেশি হলেও রাউজানে এখনো প্রচুর পরিমাণ গরুর যোগান রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাউজানে কোথাও গরু বিক্রির হাটে হাসিল নেয়া হচ্ছে না। তবে যারা বাজার বাসিয়েছেন খুটি প্রতি ৫০-১০০ টাকা নিচ্ছেন। তাও আবার গরু বিক্রি হলেই নেয়া হয়। স্থানীয়রা বলেছেন রাউজানে চাঁদাবাজি ও হাসিল না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় সন্তুষ্ট। গত কোরবানে যে দেশি গরু ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়েছে তা এবার ৩২ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাউজান পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড বাসিন্দা আবিদ মাহমুদ বলেন, গত বার যে দুটি গরু ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় কিনেছি, সে গরু এবারের বাজারে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি এবার বাজারে গরু কিনতে গিয়ে দামে না হওয়ায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি বলেন এখনো আরো বেশ কয়েকটি হাট রয়েছে। সুযোগ বুঝেই বাজেট অনুযায়ী কিনে নেব। দামের ব্যাপারে মো. মাহফুজ আলম নামের এক মৌসুমী ব্যবসায়ী জানান, পশুর ক্রয়, পরিবহন খরচ, খাবারের দামসহ লালন-পালনের নানা খরচ অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশী। সেকারণে গরু দাম একটু বেশী। এদিকে কোরবানি গরুর বাজারকে সামনে রেখে বেড়েই চলেছে গরু চুরির ঘটনা । এই সঙ্কায় খামারি, মৌসুমী ব্যবসায়ী সকলেই কাটাচ্ছে নির্ঘুম রাত। বিগত এক দশকে রাউজানের গরুর বাজারে চাঁদাবাজি, ছিনতাইয়ের মত তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। তবুও কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে । এবিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল­াহ জানান, কোরবানি পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা ও ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন নির্বিগ্নে বেচাকেনা করতে পারে সেজন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবে এখানকার বাজারগুলোতে গরু বেচাকেনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত