টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে হাসপাতালে লাশ রেখেই পালিয়ে গেল দেবর-ভাশুর

ফটিকছড়িতে বিষপানে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

fatickchari(moni-akther)-deচট্টগ্রাম, ৩০ আগস্ট ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  ফটিকছড়িতে বিষপানে মনি আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। তিনি উপজেলার ধুরুং গ্রামের(মুনাফখীল মাদ্রসার পশ্চিম পাশে) কাশেম মেম্বার বাড়ীর ওমান প্রবাসী জানে আলমের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোবরার বিকেল পাঁচটার দিকে নিজ গৃহে বিষপান করে আত্মহত্যা করে মনি আক্তার।

তবে, নিহতের মা নাছিমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘র্দীঘদিন ধরে শ্বশুড় বাড়ীর স্বজনেরা তার মেয়ের উপর অত্যাচার নিপীড়ন চালাচ্ছিল। শেষমেষ তারা (স্বামী, দেবর, ভাশুর, শ্বাশুড়ী) তার মেয়েকে বিষপানে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে।

বিষপান করার পর তারা মেয়েকে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এ নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসককে তারা (দেবর ও ভাশুর) আমার মেয়েকে বেওয়ারিশ লাশ পরিচয় দিয়ে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। পরে আমরা গিয়ে ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ নিয়ে এসে বাপের বাড়িতে দাফন-কাপনের ব্যবস্থা করি।’

জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার এস. আই রিতেশ বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে বেওয়ারিশ লাশের খবর পেয়ে আমরা লাশের অনুসন্ধান করি। পরে ফটিকছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) বরাবর বিষয়টি জানালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা মেয়ে পক্ষের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে।’

নিহত মনি আক্তারের ভাই রফিক (৩০) বলেন, ‘সর্বশেষ রোববার বিকেল ৩ টায় মুঠোফোনে বোনের সাথে কথা হয়। শ্বশুড় বাড়ীর লোকেদের অত্যাচারে সে খুব কষ্টের মধ্যে দিনানতিপাত করছে বলে জানাই। এও জানায়, যে তার ২-৩ দিন যাবৎ অনাহার-অর্ধাহারে কেটেছে। আমি বিকালের দিকে তার জন্য ভাত নিয়ে যাওয়ানর প্রস্তুতি নিই। যাওয়ার আগেই শুনি সে বিষপান করেছে।’

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আট বছর আগে পার্শ¦বর্ত্তী এলাকার জানে আলমের সাথে নিহত মনি আক্তারের বিয়ে হয়। সংসারে তাদের সাত বছরের এক ছেলে ও চার বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

অপরদিকে ঘটনার পরদিন সোমবার লাশ না এনেই ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান দেবর-ভাশুর, শ্বাশুড়িসহ পরিবারের সবাই। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ‘ঘরের মূল দরজাসহ সবকটি দরজায় ঝুলে রয়েছে থালা। কথা হলে পার্শ্ববর্ত্তী বাসিন্দারা জানায়, তারা থালা বদ্ধ করে কোথাও চলে যায়।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে প্রবাসে নিহতের স্বামী জানে আলমের সাথে কয়েক দাফায় যোগোযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মতামত