টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রামগড় মাদ্রাসার পর এবার বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ ছাত্রী হাসপাতালে

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

News-picচট্টগ্রাম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  অজ্ঞাত রোগ যেন ছাড়ছেইনা খাগড়াছড়ির রামগড়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের। গত ৩০ আগষ্ট মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রামগড় গণিয়াতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার প্রায় ৪০ জন ছাত্রী অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েক দাফে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। এ ঘটনার ৫ দিনের মাথায় আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রামগড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ ছাত্রী একই রোগে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। পর পর রামগড়ের দুটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে অজ্ঞাত রোগটি দেখা দেয়ায় উপজেলার অন্যসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতংক।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্লাস চলাকালীন সময়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর সাজেদা আক্তারের মাথা ব্যাথা, খিচুনীভাব দেখা দিলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয় । পরবর্তীতে একই শ্রেণীর তানজিনা, ৭ম শ্রেণীর মনি সোজেদা আক্তার, ফারজানা আক্তার, ইয়াছমিন আক্তার, সাজেদা আক্তার ও ১০ম শ্রেণীর জান্নাতুল ফেরদৌস একই ভাবে আক্রান্ত হলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে রোগটির সঠিক কারণ নির্ণয় না হওয়াতে শিক্ষক ও অভিবাবকরা চরম উদ্ধেগের মধ্যে রয়েছেন। তারা বলছেন গণহারে ছাত্রীদের এমন অসুস্থতা কি কারণে বা কেন হচ্ছে এখন পর্যন্ত তারা জানেন না। হাসপাতাল থেকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠালেও ছাত্রীদের ভয় কিংবা আতংক থেকেই যাচ্ছে ফলে কোন কোন ছাত্রীকে পুনরায় হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। রোগটি নির্নয়ে উচ্চ পর্যায়ে কোন চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ টিম এখন পর্যন্ত না হওয়াতে তারা হতাশা প্রকাশ করছেন।

রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডাঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা অজ্ঞাত রোগটিকে গণমনোত্বাত্তি¡ক রোগ বলে চিহ্নিত করেছি এবং সেভাবে চিকিৎসাও চলছে। এরোগটি মূলত আতংকিত বা ভয়ভীতি থেকে ছড়ায়। অভিভাবকদের অভিযোগের উত্তরে তিনি বলেন, ছাত্রীদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি উর্ধত্বন কর্তৃপক্ষকে সাথে সাথে জানানো হয়েছে। পর্যাপ্ত ঔষুধ না থাকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, কিছু ঔষুধের সল্পতা আছে তা রোগীরা নিজেরা নিয়ে আসছেন।

খবর পেয়ে দ্রুত স্কুলে ও হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন ও স্থানিয় সাংবাদিকরা। তিনি অসুস্থ ছাত্রীদের খোজ খবর নেন এবং উপস্থিত সকল ছাত্রীদের ভয়ভীতি ও আশংকা মুক্ত মনে পড়া লেখা চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। মাদ্রাসার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজকে রির্পোটটি জমা দেয়ায় কথা রয়েছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কর্মস্থলে না থাকায় বিদ্যালয় বন্ধ বা ছুটির বিষয়ে অন্যদের হিমসিম খেতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই জন কর্মকর্তাই মাসের বেশিরভাগ সময় কর্মস্থলে থাকেন না। অভিযোগের সূত্র ধরে রবিবার দুপুরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার অফিসে গেলে অফিস তালাবদ্ধ দেখা গেছে। পরে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ২৯ আগষ্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর দুইটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার কারণে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি রামগড়ে ফিরবেন তাছাড়া অফিসের আরেক কর্মচারী ছুটিতে আছেন বলে তিনি জানান।

মতামত