টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পল্লী রেশনিং, চালের কেজি ১০ টাকা

hচট্টগ্রাম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা খুব শীঘ্রই পল্লী রেশনিং চালু করতে যাচ্ছি। সেখানে হত-দরিদ্র এবং পঙ্গু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য এই পল্লী রেশনিং’এর ব্যবস্থা করবো। এই রেশন কার্ড যাদের হাতে থাকবে মাত্র ১০ টাকায় তারা চাল কিনতে পারবেন। সে সুযোগটা আমরা সৃষ্টি করে দিচ্ছি।’ শেখ হাসিনা আজ সকালে বিজিবি সদর দফতর পিলখানার ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে বিজিবি ‘সীমান্ত ব্যাংক’ উদ্বোধন প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। বাসস বাংলা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সীমান্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্য, তিনবাহিনী প্রধান, ঢাবি উপাচার্য’সহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মন্দার মধ্যেও আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ০৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্বের অনেক দেশই পারেনি। প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বের প্রথম ৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে। এই বিশাল আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আসলে কোন ম্যাজিক নয়। বরং তাঁর জনগণের প্রতি কর্তব্য নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং পরিকল্পনা মাফিক উন্নয়নের পদক্ষেপ বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

এরআগে প্রধানমন্ত্রী প্রথম গ্রাহক হিসেবে নব প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটিতে একটি একাউন্ট খোলেন। অনুষ্ঠানে সীমান্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোখলেসুর রহমান ব্যাংকটির ওপর একটি অডিও ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এতে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা প্রসূত এই বেসরকারি খাতের ব্যাংকটির যাত্রা শুরুর মাধমে বিজিবি সদস্যদের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হল। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভাব নাই। আজকে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাই শুধু আমরা নিশ্চিত করি নাই পঙ্গু, হত-দরিদ্র, প্রতিবন্ধীদের আমরা বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করে যাচ্ছি।

’৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সরকারের আমলটিকে স্বর্ণযুগ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫-এর পর থেকে যতগুলো সরকার এসেছে তারমধ্যে আমাদের ’৯৬ সালের আওয়ামী লীগের আমলটিকেই বলা যায় স্বর্ণযুগ। তিনি বলেন, এরপর ২০০১ থেকে পরবতী ৬টি বছর আমাদের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না, বাংলার মানুষের জন্য ছিল না। কারণ যে অগ্রযাত্রা আমরা ’৯৬ সালে শুরু করেছিলাম সে চাকা থেমে গিয়েছিল। ২০০৯ এ তারপর আবার যখন সরকার গঠন করি, আবার আমরা উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। আমাদের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দারিদ্র্যের হার ৫৭ ভাগ থেকে ২২ দশমিক ৪ ভাগে নেমে এসেছে। ২০২১ সালের মধ্যে এই হারকে আরো ৮-১০ ভাগ আমরা কমাতে চাই। তাহলে কেউ আর দরিদ্র বলে আমাদের কটাক্ষ করতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা পারবো। মন্দার মধ্যেও আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ০৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্বের অনেক দেশই পারেনি। প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বের প্রথম ৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে। এই বিশাল আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আসলে কোন ম্যাজিক নয়। বরং তাঁর জনগণের প্রতি কর্তব্য নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং পরিকল্পনা মাফিক উন্নয়নের পদক্ষেপ বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। ইতোমধ্যে ৫ কোটি লোক নিম্নবিত্ত থেকে নিম্নমধ্যবিত্তে উঠে এসেছে, জানান প্রধানমন্ত্রী। মাথাপিছু আয় ১৪শ’ ৬৬ ডলারে উন্নীত করাসহ বিশ্ব মন্দার মধ্যেও আমাদের পবৃদ্ধি ৭ দশমিক ০৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যা বিশ্বের অনেক দেশই পারেনি। প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বের প্রথম ৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে।’

তিনি বলেন, অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনারা এত দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন কিভাবে সম্ভব করেছেন ? ম্যাজিকটা কি ? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ম্যাজিক কিছুই না, এটা হল আমাদের আন্তরিকতা। দেশের প্রতি জনগণের প্রতি জনগণের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ সেই কর্তব্যবোধ থেকে আমরা যে কাজ করি এবং দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য যে সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি তার জন্যেই এই উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বিজিবি’র সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশীদার। আমি আশা করি, ‘আস্থা সীমাহীন’ এই মূলমন্ত্র ধারণ করে নবগঠিত সীমান্ত ব্যাংকের প্রত্যক কর্মকর্তা-কর্মচারি দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবে। ব্যাংকটিকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাড় করাবে। গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সমর্থ হবে। প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত ব্যাংকের উদ্বোধন এ বাহিনীর সকল সদস্যের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ঈদের বিশেষ উপহার বলেও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, এই ব্যাংক বিজিবি’র সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত