টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে ‘লাল বিরিষে’ বাজার মাত

চট্টগ্রাম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  গায়ের রঙ লাল। খাটো পা। আকারে ছোট। ওজন ৩ থেকে ১০ মণ। চট্টগ্রামের একমাত্র স্থানীয় জাতের এই গরু ‘রেড চিটাগাং’ নামে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে সুন্দরী গরুও বলা হয়। এ জাতের ষাঁড়কে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় ‘লাল বিরিষ’। কোরবানির বাজারে চট্টগ্রামের লোকজনের কাছে এই লাল বিরিষের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। মোটাতাজা গরুর প্রতি ক্রেতাদের ভীতির কারণে বর্তমানে এ চাহিদা আরও বেড়েছে।

চট্টগ্রামের গরুর হাটগুলোতে মিলছে লাল বিরিষ। গ্রামেও এ জাতের বিরিষ বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। লাল বিরিষ চট্টগ্রামের সব অঞ্চলেই কমবেশি পাওয়া যায়। তবে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, রাউজান, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলায়।

পশুবিশেষজ্ঞ ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নত জাতের গরু হচ্ছে রেড চিটাগাং। দুধ উৎপাদন, মাংস উৎপাদন ও চাষাবাদের জন্য বেশ উপযুক্ত এই গরু। চট্টগ্রাম অঞ্চলে উৎপত্তি ও বিস্তার লাভ করায় এটি ‘চাঁটগাইয়া গরু’ নামেও পরিচিত। এ জাতের গরুর দেহের আটটি অঙ্গের রঙ লালচে।

প্রাণিবিজ্ঞানীরা জানান, লাল বিরিষ দেখতে খুবই সুন্দর। এগুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্য সব জাতের গরুর চেয়ে বেশি। মাংস সুস্বাদু। চামড়ার মানও খুব ভালো। আকারে অপেক্ষাকৃত ছোট হওয়ায় এই গরু মধ্যবিত্তের সামর্থ্যের মধ্যেই থাকে। সারা বছর বাজারে ‘লাল বিরিষ’ তেমন একটা পাওয়া যায় না। তবে কোরবানির সময় বাজারে এগুলোর সরবরাহ বেশি থাকে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু প্রজনন ও কৌলবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভঁূইয়া বলেন, ‘রেড চিটাগাং বাংলাদেশের নিজস্ব উপজাতের গরু। এদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই বেশি। ফলে সহজে এরা রোগাক্রান্ত হয় না। এদের খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য আলাদা কোনো জোগাড়ের প্রয়োজন হয় না বিধায় লালন-পালনে খরচও খুব কম হয়। বাড়তি কোনো যত্ন নিতেও হয় না। দ্রুত বেড়ে ওঠে। মাংসও খুব সুস্বাদু।’

বেশি দামে বিক্রির জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ‘লাল বিরিষ’ সংগ্রহ করছেন ব্যবসায়ীরা। বেপারিরা গ্রামের হাট ও স্থানীয় কৃষকের কাছ থেকে পশু সংগ্রহ করে নগরীর বাজারগুলোতে নিয়ে আসছেন। মোটাতাজা গরুর ঝুঁকির কারণে ক্রেতারাও ঝুঁকছেন দেশি জাতের এই গরুর দিকে।

বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া গ্রামের কৃষক আবদুচ ছত্তার বলেন, ‘গরুকে কোনো ধরনের ভিটামিন বা ইঞ্জেকশন দেই না আমরা। প্রতিবার কোরবানির পর স্থানীয় হাট থেকে ভালো মানের দেশি গরু বাছাই করে কিনে নেই। এরপর স্বাভাবিকভাবে বিলে-চরে বেড়ে উঠে। ঘরে খড় ও কুঁড়ো খাওয়ানো হয়। কোরবানির কয়েক মাস আগে থেকে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। এ সময় গরুকে ভুসি খাওয়ানো হয়। এতেই গরু মোটা ও সুন্দর হয়ে উঠে।’

মোমিন রোডের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছ বলেন, ‘প্রতি বছর আনোয়ারার সরকার হাট থেকেই গরু কিনে নিয়ে আসি। ওই বাজারে প্রচুর পরিমাণ দেশি গরু পাওয়া যায়। এ বছরও সেখান থেকে কেনার ইচ্ছে আছে। কোরবানিতে স্বাভাবিকভাবেই লাল বিরিষ সবাই পছন্দ করেন। তাছাড়া দেশি জাতের গরুর বাড়তি কোনো যত্ন নিতে হয় না। খড় খাইয়ে কোরবানির দিন পর্যন্ত রাখা যায়। বিদেশি বা মোটাতাজা গরুগুলো খাবার দিলেও খেতে চায় না। কখন কী হয় এ নিয়েও দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। প্রতিবার কোরবানির গরুর বাজারে অনেক গরু মারা যায়।’-সমকাল

মতামত