টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের কাজ শুরু

wayচট্টগ্রাম, ২৫ আগস্ট ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রামে বহুল প্রতীক্ষিত এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের নির্মাণ কাজ আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই শুরু হতে যাচ্ছে। একই সময়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের নির্মাণ কাজও শুরু হবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সম্প্রতি এই দুই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, তিন ধাপে সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণে মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। কাটগড় থেকে নগরীর আগ্রাবাদের বারিক বিল্ডিং, বারিক বিল্ডিং থেকে লালখান বাজার এবং লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত তিনভাগে প্রকল্পের কাজ করা হবে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবে সিডিএ।

এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়েতে ওঠা-নামার জন্য ৯টি স্থানে এন্ট্রি ও এক্সিট র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে। সাড়ে পাঁচ মিটার প্রস্থের এ নয়টি র‌্যাম্পের মোট দৈর্ঘ্য হবে ১২ কিলোমিটার। কাটগড়, সিমেন্ট ক্রসিং, নিমতলা, কাস্টমস, সিইপিজেড, কোরিয়ান ইপিজেড, বারিক বিল্ডিং, আগ্রাবাদ, টাইগারপাস ও লালখান বাজার মোড়ে ওঠা-নামার সংযোগ স্থাপন করা হবে।

এর মধ্যে বন্দর এলাকার যানজট কমানোর লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথম দফায় বারিক বিল্ডিং থেকে কাটগড় পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার অংশের নির্মাণ কাজ করা হবে। এ অংশে সিইপিজেড, কোরিয়ান ইপিজেড ও কাস্টমস এলাকায় গাড়ি ওঠানামার জন্য র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের বারিক বিল্ডিং থেকে কাটগড় পর্যন্ত অংশের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারটি এই এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।

গত ৩০ জানুয়ারী নগরীর লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় চট্টগ্রাম বন্দরের অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্যয় সরকারই বহন করবে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘মুরাদপুর, ২ নম্বর গেইট ও জিইসি জংশনে নির্মাণাধীন উড়াল সড়ককে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণ’ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বন্দরের গত পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং আগামী ১০ বছরের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের একটি ধারণা উপস্থাপন করা হয় ওই সভায়। বন্দরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণে বন্দর কর্তৃপক্ষের সঞ্চিত অর্থ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত হয়।

অন্যদিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের নকশাতেও বড় পরিবর্তন করা হচ্ছে। এটি লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত করার কথা থাকলেও নতুন নকশায় বিমানবন্দরের সাড়ে ৩ কিলোমিটার আগেই থেমে যাবে এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে।

এদিকে ১৯৯৫ সালে প্রণীত মাস্টার প্ল্যানে সিরাজদ্দৌলা রোডের চন্দনপুরা মসজিদের বিপরীত পাশের গলি দিয়ে ডিসি রোড ক্রস করে বগার বিল হয়ে বাকলিয়া থানার পাশ দিয়ে বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সংযোগ সেতু পর্যন্ত এক্সেস সড়ক নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ওই পরিকল্পনার ২০ বছর পার হলেও এর বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চার লেন এক্সেস রোডের নির্মাণ কাজ শুরু করতে যাচ্ছে সিডিএ। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০৬ কোটি টাকা।

প্রকল্পগুলো প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম জানান, চট্টগ্রাম নগরীকে যানজট মুক্ত ও বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা শেষে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে কাজ শুরুর চিন্তা আছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ হলে বন্দর, সিইপিজেড ও কোরিয়ান ইপিজেডের দীর্ঘ যানজটসহ বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের যানজটের ভোগান্তি কমে আসবে। পাশাপাশি বাকলিয়া এক্সেস রোডের কাজ শেষ হলে বন্দরের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সরাসরি সংযোগ হবে।

এক্সপ্রেস ওয়ের নির্মাণের ক্ষেত্রে বন্দরের গুরুত্বের বিষয়টি মাথায় রেখে কাটগড় থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত অংশকে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান সিডিএ চেয়ারম্যান।

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের প্রধান সড়কে এই এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ হলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। অন্যদিকে সরকার গৃহিত ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার’ অর্থনৈতিক করিডোরের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নেও এই প্রকল্প কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।-অর্থসূচক

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত