টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

৩ পার্বত্য জেলায় হরতাল রোববার

চট্টগ্রাম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  অনুষ্ঠিতব্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠকের প্রতিবাদে আগামী রোববার তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে স্থানীয় পাঁচটি বাঙালি সংগঠন।

সংগঠনগুলোর পক্ষে দেয়া এক প্রেস বার্তায় পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া এ হরতাল কর্মসূচির বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ওইদিন হরতালের পাশাপাশি রাঙামাটির পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য কমিশনের বৈঠকস্থলটিও ঘেরাও করে রাখা হবে।

এদিকে ভূমি কমিশনের আসন্ন বৈঠক ও তার প্রতিবাদে ডাকা হরতাল ঘিরে রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় জনমনে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।

প্রসঙ্গত,পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিকল্পে দ্রুত কাজ করার উদ্দেশে ১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় ভোটিং সাপেক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন-২০১৬’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে ৯ আগস্ট সংশোধিত আইনটির ওপর অধ্যাদেশ (নং-০১, ২০১৬) জারি করে সরকার। অধ্যাদেশ জারির কমিশনের প্রথম বৈঠক ৪ সেপ্টেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রাঙামাটির প্রধান কার্যালয় ভবনে আহ্বান করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের বৈঠক ৪ সেপ্টেম্বর রাঙামাটির পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে প্রয়োজনীয় যা করা দরকার তার সব পদেক্ষপ নেবে প্রশাসন।

বৈঠকের প্রতিবাদে পাঁচ বাঙালি সংগঠনের হরতাল ও ঘেরাও কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, যে কেউ যেকোনো দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে পারে। তবে সেটি যেনো গণতান্ত্রিকভাবে হয়। কেউ আইনশৃঙ্খলার বিনষ্ট করতে চাইলে তা যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করা হবে।

অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের প্রতিবাদে ওইদিন তিন পার্বত্য জেলায় ডাকা হরতাল বিষয়ে দেয়া প্রেসবার্তায় পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া বলেন, পার্বত্য জনগণের আন্দোলনকে উপেক্ষা করে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশিন আইন ২০০১ ও তার সংশোধনী ২০১৬ বাস্তবায়নের জন্য খুব তড়িঘড়ি করে ৪ আগস্ট বৈঠক ডেকেছে, যা বাঙালিদের আবেগের সঙ্গে এক ধরনের তামাশার শামিল।

তাই রুখতে ওইদিন পাঁচ বাঙালি সংগঠন তিনটি পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে। ওইদিন হরতালের পাশাপাশি বৈঠকের স্থল ঘেরাও করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক নয়। যে কারণে তারা এক চেটিয়া উপজাতীয়দের পক্ষে রায় দিয়ে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০১৬ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে যেখানে বাঙালিদের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধিও রাখা হয়নি। ভূমি কমিশন আইন সংস্করণের ফলে ১৯৭০-৮১ সালে যেসব বাঙালি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম গিয়ে বসবাস করছে তাদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে হবে।

এদিকে বৈঠকের দিন এর প্রতিবাদে পাঁচ বাঙালি সংগঠন হরতাল দেয়ায় রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শহীদুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সের্বাচ্চ পদক্ষেপ নেয়া হবে। হরতালের নামে কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতামত