টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

১১ ধাপ এগিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর

Chittagong-Portচট্টগ্রাম, ০২  সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  এক লাফে ১১ ধাপ এগিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর এখন বিশ্বের ৭৬তম অবস্থানে।

২০১৫ সালে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সংখ্যা হিসাব করে এই অবস্থান নির্ধারণ করেছে শিপিং-বিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো সংবাদমাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’। সম্প্রতি বিশ্বের ১০০টি বন্দরের তালিকা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

লয়েডস লিস্টের বছরভিত্তিক তালিকায় দেখা যায়, গত বছরের তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৮৭তম। এ হিসাবে এক লাফে ১১ ধাপ এগিয়েছে এ বন্দর। পাকিস্তানের করাচি বন্দরকেও ফেলে সামনে এগিয়েছে চট্টগ্রাম।

বিশ্ববাণিজ্যে ধীরগতির কারণে গত বছর অনেক বন্দরই কনটেইনার পরিবহনে ঋণাত্মক অবস্থায় ছিল। সেরার তালিকায় স্থান পাওয়া ১০০টি বন্দরের মধ্যে ৩৬টি বন্দরে কনটেইনার পরিবহন কমেছে। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম চট্টগ্রাম বন্দর। লয়েডস লিস্ট বলছে, বিশ্ববাণিজ্যে ধীরগতি সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২ মিলিয়ন একক কনটেইনার পরিবহন হয়েছে বন্দরটিতে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের পর্ষদ সদস্য জাফর আলম গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, কনটেইনার পরিবহনের হার বাড়তে থাকায় বন্দর এই স্থান অর্জন করে নিল। যেভাবে কনটেইনার পরিবহন বাড়ছে তাতে বন্দরের অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। এ জন্য ব্যাপক আকারে সম্প্রসারণের কাজে হাত দেওয়া হচ্ছে।

তালিকায় দেখা যায়, বাংলাদেশের মোংলা বন্দর বিশ্বের সেরা ১০০ বন্দরের তালিকায় নেই। এই বন্দরে বছরে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সংখ্যা অর্ধ লাখের কম। সমুদ্রপথে কনটেইনার পরিবহনের মাত্র ৩ শতাংশ আনা-নেওয়া হয় মোংলার মাধ্যমে। ৯৭ শতাংশই আনা-নেওয়া হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে।

বন্দরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে এই বন্দর দিয়ে কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয় ২০ লাখ ২৪ হাজার ২০৭ একক (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনার হিসাবে)। আগের বছরের চেয়ে কনটেইনার পরিবহন বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ একক কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। বছর শেষে তা ২৩-২৪ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও মেগা প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আনার কারণে কনটেইনার পরিবহনের হার দ্রুত বাড়ছে।

জানা গেছে, কনটেইনার পরিবহনের হার বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নির্দেশ করে। কারণ, রপ্তানি পণ্যের প্রায় পুরোটাই পরিবহন হয় কনটেইনারে করে। আবার কনটেইনারে আমদানি পণ্যের সিংহভাগই শিল্পের কাঁচামাল। পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বাড়ার কারণে বন্দরে কনটেইনার পরিবহনে অগ্রগতি হচ্ছে। কনটেইনার আমদানি-রপ্তানির বড় অংশই পোশাকশিল্পের কাঁচামাল এবং তৈরি পোশাক। এ ছাড়া ওষুধশিল্প, ইস্পাত কারখানাসহ অসংখ্য কারখানার কাঁচামাল আনা-নেওয়া হয় এই কনটেইনারে করেই।

বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কনটেইনারে আসা পণ্যের বেশির ভাগই পোশাকশিল্পের পণ্য। পোশাকশিল্প ছাড়াও কারখানার কাঁচামাল কনটেইনারে আনা হয়। একইভাবে রপ্তানি পণ্যের সিংহভাগই পোশাকশিল্পের। পণ্য পরিবহন যেভাবে বাড়ছে তাতে বে টার্মিনাল দ্রুত নির্মাণসহ সম্প্রসারণে না গেলে সমস্যায় পড়বে শিল্প খাতগুলো।

ওয়ার্ল্ড পোর্ট সোর্স ওয়েব পোর্টাল অনুযায়ী, বিশ্বে আনুমানিক ৪ হাজার সক্রিয় বন্দর রয়েছে। তবে নিয়মিত কনটেইনার ওঠানো নামানো হয় এমন বন্দর আছে ৫০০টি।

সেরা তালিকার এক নম্বরে চীনের সাংহাই। ২০১৫ সালে এই বন্দর দিয়ে পরিবহন হয় ৩ কোটি ৬৫ লাখ একক কনটেইনার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর বন্দর। সেরা ১০টি বন্দরের মধ্যে চীনের রয়েছে সাতটি বন্দর।-প্রথম আলো

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত