টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্রেম করে বিয়ে! অতপর প্রিয় মানুষটিই খুন করে প্রমিকা স্ত্রীকে

চট্টগ্রাম, ২৮  আগস্ট ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: প্রেমের বিয়ে। ভালবেসে বিয়ের মাত্র তিন বছরের মাথায় ছেদ পড়লো সেই ভালোবাসায়। সাংসারিক টানাপোড়েনের চাপে প্রিয় মানুষটির হাতেই প্রাণ গেল খাদিজার। খুন করার পর স্বামী আনারুল চেষ্টা করেছিল এটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর। পরে পুলিশি জেরার মুখে সত্যিটা বেরিয়ে আসে।

শনিবার ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আনারুল। তাদের তিনমাসের একটা ছেলে সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় খাদিজার বড় ভাই মো. কাশেম সৈকত বাদি হয়ে বায়েজিদ থানায় একটি মামলা করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, গাইবান্ধা জেলার কিষামুল ধর্মপুর এলাকার মো. আমির হোসেনের পুত্র আনারুল। পেশায় ট্রাক চালকের সহকারী। তিন বছর আগে প্রেম করে খাদিজা আক্তারকে বিয়ে করে আনারুল। বাবা ও মাসহ স্ত্রীকে নিয়ে বায়েজিদ থানা এলাকার মোজাফফর নগর এলাকায় থাকছিল সে। তিন মাস আগে পুত্র সন্তানের মা হওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী খাদিজা তাকে আলাদা বাসা নিতে তাগাদা দিয়ে আসছিল। কিন্তু দুটো বাসা চালানোর সামর্থ্য ছিল না আনারুলের। ফলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহম্মদ মোহসিন জানান, গত ২৬ আগস্ট বেলা ১২টার দিকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আনারুল ক্ষুব্ধ হয়ে তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ সময় আনারুলের মা-বাবা বাসায় ছিলেন না। তারা ইট ভাঙার শ্রমিক হিসেবে কাজে গিয়েছিলেন। দুপুরে আনারুল খাদিজার ছোট বোন রিয়া মণিকে ফোন করে জানায় খাদিজা মাথা ঘুরে পড়ে গেছে, তাকে সাউদার্ন মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খাদিজার ভাই-বোনেরা হাসপাতালে গিয়ে দেখে খাদিজা সেখানে নেই, তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে তারা খাদিজাকে মৃত অবস্থায় পান। এসময় খাদিজার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে এবং আনারুলের কথায় সন্দেহ হলে তারা বায়েজিদ থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ আনারুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে প্রথমে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করে। এক পর্যায়ে পুরো ঘটনা স্বীকার করে সে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত