টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তৃতীয় দাফে রামগড় মাদ্রাসার ৭ ছাত্রী ফের হাসপাতালে

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: রামগড় গণিয়াতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ৩০জন ছাত্রী গত মঙ্গলবার দুপুরে অজ্ঞাত রোগে অসুস্থ হয়ে রামগড় হাসপাতালে ভর্তি হয়। মঙ্গলবার ও বুধবার সকালে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও গত বৃহস্পতিবার ১৭জন ছাত্রী পুনরায় অসুস্থ হয়ে ফের হাসপাতারে ভর্তি হয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ছাত্রীরা হাসপাতাল ত্যাগ করে। কিন্তু আজ শনিবার ছাত্রীরা যথারীতি মাদ্রাসায় ক্লাস করতে এলে তৃতীয় বারের মত ৭ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে আবারো হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে মরিনয়ম,পলি, নুসরাত ও খাদিজা এই ৪জন পুরাতন এবং তৃষা, হামিনা ও আছমা এই ৩জন নতুন করে আক্রান্ত হয়। এতে করে নিয়মিত রোগীর পাশাপাশি নতুন করে মাদ্রাসার ছাত্রীদের নিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কৃর্তপক্ষকে আর উদ্ধিগ্নে রয়েছেন শিক্ষক ও অভিবাবকরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, রোগটি মূলত গণ মনোষতান্ত্রিক রোগ। অতিরিক্ত ভয়, আতংক ও দুশ্চিন্তা থেকে হয়ে থাকে। হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা প্রধান করা হচ্ছে। অভিবাবক ও নিকটস্তদেরকে সেবা, পর্যাপ্ত ঘুম, পর্যাপ্ত খাওয়া দাওয়াসহ আতংক ও ভয় দুশ্চিন্তা দূরী করণের চেষ্টার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাহলে রোগী দ্রুত সুস্থ হবে বলে তিনি জানান।

মাদ্রাসা অধ্যক্ষ আবদুস সালাম নিজামী জানান, ঘটনার পরপর মাদ্রাসা ছুটি দিয়ে অসুস্থ ছাত্রীদের দেখা শুনা ও খোজ খবর নেয়া হচ্ছে। এঘটনায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা চালু থাকলেও পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তিনি জানান, অভিবাবকদেকে পূর্বে অসুস্থ ছাত্রীদের মাদ্রাসায় না পাঠিয়ে বাড়িতে বিশ্রাম নিতে পরামর্শ দেয়ার পরও কয়েকজন অসুস্থ ছাত্রী মাদ্রাসায় এলে শনিবার পুনরায় তারা অসুস্থ হয় । তবে ছাত্রদের নিয়ে শিক্ষকরা শ্রেনী কর্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

অভিভাবকদের কয়েকজন জানান, বাড়িতে নেয়ার পর ছাত্রীদের মাথা ব্যাথা, খিচুনীভাব, জ¦ালাপোড়া দেখা দিলে তারা পুনরায় হাসপাতলে নিয়ে আসেন। তবে অভিবাবকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, হাসপাতলে চিকিৎসারত সস্তানদের জন্য তাঁরা অনেকেই বাহির থেকে অসুধ কিনে দিচ্ছেন। এদিকে গত বুধবার ও বৃস্পতিবার হাসপতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকলেও বর্তমানে পর্যাপ্ত চিকিৎক রয়েছেন।

এদিকে সাবক্ষণিক মাদ্রাসায় ও হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে আছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন। এর আগে হাসপাতালে রোগীদের খোজ খবর নিয়েছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, পৌর মেয়র কাজী শাহ জাহান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল কাদের সহ স্থানিয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা।

ঘটনার দিন তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন এর আদেশে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রতন খীসাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত গঠন করে কমিটিকে ৩ কার্যদিবেসের মধ্যে তদন্ত দিতে বলা হয়। তদন্ত কমিটি সদস্য মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তারেক নিজামী জানান, তদন্ত প্রায় শেষ দিকে রবিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত