টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চুরি করতে দেখে ফেলায় খুন হন হোসনেয়ারা

মিরসরাইয়ে গৃহবধূ হত্যাকান্ড: ‘গলায় ছুরি চালায় ভাসুরপুত্র মুখ ও পা চেপে ধরে দেবর’

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

Mirsarai-Muder-Photoচট্টগ্রাম, ২৭  আগস্ট ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::মিরসরাইয়ের গৃহবধূ হোসনেয়ারাকে খুন করেছে চাচাতো দেবর আমজাদ হোসেন ওরফে মিয়া ও ভাসুরপুত্র মোশারফ হোসেন। আটক হওয়া এই দুজন পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে।

এদিকে নিহত গৃহবধূর ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে মিরসরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম পিপিএম জানান, ‘চট্টগ্রাম সিনিয়র চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট হোসেন মোহাম্মদ রেজার আদালতে মামলার প্রধান আসামী মোশাররফ খুনের ঘটনা বর্ণনা করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত উভয় আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার আগের দিন গত বুধবার (২৪ আগস্ট) নিহত গৃহবধূর স্বামী জহির উদ্দিন সৌদি আরব থেকে স্বর্ণালংকারসহ কিছু মালামাল ও অর্থ পাঠায়। প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করতে গিয়েই মূলত খুনের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশী মিয়াকে (সম্পর্কে গৃহবধূর চাচাতো দেবর) নিয়ে চুরির পরিকল্পনা করে ভাসুরের পুত্র মোশাররফ। চুরির ঘটনা টের পেয়ে যাওয়ায় হাত পা চেপে ধরে মিয়া এবং মুখ চেপে ধরে গলায় ছুরি চালায় মোশাররফ। এরপর কয়েক মিনিট সময়ের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুবরণ করে গৃহবধূ হোসনেয়ারা।

ঘটনার পরদিন আটক হওয়া মিয়া এবং মোশাররফ পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে দাবী করে মিরসরাই থানার ওসি ইমতিয়াজ এমএকে ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতিবেশী চাচা মিয়াকে নিয়ে নিজের আপন চাচির ঘরে স্বর্ণালংকার ও অর্থ চুরির পরিকল্পনা করে মোশাররফ। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাত ১২টা নাগাদ চাচির পাশের রুমে শুয়ে পড়ে সে। রাত দেড়টার দিকে ঘরের ভেতর থেকে মিয়াকে দরজা খুলে দেয় মোশাররফ। এরপর দু’জন মিলে বালিশের নিচে থাকা চাবি নিয়ে আলমিরা খুলে চুরি করতে গেলে হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে ওঠে গৃহবধূ হোসনেয়ারা। এসময় মোশাররফ ঘরের ফ্রিজের ওপর থাকা ছুরি নিয়ে চাচির ওপর হামলে পড়ে মুখ চেপে ধরে। তাৎক্ষণিক হাত ও পা চেপে ধরে মিয়া। এরপর ঘটনা জানাজানি হয়ে যাবার ভয়ে মোশাররফ অকপটে গলায় ছুরি চালিয়ে দেয়। দুই তিন মিনিটের মধ্যে হোসনেয়ারা নিস্তেজ হয়ে পড়লে তার কানের দুল, আংটি ও বালা লুট করে নেয়। পরে লুট করা স্বর্ণালংকার নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায় মিয়া। মোশাররফ ঘুমিয়ে পড়ে তার নিজের ঘরে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম পিপিএম জানান, ‘ঘটনার রাত শেষে সকালে (বৃস্পতিবার) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উৎসুক জনতা, পরিবারের লোকজন ও বাড়ির অন্যান্য প্রতিবেশীদের সাথে মিয়াকে দেখতে না পেয়ে সন্দেহ জাগে। পরে বাড়ির পাশের একটি বাঁশ ঝাড় থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারসহ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেয়া প্রাথমিক স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মোশাররফকেও ওইদিন আটক করা হয়।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে মিরসরাইয়ের খৈয়াছরা ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামের আবুল কালাম ড্রাইভারের বাড়িতে শোবার ঘরে খুন হন বাড়ির গৃহবধূ হোসনেয়ারা বেগম। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে। একই সময় হত্যায় জড়িত সন্দেহে নিহত গৃহবধূর দেবর মিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরে মিয়া’র দেয়া তথ্য অনুযায়ী আটক করা হয় ভাসুরের পুত্র মোশাররফকে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত