টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জাতির আশা পূর্ণ হয়েছে: মাহবুবে আলম

চট্টগ্রাম, ৩০ আগস্ট ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় বহাল থাকায় ‘সন্তোষ’ প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মাহবুবে আলম বলেন, যে আশা নিয়ে সমগ্র জাতি ছিল এবং আমি ছিলাম, আজ তা পূর্ণ হয়েছে। আমি সন্তুষ্ট।

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ মজলিশে শুরা সদস‌্য মীর কাসেম আলীকে মানবতাবিরোধী দুই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৮ মার্চ আপিলের রায়ে এক অভিযোগে কাসেম খালাস পেলেও অন‌্যটিতে সর্বোচ্চ সাজাই বহাল থাকে।

ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন প্রধান বিচারপতি এস.কে. সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার খারিজ করে দেওয়ায় এখন কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ থাকল একাত্তরের বদর নেতার সামনে। এ বিষয়ে অ‌্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মীর কাসেম আলী যদি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চায় তাহলে আলাদা কথা। না হলে সরকার যখন চাইবে, তখনই রায় কার্যকর হবে।

প্রসিকিউশনের আনা ১৪টি অভিযোগের মধ‌্যে ১১ ও ১২ নম্বর ঘটনায় ট্রাইব‌্যুনাল কাসেমকে মৃত‌্যুদণ্ড দিলেও ১২ নম্বরে আপিল বিভাগে খালাস পান তিনি। এ প্রসঙ্গে মাহবুবে আলম বলেন, প্রসিকিউশন যদি মামলাটা ঠিকমত পরিচালনা করত, তাহলে ১২ নম্বর চার্জেও মৃত‌্যুদণ্ড বহাল থাকত।

আপিল বিভাগে এ মামলার শুনানির সময় প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি এস.কে. সিনহা। রিভিউ শুনানিতে তিনি বলেন, ট্রাইব‌্যুনালে মীর কাসেমের মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে যারা যুক্ত ছিলেন এবং যিনি তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন (প্রধান প্রসিকিউটর), তাদের ওই দায়িত্বে থাকা ‘উচিত নয়’।

রিভিউ রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন, রায়ের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত রায় হয়েছে। উই আর হ্যাপি।

এ মামলার অন‌্যতম প্রসিকিউটর তুরীন আফরোজ বলেন, ন্যায় বিচার পেয়েছি। সত্য সূর্যের মতো ধ্রুব।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চট্টগ্রামের ত্রাস কাসেম রাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে অসাধারণ ধূর্ততার স্বাক্ষর রেখে অত‌্যন্ত দ্রুততায় নিজের ও দলের উন্নতি ঘটান, পরিণত হন জামায়াতের আর্থিক মেরুদণ্ডে। বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের কনডেম সেলে আছেন তিনি।

এখন পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত