টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই মিলবে পাসপোর্ট

workচট্টগ্রাম, ৩০ আগস্ট ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের ভোগান্তির এক অন্যতম কারণ পুলিশ প্রতিবেদন। যাচাই বাছাইয়ের নামে পুলিশ পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের কাছ থেকে ঘুষ নেয় বলে অভিযোগ আছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরে গণশুনানিতে এই অভিযোগ উঠার পর মহাপরিচালক মাসুদ রেজওয়ান জানান, এই পুলিশ ভেরিফিকেশন পদ্ধতিই তুলে দিচ্ছেন তারা। পাসপোর্টের মেয়াদ পাঁচ বছরের বদলে ১০ বছর হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সকালে অধিদপ্তরে গণশুনানিতে ভুক্তভোগীরা হয়রানি ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। এগুলো শুনে লজ্জা পাওয়ার কথা জানান মহাপরিচালক মাসুদ রেজওয়ান। বলেন, ‘আজকের গণশুনানিতে দুর্নীর চিত্র ফুটে এসেছে। এজন্য আমি নিজেই লজ্জিত’।

মহাপরিচালক জানান, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও ছবিতে সত্যায়িত পদ্ধতি তুলে দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি এসেছে। অধিদপ্তরও মনে করে এটা করলে জনগণের ভোগান্তি কমবে।

শুনানিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিবুল হক জানান, নতুন পদ্ধতি চালুর বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এই পদ্ধতি চালু হলে জনগণের হয়রানি কমবে।

শুনানিতে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু, নবায়ন, সংশোধন, ডেলিভারি, বিদেশি নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি, নামের ভুল, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে হয়রানি, শরণার্থীদের আইডি কার্ড ইস্যু, অ্যারাইভাল ভিসা ইস্যু ইত্যাদি ক্ষেত্রে দুর্নীতি, হয়রানির বিষয় তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা।

এসব অভিযোগের কিছুই অস্বীকার করেননি মহাপরিচালক। বরং ব্যবস্থা নিয়ে এই চিত্র পাল্টে দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। বলেন, ‘কোন দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেয়া হবে না।’ বলেন ‘প্রতিটি পাসর্পোট অফিসে মুক্তিযোদ্ধা, সিনিয়র নাগরিক এবং অসুস্তু রোগীদের আলাদা বসার স্থান নির্ধারণ থাকবে। সেবা বৃদ্ধি করতে নিজস্ব বাহিনী গড়া হবে।’

ডিজি বলেন, ‘অফিসকে দুনীতি মুক্ত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন এবং ছবিতে সত্যায়িত করার পদ্ধতি আর থাকবে না। অনলাইনেই ফরম পূরণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সাতদিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘কেউ কোন ভুল তথ্য দিলে তা পাসপোর্ট পেতে অনেক সমস্যা হবে।’

দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দেশব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধ অভিযানের অংশ হিসেবেই দুদক গণশুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কাউকে ধরপাকড় করা নয়, জনগণ নাগরিক সনদ অনুযায়ী সেবা পাচ্ছে কি না, তা যাচাই করা এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মানুষের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাই গণশুনানির উদ্দেশ্য।’

মতামত