টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্রযুক্তিতে আওয়ামী লীগের চেয়ে পিছিয়ে বিএনপি

চট্টগ্রাম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার ও ফেসবুকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে বিএনপি ও দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার দলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আইডি দুটির উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ সময় দলের নতুন ওয়েবসাইট ও ব্লগেরও উদ্বোধন করা হয়।

নিজের নামে টুইটার অ্যাকাউন্টে (BegumZiaBd) প্রথম টুইটে গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বাংলা ও ইংরেজিতে লিখেছেন, “প্রতিষ্ঠা দিবসের আহ্বান- আসুন আমরা স্বৈরশাসনকে পরাজিত করি, ঐক্যবদ্ধ হই, মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ি।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নতুন ওয়েবসাইট bnpbangladesh.com। এছাড়াও চালু করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধ্যমগুলোতে অ্যাকাউন্ট। এগুলো হলো- ফেইসবুকে facebook.com/bnp.communication, টুইটারে bnpbangladesh ও ব্লক bangladeshivoices.blogspot.com ।

বিএনপি সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে যুক্ত হলেও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অনেক আগ থেকেই সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়।

আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে (https://www.facebook.com/awamileague.1949) বর্তমানে লাইক দিয়েছেন প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ ব্যবহারকারী। পেজটি অনেক আগেই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ভেরিফাইড করেছে। আছে টুইটার অ্যাকাউন্টও।

শুধু তাই নয়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক পেজও বহু আগে ভেরিভাইড হয়েছে। জয়ের ফেসবুক পেজে লাইক সংখ্যা ২০ লাখের বেশি। তিনি ফেসবুকের পাশাপাশি টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমেও সক্রিয়। দেশের উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, বিশ্ব রাজনীতি ও দেশের বিভিন্ন জাতীয় প্রেক্ষাপটে নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে নিজের মতামত তুলে ধরেন জয়। যা তরুণ প্রজন্মের কাছে জয়কে বেশ জনপ্রিয় করে তুলেছে।

এছাড়া সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের, টেলি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আহমেদ পলক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনসহ অনেক নেতা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়। তারা নিয়মিত নিজেদের ও দলের কার্যক্রম এসব মাধ্যমে শেয়ার করেন। এর মাধ্যমে দল ও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল বলেন, “বিএনপিকে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নেয়ার আগে শেখ হাসিনার সরকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিৎ ছিল। কারণ, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাককালীন ১৯৯১ সালে বঙ্গোপসাগর দিয়ে ফাইবার অপটিক ক্যাবলে ফ্রি যুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু তথ্য পাচার হওয়ার ‘ভয়ে’ সেদিন খালেদা জিয়া তা গ্রহণ করেননি। ২৬ বছর পর খালেদা জিয়া তার ভুল বুঝতে পারছেন।”

অ্যাডভোকেট আফজাল বলেন, “বিএনপি এখন সামাজিক মাধ্যমে কী কার্যক্রম চালায় সেটা দেখার বিষয়। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ড চালালে সাইবার অপরাধে ব্যবস্থা নেয়া হবে তাদের বিরুদ্ধে। এখন সাইবার আইন আছে। যদিও তাদের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সামাজিক মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। নতুন করে তারা আবার কী করবে দেখা যাক।”

এদিকে বিএনপির ফেসবুক পেজে শুক্রবার সন্ধ্যায় দেখা যায়, লাইক সংখ্যা ৫৮ হাজরের কিছু বেশি। শুক্রবার বিকেলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্য ছবিসহ পেস্ট দেয়া হয়েছে। এছাড়া জিয়াউর রহমানের খেতাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এক মানববন্ধনের নিউজ ও ছবি পোস্ট করা হয়।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবারের সমাবেশের বেশ কিছু ছবি ও খবর পোস্ট দেয়া হয়েছে শুক্রবার সকালে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় তৎপরতা থাকলেও বাংলাদেশে সেই প্রবণতা এখনও চালু হয়নি।-নতুন বার্তা

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত