টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে চকলেটের প্রলোভনে শিশু বলৎকারের চেষ্টা মুয়াজ্জিনের !

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে 

চট্টগ্রাম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  ফটিকছড়িতে চকলেটের প্রলোভনে আট বছরের এক শিশুকে বলৎকারের চেষ্টা করে মসজিদের মুয়াজ্জিন। তবে, কোন রকমে পালিয়ে এসে রক্ষা পায় শিশুটি। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ওই মুয়াজ্জিনকে আটক করে থানায় সোপার্দ করে এলাকাবাসী। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভাধীন চুরখাঁরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত মুয়াজ্জিনের নাম মোহাম্মদ শামশুল হুদা(৫৪)। তার বাড়ি উপজেলার ফটিকছড়ি পৌরসভাধীন রাঙ্গামাটিয়া চৌমুহনী এলাকায়। তিনি চুরখাঁরহাট বাজার মসজিদে বিগত চার মাস পূর্বে মুয়াজ্জিন হিসেবে যোগদান করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল­াহ বলেন, অভিযুক্ত মুয়াজ্জিনকে উত্তেজিত জনতা আটক করে পুলিশে দিয়েছে।’

এ দিকে সরেজমিনে গিয়ে বলৎকারের চেষ্টার শিকার শিশু (ছদ্দ নাম- রোমান) ভীত স্বন্তস্ত্র কন্ঠে লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলে, ‘আমি বাড়ীর পাশের মসজিদের পুকুরঘাটে হাত-মুখ ধুচ্ছিলাম। ঠিক সে সময় মসজিদ থেকে বের হয়ে হুজুর আমাকে তার রুমে যাওয়ার জন্য ডাকলে আমি রুমে যাই। রুমে গেলে আমার হাতে চকলেট গুঁজে দিয়ে হুজুর সব দরজা-জানলা বন্ধ করে দেয়। এরপর আমার পাশে এসে আমার (বিশেষ অঙ্গে) হাত রেখে হুজুরের (বিশেষ অঙ্গ) ধরার জন্য ধমক দেয়। আমি ভয় পাই। বলি, হুজুর আপনি নামাজ পড়েননা? আপনার ঈমান থাকবেনা। এ সময় হুজুর আমাকে বলে, ঈমানের গুষ্টি কিলাই। তুমি যদি এইসব না কর, আমার বদদোয়া পড়বে, তুমি পড়ালেখা করতে পারবেনা। আমি কোনরকম চিৎকার-চেচামেচি করে পালিয়ে মায়ের কাছে ছুটে আসি।’

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানালে তারা মসজিদ কমিটিকে বিষয়টি অবগত করেন। এসময় এলাকার কয়েকশ উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত মুয়াজ্জিনকেঃ আটক করতে মসজিদ প্রাঙ্গনে এসে ভিড় জমায়। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, থানা পুলিশকে খবর দিয়ে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দরা মুয়াজ্জিনের রুমে মুয়াজ্জিনকে থালাবদ্ধ করে রাখেন। রাত সাড়ে দশটার দিকে সে সুযোগে রুমের ভেতরে থাকা ছাদের দরজা দিয়ে উপরে উঠে স্থানীয় বাহাদুর সওদাগরের পাশ দিয়ে পালিয়ে গিয়ে স্থানীয় এক বাসীন্দার গোয়াল ঘরে আত্মগোপন করার চেষ্টা করে। রাত দেড়টার দিকে ঘরের গৃহস্থিরা চোর ভেবে দেখতে গেলে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

ঘটনার শিকার শিশুটির মা বলেন, ‘কোন রকম পালিয়ে এসে আমার ছেলেটি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ঘটনাাটি আমাকে জানায়। পরে, এলাকার গণ্যমান্যদের বিষয়টি অবহিত করি। আমি এই নরপশুর শাস্তি চাই।’

জানতে চাইলে ভূজপুর থানার উপ-পরিদর্শক(এস.আই) হেলাল উদ্দিন ফারুকী বলেন, ‘মুয়াজ্জিন থানা হেফাজতে রয়েছে। ঘটনা যাচাই-বাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।

মতামত