টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঈদের আগেই সুবর্ণ আসছে নতুন রূপে

চট্টগ্রাম, ২৬  আগস্ট ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: আসন্ন কোরবানির ঈদে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে লাল-সবুজ বগি নিয়ে নতুন সাজে নামছে বিরতিহীন ট্রেন সূবর্ণ এক্সপ্রেস। সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের মতো লাল-সবুজের এ বগিতেও থাকবে যাত্রীদের জন্য বাড়তি সুবিধা। এই ট্রেনও চলবে ১৬টি কোচ নিয়ে। সুবর্ণ এক্সপ্রেস প্রতিদিন যে সময় ও গতি নিয়ে চলত তা ঠিক থাকবে।

সুবর্ণ এক্সপ্রেসের পর চট্টগ্রাম-ঢাকা রেলপথে দ্বিতীয় বিরতিহীন ট্রেন হচ্ছে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। যার যাত্রা শুরু হয় গত ২৬ জুন। ট্রেনটি ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা বিলাসবহুল বগি দিয়ে চালানো হয় এই ট্রেনটি।

এই ট্রেন চালুর আগে দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ট্রেন ছিল সুবর্ণ। এই ট্রেনটিকেও নতুন রূপে সাজিয়ে সোনার বাংলার সমান সুযোগ সুবিধা রাখতে চাইলে রেলওয়ে। সুবর্ণতেও খাবার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোনার বাংলার টিকিটের সঙ্গে ১৯৫ টাকা খাবার বিল হিসেবে নেয়া হয়। নতুন রূপে আসলে সুবর্ণের যাত্রীদেরকেও এই টাকা দিতে হবে। খাবারের তুলনায় এই বিল বেশি বলে অভিযোগ আছে। তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক তফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘দাম অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ একটু কম হলেও পর্যটন করপোরেশনের দেয়া এই খাবারের মান আনেক ভালো।’

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশেনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস চালুর পর যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ৭৩৬ আসনের ধারণক্ষমতার এই ট্রেন সর্বনিম্ম চারশ যাত্রী নিয়ে চলাচলের পরও লোকসান গুনতে হয়নি। তাছাড়া এ ট্রেনের যাত্রীরাও সন্তুষ্ট।’

ট্রেনে যা থাকছে: রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ব্যবস্থাপক আবদুল হাই জানান, ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের মতো সূবর্ণ এক্সপ্রেসও ১৬টি বগি নিয়ে চলবে। আর সুবর্ণ এক্সপ্রেসের কোচগুলো সংযোজন হবে সিলেটগামী পারাবতে এক্সপ্রেসে।’ তিনি জানান, সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের মতো এতেও ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা লাল-সবুজের কোচ সংযোজন করা হবে। ৫৫ আসনের প্রতিটি কোচের মধ্যে সাতটি নন এসি বার্থ, চারটি এসি চেয়ার, দুইটি এসি কেবিন, দুটি খাবার গাড়ি ও একটি পাওয়ার কার থাকবে। এসব কোচ পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোন নির্দেশনা পাননি বলে জানান পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান। তবে তা ইদুল আজহার আগেই যাত্রী পরিবহন শুরু করবে বলে জানান তিনি।

মিজানুর রহমান বলেন, একে একে সব ট্রেনই সাজবে লাল সবুজের নতুন কোচে। পর্যায়ক্রমে ইন্দোনেশিয়া থেকে আরো ট্রেন আসবে। ৯০ দশকের শেষদিকে চালু হওয়া বিরতিহীন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ইন্দোনেশিয়ান কোচ দিয়ে সোনার বাংলার মতোই হয়ে যাবে।

পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ তত্ত্বাবধায়ক বলেন, সুবর্ণ এক্সপ্রেস দিয়ে সোনার বাংলার ১৬টি কোচসহ ২১টি কোচের লোড ট্রায়াল ইতোমধ্যে সফলভাবে স¤পন্ন হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার, ওয়াকর্শপে কর্মরত প্রকৌশলী, ট্রাফিক, সিগন্যাল ও রেলের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মকর্তারা কোচগুলোর টেকনিক্যাল ফিটনেস চেক করেছেন।

রেল কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা ৩৮টি নতুন কোচ কারখানায় আছে। আরও কোচ আসবে। যেগুলো পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ট্রেনে যোগ করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে কোচ সংযোজনে প্রধান্য পাবে সিলেটের পারাবত ও জয়ন্তিকা এবং কালনী এক্সপ্রেস। সিলেট রুটে পুরো একটি এসি ট্রেন দেয়ার ব্যাপারেও কথা চলছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত