টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঝুঁকিতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু!

setoচট্টগ্রাম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের বাস্তব রূপ তৃতীয় কর্ণফুলী বা শাহ আমানত সেতু। গত ৬ বছর ধরে দক্ষিণের অর্থনীতিকে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে এটি। এই সেতু নির্মাণের ৬ বছর পূর্ণ হতে চললেও ওজন পরিমাপক যন্ত্র বসানো হয়নি। এতে প্রতিদিনই মাত্রাতিরিক্ত পণ্য নিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। আর এতে ঝুঁকির মুখে পড়ছে ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শাহ আমানত সেতু।

২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয় শাহ আমানত সেতু। শুরু থেকে ওই সেতুতে কম্পিটারাইজড পদ্ধতি চালু করে মালয়েশিয়ান বিশেষজ্ঞ দল। এর ৬ বছর পরও সেখানে এক্সেল লোড কন্ট্রোল বা ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করা হয়নি। ফলে নিয়ম বহির্ভুতভাবে প্রতিনিয়ত মাত্রাতিরিক্ত পণ্য নিয়ে এ সেতু পার হচ্ছে অনেক যানবাহন। ফলে সেতুটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর শাহ আমানত সেতুর পাশে ও ওপরে বেশকিছু ভারী মালবাহী ট্রাক রাখা হয়েছে। সেতুর কোনো পাশেই সিকিউরিটি গার্ড নেই। টোল আদায়কালে সেতুর ওপর মাঝে মধ্যে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হওয়ায় ইতোমধ্যে সেতুর বেশকিছু মূল্যবান যন্ত্র খোয়া গেছে। ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে যানবাহন করছে।

অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত পণ্য নিয়ে যান চলাচল করায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে প্রতি বছর এ সড়কের উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।

সেতু ব্যবস্থাপনা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের যৌথ অর্থায়নে ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৪০ দশমিক ২৪ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করে চীনের মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন। বাংলাদেশের প্রথম এক্সেটার ডোজ সেতু এটি।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ নাজমুল লতিফ জানান, শাহ আমানত সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলা, পার্বত্য জেলা বান্দরবান, পর্যটন নগরী কক্সবাজার, টেকনাফে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত হচ্ছে। ফলে ওই সব এলাকার অর্থনীতিতেও চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে। কোনো কারণে এ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে ওই সব এলাকা যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। পুরো দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্সের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে শাহ আমানত সেতু। আর কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে যানবাহন থেকে মাশুল আদায় করা হচ্ছে। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম। তিনি জানান, গত আড়াই বছরে সেতুর প্রবেশমুখে ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপনে কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।-arthosuchak

মতামত