টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

লাদেনের ঘনিষ্ঠদের একজন ছিলেন বাংলাদেশি: মনিরুল

চট্টগ্রাম, ৩১ আগস্ট ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): গত শতকের আশির দশকের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জঙ্গি নেতা ওসামা বিন লাদেনের জেহাদ ঘোষণার সময় বাংলাদেশেরও একজন তার সঙ্গে ছিলেন। তার নাম মাওলানা ফজলুর রহমান।

সকালে ঢাকামহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মত বিনিময়ে এ কথা জানান জঙ্গি দমনে পুলিশের বিশেষ শাখা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

তবে ফজলুর রহমানের নাম ছাড়া আর কোনো পরিচয় উল্লেখ করেননি মনিরুল। এই ফজলুর রহমানের বর্তমান অবস্থানও জানাননি তিনি। মনিরুল বলেন, ‘গত শতকের আশির দশকে আফগানিস্তানে জিহাদ করতে বেশ কিছু তরুণ বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিল। এই দশকের শেষ দিকে আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। তখন তার সঙ্গে চুক্তিতে যে কয়জন মাওলানা সই করেছিলেন তাদের মধ্যে একজন মাওলানা ফজলুর রহমান বাংলাদেশি ছিলেন।’

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলায় ওসামা বিন লাদেনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে। এরপর তাকে ধরতে আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। আর আল কায়দা নেতা ওসামাও মার্কিন স্বার্থের ওপর পাল্টা হামলা করতে তার অনুসারীদের নির্দেশ দেন।

আফগানিস্তানে অভিযান শুরুর প্রায় ১০ বছরের মাথায় ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন কমান্ডোদের হামলায় লাদেনকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর আল কায়দা দুর্বল হয়ে যায় বলেই ধারণা করা হয়। তবে এই গোষ্ঠী দুর্বল হলেও আল কায়দার সদস্যরা পরে অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বিভিন্ন সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত দুই সংগঠন

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত দুই গোষ্ঠী নিউ জেএমবি ও আনসারউল্লাহ বাংলাটিম পরস্পরের সহযোগী বলেও জানান মনিরুল। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের শেষ দিকে দিকে আনসারউল্লাহ অর্থসংকটে পড়লে নিউ জেএমবির শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরী তাদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। এরপর আনসারউল্লাহকে অস্ত্রও সরবরাহ করেন তামিম।

২০১১ সালের দিকে রাজধানীর একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক জসীমউদ্দীন রাহমানী আনসারউল্লাহ বাংলাটিম গঠন করেন। আর নিউ জেএমবির প্রধান তামিম চৌধুরী ২০১৩ সালের দিকে কানাডা থেকে বাংলাদেশে আসেন। এই তামিম চৌধুরীকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম বাংলাদেশে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এই তামিম চৌধুরীকেই সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতার মূল হোতা বলছে পুলিশ। গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা এবং ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতের অদূরে পুলিশের ওপর হামলায় নাটের গুরু বলছে সরকার। গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে তামিমসহ তিন জন নিহত হন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, উত্তরবঙ্গে একটি ক্যাম্প তৈরি করে নিউ জেএমবির সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা জঙ্গি সংগঠন জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমানসহ ছয় জঙ্গির ফাঁসি কার্যকরের পর মাওলানা সাইদুল রহমানের নেতৃত্বে জেএমবি পুনর্গঠন হয়। এর একটি অংশ ভারতে পালিয়ে গিয়ে আলাদাভাবে তৎপরতা শুরু করে। তারাই ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশ ভ্যানে হামলা করে ফাঁসির আসামি জেএমবি নেতাদের ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এরপর ২০১২ সালে জেএমবি আবার সক্রিয় হতে শুরু করে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত