টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফাঁসির চিঠি কাশিমপুরে

চট্টগ্রাম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর দণ্ড কার্যকরের চিঠি পৌঁছেছে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। বেলা দেড়টার কিছু পর কারা কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ইকবাল হাসান এই চিঠি নিয়ে কাশিমপুর যান বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর ঢাকাটাইমস

তাহলে আজই কি ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে?-জানতে চাইলে কাশিমপুর কারাগারের জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, ‘আপনারা বুঝতেই পারছেন।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও আজ রাতের মধ্যেই মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের কথা জানিয়েছেন।

সকাল থেকেই কাশিমপুর কারাগারের আশেপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় দর্শণার্থী প্রবেশ। ডেকে পাঠানো হয় মীর কাসেমের পরিবারের সদস্যদের।

কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ডাক পেয়ে জামায়াত নেতার পরিবারের সদস্যরাও কাশিমপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হন দুপুরের আগেই। তার আগে জামায়াত নেতার মেয়ে সুমাইয়া রাবেয়া তার ফেসবুকে লিখেন, ‘আব্বুকে শেষ বারের মত দেখতে যাচ্ছি।’

সকালে কাশিমপুর কারাগারেই ফাঁসির মহড়া দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছে কারাগারের ভেতরের একাধিক সূত্র। নির্বাচন করা হয় জল্লাদদের। এসবই ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের লক্ষণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে এখন পর্যন্ত কার্যকর হওয়া পাঁচটি ফাঁসি কার্যকরের দিনও একই ঘটনাচিত্র ছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আশেপাশে। এবার পার্থক্য শুধু কারাগারের স্থানে। আগের পাঁচটি দণ্ডই কার্যকর হয়েছে নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। আর মীর কাসেম আলীর দণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে কাশিমপুরে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে এখন পর্যন্ত প্রতিটি ফাঁসির দণ্ডই কার্যকর হয়েছে রাতে। তবে মীর কাসেম আলীর দণ্ড কখন কার্যকর হবে, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ এখনও কিছু জানায়নি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামে নির্যাতনকেন্দ্র খুলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনকে হত্যার দায়ে মীর কাসেম আলীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড দেয়। এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন গত মঙ্গলবার নাকচ করে আপিল বিভাগ। আইন অনুযায়ী আপিল বিভাগের রায়ের পর মীর কাসেমের সামনে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করার সুযোগ ছিল। তবে তিনি সে সুযোগ নিতে চাননি।

আপিল বিভাগে রিভিউয়ের আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার পর দুইদিন সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখেন মীর কাসেম। তবে শুক্রবার কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, জামায়াত নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন না। এরপর থেকেই মীর কাসেমের দণ্ড কার্যকর কেবল সময়ের অপেক্ষা।

মতামত